ড. কামাল আগুন নিয়ে খেলছেন : মেয়র নাছির

চট্টগ্রাম : গ্রেনেড মামলা এবং এতিমের টাকা আত্মসাৎকারীদের বাঁচাতে দুর্নীতিবাজরা ঐক্যবদ্ধ হয়েছে বলে মন্তব্য করেছেন চট্টগ্রাম সিটি কর্পোরেশনের মেয়র ও চট্টগ্রাম মহানগর আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক আ.জ.ম নাছির উদ্দীন। ড. কামালকে উদ্দেশ্য করে তিনি বলেন, ‘ঐক্যফ্রন্টের নামে আপনি আগুন নিয়ে খেলছেন। এর পরিণাম কোণোভাবেই শুভ হবে না।’

মেয়র নাছির শনিবার (২৭ অক্টোবর) বিকাল ৩টায় সিইপিজেড চত্বরে বন্দর, ইপিজেড ও পতেঙ্গা থানা আওয়ামী লীগের উদ্যোগে ২১ আগস্ট গ্রেনেড হত্যার সাজাপ্রাপ্ত আসামী ও এতিমের টাকা আত্মসাতের মামলায় সাজাপ্রাপ্ত আসামীদের পুর্নবাসনের পাঁয়তারার বিরুদ্ধে এবং স্বাধীনতা সার্বভৌমত্বের প্রতীক সেনাবাহিনী প্রধানের বিরুদ্ধে মিথ্যাচারকারীদের গ্রেফতারের দাবিতে আয়োজিত সমাবেশে প্রধান অতিথির বক্তব্যে উপরোক্ত বক্তব্য রাখেন।

সভায় সভাপতিত্ব করেন চট্টগ্রাম মহানগর আওয়ামী লীগের সহ-সভাপতি খোরশেদ আলম সুজন।

মহানগর আওয়ামী লীগের ধর্ম বিষয়ক সম্পাদক হাজী জহুর আহমদ কোম্পানীর সঞ্চালনায় অন্যান্যদের মধ্যে বক্তব্য রাখেন মহানগর আওয়ামী লীগের সহ-সভাপতি নঈম উদ্দিন চৌধুরী, সহ-সভাপতি আলতাফ হোসেন চৌধুরী বাচ্চু, তথ্য ও গবেষণা সম্পাদক চন্দন ধর, বন ও পরিবেশ বিষয়ক সম্পাদক মশিউর রহমান চৌধুরী, কার্যনির্বাহী সদস্য কামরুল হাসান ভুলু, নুরুল আলম, রোটারিয়ান মোঃ ইলিয়াছ, সাইফুদ্দীন খালেদ বাহার, কাউন্সিলর গোলাম মোহাম্মদ চৌধুরী, ১৪ দলীয় নেতা মিতুল দাশগুপ্ত, ইপিজেড থানা আওয়ামী লীগের আহ্বায়ক হাজী হারুনুর রশীদ, যুগ্ম আহ্বায়ক মোঃ আবু তাহের, পতেঙ্গা থানা আওয়ামী লীগের আহ্বায়ক আলহাজ্ব আব্দুল হালিম, যুগ্ম আহ্বায়ক এএমএন ইসলাম, বন্দর থানা আওয়ামী লীগের ভারপ্রাপ্ত সাধারণ সম্পাদক হাজী মোঃ ইলিয়াছ, ৪১নং ওয়ার্ড আওয়ামী লীগের সভাপতি কাউন্সিলর হাজী ছালেহ আহমদ চৌধুরী, সাধারণ সম্পাদক নুরুল আলম, ৪০নং ওয়ার্ড আওয়ামী লীগের সভাপতি আব্দুল বারেক কোম্পানী, সাধারণ সম্পাদক জয়নাল আবেদীন চৌধুরী আজাদ, ৩৯নং ওয়ার্ড আওয়ামী লীগের ভারপ্রাপ্ত সভাপতি সুলতান মোঃ নাছির উদ্দিন, সাধারণ সম্পাদক হাজী শফিউল আলম, ৩৮নং ওয়ার্ড আওয়ামী লীগের সভাপতি এম. হাসান মুরাদ, সাধারণ সম্পাদক হাজী মোঃ হাসান, ৩৭নং ওয়ার্ড আওয়ামী লীগের ভারপ্রাপ্ত সভাপতি হোসেন মুরাদ, সাধারণ সম্পাদক আব্দুল মান্নান, ৩৬নং ওয়ার্ড আওয়ামী লীগের আহ্বায়য়ক ইসকান্দর মিয়া, যুগ্ম আহ্বায়ক সাইফুল আলম চৌধুরী, মোর্শেদ আলী, নুর নবী চৌধুরী লিটন, ৩৯নং ওয়ার্ড কাউন্সিলর হাজী জিয়াউল হক সুমন, সাবেক কমিশনার হাজী মোঃ আসলাম, এটিএম শামসুল আলম, মহানগর শ্রমিক লীগের সাধারণ সম্পাদক কাজী মাহবুবুল হক এটলি, মহানগর ছাত্রলীগের সভাপতি ইমরান আহমেদ ইমু, ইপিজেড থানা মহিলা আওয়ামী লীগের সভাপতি শারমিন সুলতানা ফারুক প্রমুখ।

আ জ ম নাছির উদ্দীন বলেন, শেখ হাসিনার গতিশীল নেতৃত্বে বাংলাদেশে যে অভাবনীয় উন্নতি সাধিত হয়েছে তা সত্যিই অকল্পনীয়। চট্টগ্রামে আজ উন্নয়নের মহোৎসব চলছে। সিটি কর্পোরেশন, চট্টগ্রাম বন্দর, ওয়াসা, রেলওয়ে, সিডিএ ও পানি উন্নয়ন বোর্ডের মাধ্যমে হাজার হাজার কোটি টাকার উন্নয়নযজ্ঞ সম্পাদিত হচ্ছে এ নগরীতে। প্রায় শেষ হওয়ার পথে আউটার রিং রোড প্রকল্পের কাজ। এছাড়া দোহাজারী-রামু-কক্সবাজার-গুনদুম রেললাইন স্থাপন প্রকল্প, আনোয়ারায় অর্থনৈতিক অঞ্চল, কর্ণফুলী নদীর তলদেশে দেশের প্রথম টানেল নির্মাণ, বে-টার্মিনাল, মিরসরাইয়ের অর্থনৈতিক অঞ্চল, নদীতীর সংরক্ষণ, নগরীর সড়ক ও ড্রেনেজ ব্যবস্থা সংস্কারে কোটি কোটি টাকার প্রকল্প, ওয়াসার কর্ণফুলী পানি সরবরাহ প্রকল্প-২ ও ভান্ডালজুরি পানি সরবরাহ প্রকল্প। সরকারি এসব প্রকল্পের পাশাপাশি বেসরকারি উদ্যোগে এ বছরই বাঁশখালীতে ২০ হাজার কোটি টাকা ব্যয়ে বিশাল বিদ্যুৎকেন্দ্র স্থাপনের কাজও শুরু হয়েছে।

তিনি আরো বলেন, চট্টগ্রামের জনগণকে আমরা চিনি। চট্টগ্রামের জনগণের সাথে আমাদের নাড়ীর সম্পর্ক। চট্টগ্রামের এতোসব উন্নয়ন কর্মকাণ্ড শেষ হলে চট্টগ্রামের চেহারাই পাল্টে যাবে তাই আগামী নির্বাচনে শেখ হাসিনার কোনো বিকল্প নেই। সেজন্য আগামী নির্বাচনে চট্টগ্রামের সবকটি আসন আমরা মাননীয় প্রধানমন্ত্রীকে উপহার দিতে দৃঢ় প্রতিজ্ঞ। দল যাকেই মনোনয়ন দিবে তাঁর পক্ষেই আমরা সর্বাত্মকভাবে কাঁধে কাঁধ মিলিয়ে কাজ করবো।

মেয়র নাছির ড. কামাল হোসেনকে উদ্দেশ্য করে বলেন, আপনি ঐক্যজোটের নামে আগুন নিয়ে খেলছেন। এর পরিণাম কোণোভাবেই শুভ হবে না। আমরা চট্টগ্রামের রাজপথে কাউকে কোনো বিশৃংখলা করতে দেবো না। নির্বাচন কমিশন ঘোষিত তফসিল অনুযায়ী যথাসময়ে নির্বাচন হবে বলে তিনি দৃঢ় আশাবাদ ব্যক্ত করেন। তাই আজ থেকেই পাড়ায় মহল্লায় নির্বাচনী প্রস্তুতি শুরু করার জন্য দলীয় নেতা কর্মীদের প্রতি আহ্বান জানান মেয়র।

সভাপতির বক্তব্যে খোরশেদ আলম সুজন নবগঠিত ঐক্যফ্রন্টকে ফৌজদারিতে সাজাপ্রাপ্ত আসামী ও রাজনৈতিক বাস্তুহারাদের পুনর্বাসন প্রচেষ্টা হিসেবে উল্লেখ করে বলেন, অপরাধীরা কখনো দেশপ্রেমিক হতে পারে না। দেশপ্রেমহীন রাজনীতিকদের দিয়ে দেশ ও জাতির মঙ্গল হতে পারে না। তিনি ড. কামালকে তার নেতৃত্বে প্রণীত মহান সংবিধানের প্রতি বিশ্বস্ত হওয়ার আহবান জানান। খুন ও চুরির মামলায় সাজাপ্রাপ্ত, জঙ্গী ও স্বাধীনতা বিরোধীদের সঙ্গ ত্যাগ করার আহ্বান জানিয়ে সুজন ড. কামাল হোসেনকে উদ্দেশ্য করে বলেন, আপনার পিছনে আমাদের দলের অনেক কর্মীর রক্তঘাম জড়িয়ে আছে। কিন্তু আপনি সব ভূলে গিয়ে ক্ষমতার মোহে ২১ আগস্ট ও ১৫ আগস্টের খুনীদের সাথে হাত মিলিয়েছেন। আপনি আজকে চট্টগ্রামে সেই খুনীদের দলের সাথে বসে সভা করেছেন কিন্তু ভবিষ্যতে যদি সে সকল খুনীদের সাথে চট্টগ্রামে আসেন তাহলে আমাদের কর্মীরা আপনার পিছনে ব্যয় করা প্রতিটি রক্ত এবং ঘামের বদলা নিবে।

একুশে/প্রেসবিজ্ঞপ্তি