স্কোরঃ বাংলাদেশ-১০৭/১ ওভারঃ ১৬
রাকীব হামিদ, জহুর আহমেদ চৌধুরী স্টেডিয়াম থেকেঃ সৌম্য-ইমরুলের ঝড়ো ইনিংসে শত রান করলো বাংলাদেশ। জিম্বাবুয়ের বিপক্ষে তিন ম্যাচ সিরিজের শেষ ওয়ানডতে বর্তমানে জয়ের লক্ষ্যে লড়ছে টাইগাররা। এর আগে ৪২ বলে ৫১ রান করে ব্যাক্তিগত ফিফটি করেন ইমরুল কায়েস। ৮ টি চার হাঁকিয়ে এই রানের পুঁজি। এর আগে গত ম্যাচে সেঞ্চুরী থেকে মাত্র ১০ রান দূর থাকতেই আউট হতে হয় এই বাংলাদেশ দলের এই ওপেনারকে। খুলনা থেকে জাতীয় দলে এসে যোগ দিয়তে সিরিজের প্রথম ম্যাচে সুযোগ পেয়েই দুর্দান্ত খেলছেন সৌম্য সরকার। অলরাউন্ডার সৌম্য ৫ টি বাউন্ডারিতে করেছেন ৪১ রান।
বাউন্ডারি ঝড়ে বাংলাদেশের ফিফটি
জিম্বাবুয়ের বিপক্ষে ও্যান ডে সিরিজের ৩য় ম্যাচে শুরুতে হোঁচট খেলেও ঘুরে দাঁড়িয়েছে বাংলাদেশ। সৌম্য ও ইমরুলের চার ছক্কার বন্যায় ৪১ বলে দলীয় রান অর্ধ-শত পূর্ণ করলো। এর মধ্যে ৬ টি চার মেরে ইমরুল কায়েস করেছেন ৩৩ ও তিনটি চারে সৌম্যের সংগ্রহ ২৬ রান।
ব্যাটিংয়ে নেমে শুরুতেই হোঁচট খেল বাংলাদেশ
২৮৭ রানের টার্গেট তাড়া করতে নেমে শুরুতেই হোঁচট খেল বাংলাদেশ। ইনিংসের প্রথম ওভারের প্রথম বলের লেগ বিফোর উইকেটের ফাঁদে পড়ে শূন্য রানে মাঠ ছাড়তে হয়। এর আগে সিরিজের দ্বিতীয় ম্যাচে ৮৩ রানে আউট হয় এশিয়া কাপে সেঞ্চুরী করা এই ওপেনার। বর্তমানে ব্যাট করছেন সৌম্য সরকার ও ইমরুল কায়েস।
জিম্বাবুয়ের ২৮৭ রানের টার্গেট
সিরিজের শেষ ওয়ানডে তে স্বাগতিক বাংলাদেশ কে ২৮৭ রানের টার্গেট দিয়েছে বাংলাদেশ। ৫০ ওভার শেষে ৫ উইকেট হারিয়ে ২৮৬ রানের একটি বিশাল সংগ্রহ করে জিম্বাবুয়ে। ইনিংসে ২০ টি চার ও ৭ টি ছক্কায় এই রান পুঁজি করে তারা। যথাক্রমে ব্যাক্তিগত ১২৯ রান ও ১ রান করে অপরাজিত থাকেন শন উইলিয়ামস এবং এল্টন চিগাম্বুরা। জিম্বাবুয়ের ইনিংসে শেষ উইকেটের পতন হয় পিটার মুরের। তিনি ২১ বলে ২৮ রান করে আরিফুলের হিটে রান আউট হন। বাংলাদেশী বোলারদের মধ্যে সর্বোচ্চ দুটি উইকেট পান পেসার নাজমুল ইসলাম। এছাড়া আবু হায়দার রনি ও সাইফ উদ্দিন পান একটি করে উইকেট।
ক্যারিয়ারের দ্বিতীয় সেঞ্চুরী উইলিয়ামসের
ক্যারিয়ারের দ্বিতীয় সেঞ্চুরী করলেন জিম্বাবুয়ের বাঁহাতি ব্যাটসম্যান শন উইলিয়ামস। ১২৪ বলে এই সেঞ্চুরি করেন তিনি। এই সেঞ্চুরীতে তাকে সঙ্গ দিয়েছেন সিকান্দার রাজা ও পিটার মুর। সিকান্দার রাজা ক্যাচ আউট হয়ে প্যাভিলিয়ানে ফেরার মুর কে নিয়ে এই সেঞ্চুরী করেন তিনি। এসময় আটটি চার হাঁকান উইলিয়ামস।এর আগে ৪৬ তম ওভারে আউট হন নাজমুল ইসলামের বলে সৌম্য সরকারকে ক্যাচ দিয়ে মাঠ ছাড়েন সিকান্দার রাজা। এসময় দুইটি চার ও একটি ছক্কায় তার ব্যাট থেকে ৫০ বলে ৪০ রান আসে।
শত রানের জুটির পর, উইলিয়ামসের ফিফটি
দলের ক্রান্তিকালে শত রানের জুটি করে রানের পাল্লা ভারি করছিলেন টেইলর-উইলিয়ামস। কিন্তু ব্যক্তিগত ৭৫ রানে নাজমুলের বলে আউট হন তিনি। দ্বিতীয় ম্যাচেও ৭৫ রানেই বন্দী ছিলেন টেইলর। তবে শেষ ম্যাচে ব্যাটের কানায় লেগে বাউন্ডারি হাঁকাতে গেলে আকশে উড়ে যাওয়া বলটি মুশফিকের গ্লাভসে জমা পড়ে। এতে ভাঙে টেইলর-উলিয়ামসের শত রানের জুটি।
এদিকে টেইলরের আউটের আগেই ২৪ তম ওভারের প্রথম বলেই ফিফটি করেন জিম্বাবুয়ের বাঁহাতি মিডল অর্ডার ব্যাটসম্যান শন উইলিয়ামস। অপরাজিত ফিফটি করা শন উইলিয়ামস দ্বিতীয় ওয়ানডেতে ফিরেন ৪৭ রানে। নাজমুল ইসলাম অপুর বলে সিঙ্গেল নিয়ে বাংলাদেশের বিপক্ষে নিজের দশম ফিফটিতে পৌঁছান উইলিয়ামস। এই সময়ে তার ব্যাট থেকে আসে চারটি বাউন্ডারি।
জিম্বাবুয়ের একশ
আক্রমণাত্মক ব্যাটিংয়ে দলকে পথ দেখিয়েছিলেন ব্রেন্ডন টেইলর। সতর্ক ব্যাটিংয়ে তাকে সঙ্গ দিয়েছিল শন উইলিয়ামস।দুই জনের ব্যাটে ২১ তম ওভারে ১০০ রান করতে সমর্থ হয় জিম্বাবুয়ের।
চার ছক্কায় টেইলরের ফিফটি
সিরিজে টানা দ্বিতীয় ফিফটি তুলে নিয়েছেন ব্রেন্ডন টেইলর।৪৯ বলে পঞ্চাশ রানে পৌঁছান টেইলর। এই সময়ে তার ব্যাট থেকে আসে পাঁচটি চার ও দুটি ছক্কা। দ্বিতীয় ওয়ানডেতে ডানহাতি এই ব্যাটসম্যান করেছিলেন ৭৫ রান।
টেইলর-উইলিয়ামস জুটিতে পঞ্চাশ
ব্রেন্ডন টেইলর ও শন উইলিয়ামসের ব্যাটে দলীয় অর্ধ শতক রান গড় জিম্বাবুয়ে।তৃতীয় উইকেটে দুই জনে গড়েছেন পঞ্চাশ রানের জুটি।
টানা দুই ওভারে টাইগারদের জোড়া আঘাত
ওয়ানডে সিরিজের তৃতীয় ম্যাচে ব্যাটিংয়ে নেমে বিপাকে জিম্বাবুয়ে। টানা দুই ওভারে বাংলাদেশী বোলারদের জোড়া আঘাত। ২য় ওভারের তৃতীয় বলে সাইফের বলে বোল্ড আউট হন চিপাস জুহাইয়ো। পরের ওভারে তিন ম্যাচের মধ্যে প্রথম সুযোগ পেয়েই বোলিংয়ে চমক দেখালেন পেসার আবু হায়দার রনি। তার সেই ওভারের চতুর্থ বলে একইভাবে বোল্ড আউট করে হ্যামিল্টন মাসাকাদজা কে প্যাভিলয়নের পথ ধরান। জিম্বাবুয়ের এই দুই ওপেনার শূন্য রানেই মাঠ ছাড়েন।
টাইগার একাদশে তিন পরিবর্তন, অভিষেক আরিফুলের
অভিষেক ম্যাচ থেকে টানা দুই ম্যাচে শূন্য রানেই ফেরেন টপ অর্ডার ব্যাটসম্যান ফজলে মাহমুদ রাব্বী।রাব্বীর ওপর টাইগার অধিনায় মাশরাফি আস্থা রাখতে চাইলেও টিম ম্যানেজমেন্ট ভরসা করতে পারেনি।গতকাল অনুশীলন করা পাঁচ ক্রিকেটার একাদশে জায়গা পেতে সুযোগের অপেক্ষায় ছিল। এক্সপেরিমেন্ট করার আভাসও দিয়েছিল টিম ম্যানেজমেন্ট।
আর তাই তৃতীয় ওয়ানডেতে রাব্বীর বদলে টপ অর্ডারে তিন নম্বরে একাদশে ঢুকলেন সৌম্য সরকার।অদ্যদিকে,আট নম্বরে মেহেদী হাসান মিরাজের জায়গায় ওয়ানডেতে অভিষেক হলো আরিফুল হকের।এছাড়া কাটার মাস্টার মোস্তাফিজের স্থলে আবু হায়দার রনি খেলছেন।
পরিবর্তিত বাংলাদেশ একাদশ: লিটন দাস,ইমরুল কায়েস,সৌম্য সরকার,মুশফিকুর রহিম, মাহমুদউল্লাহ, মোহাম্মদ মিঠুন,নাজমুল ইসলাম অপু,আরিফুল হক, মাশরাফি বিন মুর্তজা, মোহাম্মদ সাইফ উদ্দিন,আবু হায়দার রনি।
পরিবর্তিত জিম্বাবুয়ে একাদশ:হ্যামিল্টন মাসাকাদজা,সিফাস জুয়াও,এল্টন চিগুম্বুরা,ব্রেন্ডন টেইলর,শন উইলিয়ামস,পিটার মুর, সিকান্দার রাজা,ডোনাল্ড টিরিপানো,কাইল জার্ভিস,রিচার্ড গারাবা, উইলিংটন মাসাকাদজা।
টস জিতে ফিল্ডিংয়ে বাংলাদেশ, লক্ষ্য ওয়াইট ওয়াশ
তৃতীয় ম্যাচেও টসের ভাগ্য সুপ্রসন্ন হলো টাইগার দলপতি মাশরাফি বিন মুর্তজার।চট্টগ্রামের জহুর আহমেদ চৌধুরী স্টেডিয়ামে জিম্বাবুয়ের বিপক্ষে বাংলাদেশের সপ্তম ওয়ানডে। শিশিরের ভূমিকার কথা মাথায় রেখে বাংলাদেশ অধিনায়ক নিয়েছেন ফিল্ডিং।
চট্টগ্রামের জহুর আহমেদ চৌধুরী স্টেডিয়ামে শুক্রবার তৃতীয় ওয়ানডে শুরু হয় বেলা আড়াইটায়।
এদিকে আজ জিম্বাবুয়ের বিপক্ষে ‘হোয়াইট ওয়াশের’ হাতছানি বাংলাদেশের।টানা দুই জয়ের ধারাবাহিকতা বজায় রেখেছে বাংলাদেশ। জিম্বাবুয়ের বিপক্ষে সিরিজিরে তৃতীয় ওয়ানডেতে লক্ষ্য হোয়াইট ওয়াশ। এর আগে সর্বশেষ, ২০১৪ সালে ৫ ম্যাচের সিরিজে অতিথিদের হোয়াইটওয়াশড করেছিল বাংলাদেশ।পরের বছর ৩ ম্যাচের সিরিজ জিতেছিল ৩-০ ব্যবধানে।এদিকে বাঁচা-মরার ম্যাচে জিতে সান্ত্বনার জয় চায় স্বাগতিক জিম্বাবুয়ে।
একুশে পত্রিকা/আরএইচ
ছবি-আকমাল হোসেন

