মাদকসেবিদের জানাজা ও সৎকার থেকে বঞ্চিত করার দাবি সুজনের

চট্টগ্রাম : মাদক সেবক এবং কারবারীদের বিরুদ্ধে সামাজিক প্রতিরোধ গড়ে তোলার আহ্বান জানিয়েছেন ‘জনতার ঐক্য চাই’ শীর্ষক নাগরিক উদ্যোগ-এর প্রধান উপদেষ্টা ও চট্টগ্রাম মহানগর আওয়ামী লীগের সহ-সভাপতি খোরশেদ আলম সুজন।

তিনি বৃহস্পবিবার (২৫ অক্টোবর) বিকাল ৪ টায় সল্টগোলা রেলক্রসিংস্থ আজাদ কলোনীতে মাদক সেবক এবং কারবারীদের বিরুদ্ধে জনসচেতনতা বিষয়ে এক মতবিনিময় সভায় এ আহ্বান জানান।

এ সময় জনাব সুজন বলেন, মাদকাসক্তব্যক্তিরা পরিবার, সমাজ ও রাষ্ট্রকে ধ্বংসের মুখে ঠেলে দেয়। তাদেরকে ভালো ব্যবহারের মাধ্যমে সৎ পথে ফিরিয়ে নিয়ে আসা আমাদের সকলের দায়িত্ব। যদি মাদকের কুপ্রভাব সম্পর্কে বুঝিয়ে ফিরিয়ে আনা না যায় তাহলে তাদের সামাজিকভাবে বয়কট করতে হবে। তাদের সামাজিক অনুষ্ঠান বর্জন করতে হবে। প্রয়োজনে জানাজা ও সৎকার থেকে বঞ্চিত করতে হবে। তাদের অপরাধমূলক কর্মকান্ডের কারণে এলাকার লোকজন শান্তিতে বসবাস করতে পারছে না। তারা বিভিন্ন অপকর্মের মাধ্যমে জনজীবনে ত্রাস সৃষ্টি করেছে। এ সমস্ত অবৈধ কর্মকান্ডকে প্রতিহত করে সুন্দর আগামী বিনির্মাণের দৃঢ়প্রত্যয় নিয়ে সবাইকে এগিয়ে আসতে হবে। তিনি আরো বলেন, সমাজে অনেক প্রতিষ্ঠিত এবং প্রভাবশালী মানুষ মাদক ব্যবসার সাথে জড়িত। সম্প্রতি খুলশীর একটি অভিজাত বাড়ি থেকে বিশাল একটি মাদকের চালান আইনশৃংখলা বাহিনী আটক করেছে বলে আমরা জানতে পেরেছি। কিন্তু দুঃখজনক ভাবে সমাজের কাছে তাদের মুখোশ উম্মোচিত হওয়ার আগেই তারা ধরা ছোয়ার বাহিরে চলে গিয়েছে। তিনি আইনশৃংখলা বাহিনীর কাছে এসব মাদক কারবারীর মুখোশ উম্মোচন করার আহ্বান জানিয়ে বলেন, এসব প্রভাবশালী ব্যক্তিরা বিভিন্ন পরিচয়ের আড়ালে সমাজকর্মী হিসেবে যদি নিজেদের জাহির করে তাহলে তাদের হাতে সমাজের মানুষ প্রতারিত হওয়ার আশংকা রয়েছে। তিনি এক সপ্তাহের মধ্যে আজাদ কলোনী এলাকা থেকে মাদকসেবক এবং কারবারিদের ত্যাগ করার আহ্বান জানিয়ে বলেন নচেৎ সাধারণ জনগণ এবং প্রশাসনকে সাথে নিয়ে মাদক সেবক এবং কারবারীদের আজাদ কলোনী এলাকা থেকে বিতাড়িত করা হবে। তবে মাদকের বিরুদ্ধে অভিযানের নামে কোনো নিরীহ মানুষকে যাতে আইনশৃংখলা বাহিনী হয়রানি না করে সেজন্য সজাগ দৃষ্টি রাখার জন্য তিনি আইনশৃংখলা বাহিনীর নিকট আহ্বান জানান।

স্থানীয় সমাজসেবক ও অধ্যক্ষ মোঃ কামরুল হোসেন এর সভাপতিত্বে অন্যান্যদের মধ্যে বক্তব্য রাখেন বন্দর থানা আওয়ামী লীগের সভাপতি সাবেক কমিশনার নুরুল আলম, বন্দর থানা আওয়ামী লীগের ভারপ্রাপ্ত সাধারণ সম্পাদক হাজী মোঃ ইলিয়াছ, রাজনীতিবিদ সালাউদ্দিন বাদশা, সরওয়ার জাহান চৌধুরী, নগর যুবলীগ নেতা সমীর মহাজন লিটন, কেন্দ্রীয় স্বেচ্ছাসেবকলীগ সদস্য সাইফুল্লাহ আনসারী, মহানগর ছাত্রলীগের সভাপতি এম. ইমরান আহমেদ ইমু, সহ-সভাপতি জয়নাল উদ্দিন জাহেদ, মোঃ আনোয়ার, ইদ্রিস আলম, সাজ্জাদ হোসেন মনু, আশীষ সরকার, সাদ্দাম হোসেন, মোঃ আলভী, মোঃ পারভেজ, মোঃ হাসান, মোঃ রাব্বী প্রমুখ।

একুশে/প্রেসবিজ্ঞপ্তি