চসিকের নতুন খাল খনন ও কসাইখানা প্রকল্প অনুমোদন

চট্টগ্রাম: চট্টগ্রাম সিটি কর্পোরেশনের নগরীর বাড়ইপাড়া থেকে কর্ণফুলী নদী পর্যন্ত নতুন খাল খনন (সংশোধিত) এবং প্রাণি সম্পদ অধিদপ্তরের উদ্যোগে চট্টগ্রাম নগরে একটি সর্বাধুনিক কসাইখানা নির্মাণ প্রকল্পের অনুমোদন দিয়েছেন অর্থনৈতিক পরিষদের নির্বাহী কমিটি (একনেক)।

প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার সভাপতিত্বে বুধবার শেরে বাংলা নগরে এনইসিতে একনেকের সভায় এ প্রকল্প দু’টি অনুমোদিত হয়।

বাড়ইপাড়া থেকে কর্ণফুলী পর্যন্ত নতুন খাল খনন গৃহিত প্রকল্পটি প্রাক্কলিত ব্যয় ১হাজার ২৫৬ কোটি ১৫ লাখ টাকা এবং সর্বাধুনিক কসাইখানা (স্লটার হাউজ) এর জন্য ৮০ কোটি টাকা ধরা হয়েছে।

প্রকল্পের মেয়াদ চলতি বছরের জুলাই থেকে আগামী ২০২০ সনের জুন পর্যন্ত নির্ধারন করা হয়েছে।

অনুষ্ঠিত একনেক সভায় চট্টগ্রাম সিটি কর্পোরেশনের মেয়র আ জ ম নাছির উদ্দীন ও প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা মোঃ সামসুদ্দোহা উপস্থিত ছিলেন।

নগরীর বহদ্দার হাট বাড়ইপাড়া থেকে কর্ণফুলী নদী পর্যন্ত খাল খননে চট্টগ্রাম সিটি কর্পোরেশনের আলোচিত প্রকল্পটি ২০১৪ সালের ২৪শে জুন একনেকে অনুমোদন পেয়েছিল। নির্ধারিত সময়ের মধ্যে ভূমি অধিগ্রহন এবং অর্থ ছাড় না হওয়ায় প্রকল্পের কাজ শুরু করা যায়নি। মেয়াদ চলে যাওয়ায় প্রকল্পটি বাস্তবায়নের যৌক্তিকতা নিয়েও প্রশ্ন ওঠে। এমন পরিস্থিতিতে প্রকল্পটি সংশোধিত হয়ে ১হাজার ২৫৬ কোটি ১৫ লাখ টাকার একনেক সভায় উপস্থাপন করা হয়।

প্রকল্পের ডিপিপি সূত্রে জানা গেছে, নতুন খালটি নগরীর বহদ্দাহাট বাড়ইপাড়াস্থ চাক্তাই খাল থেকে শুরু করে শাহ আমানত রোড হয়ে নুর নগর হাউজিং সোসাইটির মাইজপাড়া দিয়ে পূর্ব বাকলিয়া হয়ে বলির হাটের পাশে কর্ণফুলী নদীতে গিয়ে পড়বে। খালটির দৈর্ঘ্য হবে আনুমানিক ২ দশমিক ৯ কিলোমিটার এবং প্রশস্ত ৬৫ফুট। খালটির মাটি উত্তোলন, সংস্কার ও নতুন যোগাযোগ ব্যবস্থা সৃষ্টির লক্ষ্যে খালের উভয় পাশে ২০ফুট করে ২টি রাস্তা নির্মাণ করা হবে।

এদিকে চট্টগ্রাম নগরীর পশু জবাই ব্যবস্থাপনা ও পরিবেশ রক্ষায় সর্বাধুনিক কসাইখানা(স্লটার হাউজ) নির্মাণের উদ্যোগ গ্রহণ করে প্রাণী সম্পদ অধিদপ্তর। চট্টগ্রাম ছাড়াও ঢাকা ও খুলনা সিটিতেও এধরনের আধুনিক কসাইখানা প্রতিষ্ঠা করা হবে। এ লক্ষ্যে জেলা প্রাণী সম্পদ অফিসার আধুনিক কসাইখানা নির্মাণের জায়গা চেয়ে চট্টগ্রাম সিটি কর্পোরেশনের বরাবরে পত্র প্রেরণ করেন। তারই প্রেক্ষিতে চসিক প্রকল্পটি বাস্তবায়নের জন্য জায়গা প্রদানে আগ্রহের কথা জানিয়ে চিঠি দেয় প্রকল্প পরিচালককে।

এ আধুনিক “স্লটার হাউজ” নির্মানে ৮৮ শতক জায়গা প্রদান করবে চসিক। এ প্রকল্প বাস্তবায়নে ৮০ কোটি টাকা ব্যয় হবে। নগরীর চান্দগাও পুরাতন থানা এলাকায় এ আধুনিক কসাইখানা নির্মাণ হবে। এটি কেবলই “স্লটার হাউজ” নয় বড় মাপের একটি ইনষ্টিটিউশন। এতে থাকবে পশুর স্বাস্থ্য পরীক্ষা,আইসোলেশন,স্মার্ট ষ্টকিং স্পেস সুবিধা, প্রশিক্ষনের ব্যবস্থা, রক্ত ওয়েষ্ট ম্যানেজমেন্ট শৃঙ্খলা।

এছাড়া এ প্রকল্পের আওতায় ৫ তলা বিশিষ্ঠ ভবন, জবাই এরিয়া,একদিনেই জবাই করা যাবে ১শ পশু। অপেক্ষায় রাখা যাবে ৩শ পশু। পশুর নাড়িভুড়ি সহ শিং যেগুলো ফেলে দেয়া হয়, এ প্রকল্প হলে সেগুলো বিদেশেও রপ্তানি করা যাবে।

এই “স্লটার হাউজ” নির্মাণ প্রসঙ্গে মেয়র আ জ ম নাছির বলেন “স্লটার হাউজ” পশু জবাই ব্যস্থাপনা ও পরিবেশ রক্ষার জন্য একটি গুরুত্বপূর্ণ অংশ। এর মাধ্যমে নগরবাসী মান সম্পন্ন হালাল মাংস পাবে। পরিবেশ স্মার্ট হলে এবং ক্ষুরারোগ সহ গবাদী পশুর নানা সংক্রামক রোগ নিয়ন্ত্রণ করা সম্ভব হবে বলে তিনি উল্লেখ করেন।