
একুশে ডেস্ক : ক্যারিয়ারের ষষ্ঠ সেঞ্চুরি করেছেন মুশফিকুর রহিম। বাংলাদেশের হয়ে সর্বোচ্চ সেঞ্চুরি হাঁকানোর তালিকায় যৌথভাবে তৃতীয় স্থানে উঠে এলেন তিনি। ৬ সেঞ্চুরি নিয়ে তৃতীয় ছিলেন মোহাম্মদ আশরাফুল।
শুধু একক মাইলফলকই অর্জন করেননি মুশফিক। আরেকটি কীর্তি গড়েন তিনি। মুমিনুলের সঙ্গে বাংলাদেশের হয়ে চতুর্থ উইকেটে সর্বোচ্চ ১৮১ রানের জুটির রেকর্ড গড়েন এ উইকেটরক্ষক ব্যাটসম্যান। আগেরটি ছিল ১৮০ রানের। চলতি বছরের শুরুতে শ্রীলংকার বিপক্ষে লিটনকে সঙ্গে এ রেকর্ড গড়েন মুমিনুল।
রোববার (১১ নভেম্বর) ঢাকায় টস জিতে প্রথমে ব্যাট করার সিদ্ধান্ত নেন অধিনায়ক মাহমুদউল্লাহ রিয়াদ। মিরপুর শেরেবাংলা ক্রিকেট স্টেডিয়ামে ইনিংসের গোড়াপত্তন করেন লিটন দাস ও ইমরুল কায়েস। তবে শুভসূচনা এনে দিতে পারেননি তারা। জিম্বাবুয়ের বিপক্ষে দ্বিতীয় ও শেষ টেস্টে ১৮৭ বলে ৮ চারে তিন অঙ্কের ম্যাজিক ফিগার স্পর্শ করেন তিনি।
সূচনাতেই কাইল জার্ভিসের বলে উইকেটের পেছনে রেজিস চাকাভাকে ক্যাচ দিয়ে ফেরেন ইমরুল। ১৬ বল খেলেও ব্যক্তিগত রানের খাতায় কোনো রান যোগ করতে পারেননি এ ওপেনার। খানিক বাদেই একই বোলারের শিকার হয়ে সাজঘরের পথ ধরেন লিটন।
পরে ক্রিজে আসেন মোহাম্মদ মিথুন। তবে ক্রিকেটের অভিজাত সংষ্করণে অভিষেকটা রাঙাতে পারেননি তিনি। প্রাথমিক ধাক্কা কাটিয়ে ওঠার আগেই ডোনাল্ড তিরিপানোর বলে স্লিপে ব্রেন্ডন টেইলরকে ক্যাচ দিয়ে ফেরেন তিনি। এতে চাপে পড়ে বাংলাদেশ।
২২২ পরের গল্টটা শুধুই মুমিনুল-মুশফিকের। মাত্র ২৬ রানে ৩ উইকেট হারিয়ে সূচনালগ্নেই চাপে পড়ে স্বাগতিকরা। একে একে ফিরে যান ইমরুল, লিটন ও মিথুন। সেখান থেকে তাদের প্রতিরোধ। সেই প্রতিরোধের মুখে বাধা হয়ে দাঁড়াতে পারেননি জিম্বাবুয়ে বোলাররা। ফলে প্রথম সেশনটা গেলেও দ্বিতীয় সেশনটা হয়ে দাঁড়ায় শুধুই টাইগারদের।
দুর্দান্ত খেলেন মুমিনুল-মুশফিক। বাংলাদেশের সংগ্রহ দাঁড়ায় ৩ উইকেটেই ২০৭। এ নিয়ে আট ইনিংস পর সাদা পোশাকে ২০০ রানের গণ্ডি অতিক্রম করে টাইগারা।
টেস্ট ক্যারিয়ারের সপ্তম সেঞ্চুরি তুলে নেন মুমিনুল। ৫৪.১ ওভারে সিকান্দার রাজাকে বাউন্ডারি হাঁকিয়ে তিন অঙ্কের ম্যাজিক ফিগার স্পর্শ করেন তিনি। এ নিয়ে লংগার ভার্সনের ক্রিকেটে বাংলাদেশের হয়ে সর্বোচ্চ সেঞ্চুরি হাঁকানোর তালিকায় দ্বিতীয় স্থানে উঠে যান পয়েট অব ডায়নামোখ্যাত এ ব্যাটসম্যান। ৮ সেঞ্চুরি নিয়ে সবার ওপরে তামিম ইকবাল।
মুমিনুলকে যোগ্য সহযোদ্ধার সমর্থন দেন মুশফিক। সেঞ্চুরির ধীরে ধীরে সেঞ্চুরির পথে এগিয়ে যান তিনি। ইতিমধ্যে অনন্য মাইলফলক স্পর্শ করেন মিস্টার ডিপেন্ডেবল। টেস্ট ক্রিকেটে ঘরের মাঠে ২০০০ রানের মাইলস্টোন ছন তিনি।
শেষ খবর পর্যন্ত ৩ উইকেটে ২৬৫ রান করেছে বাংলাদেশ। মুমিনুল ১৫২ ও মুশফিক ১০২ রান নিয়ে ব্যাট করছেন। ইতিমধ্যে ২৩৯ রানের পার্টনারশিপ গড়ে তুলেছেন তারা। ক্রিকেটের আদি ফরম্যাটে জিম্বাবুয়ের বিপক্ষে বাংলাদেশের হয়ে যেকোনো উইকেটে এটি সর্বোচ্চ রানের জুটি।
একুশে/ডেস্ক/এসসি
