পুলিশের সহযোগিতায় মুক্ত নিরপরাধ অমর

চট্টগ্রাম: ২২ বছর সাজার মামলায় কারাগারে যাওয়া নিরপরাধ অমর দাশ পুলিশের সহযোগিতায় অবশেষে মুক্তি পেয়েছেন। রোববার সকালে চট্টগ্রাম কেন্দ্রীয় কারাগারে গিয়ে অমরকে ফুল দিয়ে বরণ করেন সদরঘাট থানার ওসি মো. নেজাম উদ্দীনসহ পুলিশ সদস্যরা।

এর আগে ২০০৪ সালের ১৬ অগাস্ট চট্টগ্রাম নগরীর বারিক বিল্ডিং এলাকায় র‌্যাবের সঙ্গে কথিত বন্দুকযুদ্ধের পর ‘অমর দাশ’সহ পাঁচজন গ্রেফতার হয়েছিলেন। এ ঘটনায় অস্ত্র ও বিস্ফোরক আইনের মামলা হয়। ওই মামলায় গত বছরের ১৬ অক্টোবর সেই পাঁচ আসামিকে ২২ বছরের কারাদণ্ড দেয় আদালত। তবে ২০০৭ সালে জামিন নিয়ে পালিয়েছিলেন ‘অমর দাশ’।

গ্রেফতারি পরোয়ানা অনুযায়ী গত ৫ জুলাই অমর দাশকে গ্রেফতারের পর পুলিশ জানতে পারে, তিনি আসল আসামি নন। তার চাচাত ভাই স্বপন দাশ হলেন আসল অপরাধী। গ্রেফতারের পর স্বপন তার নাম গোপন করে চাচাত ভাইয়ের নাম বলেছিলেন। এরপর পুনরায় গ্রেফতার হয়ে গত ১৪ আগস্ট স্বপন পরিচয় গোপন করার দায় স্বীকার করে আদালতে জবানবন্দি দেন। নাম-পরিচয় গোপন রেখে প্রতারণার অভিযোগে স্বপন দাশের বিরুদ্ধে ডবলমুরিং থানায় নতুন একটি মামলাও করে পুলিশ।

সদরঘাট থানার পরিদর্শক (তদন্ত) রুহুল আমিন বলেন, অমর দাশকে গ্রেফতারে পর তিনি জানিয়েছিলেন, তার বিরুদ্ধে কোন মামলা নেই। এমনকি কোন সময় তিনি কারাগারেও যাননি। এরপর আদালতের অনুমতি নিয়ে তদন্ত শুরু করি আমরা। তদন্তে অমরের দাবির সত্যতা পাওয়া গেছে স্বপনকে গ্রেফতার করে কারাগারে পাঠানো হয়।

সদরঘাট থানার ওসি মো. নেজাম উদ্দীন বলেন, ২২ বছরের সাজা থেকে অমরের মুক্তির জন্য উচ্চ আদালতে রিট করা হয়। মানবিক দিক বিবেচনায় এতে আমরা সহযোগিতা করি। তখন উচ্চ আদালত মামলার সকল নথিপত্র দেখে নিরপরাধ অমরকে সাজা থেকে অব্যাহতি দেয় ও স্বপনকে ২২ বছরের সাজাপ্রাপ্ত হিসেবে অন্তর্ভুক্ত করে। উচ্চ আদালতের এই আদেশ চট্টগ্রাম কারাগারে পৌছার পর রোববার সকালে অমর মুক্তি পান।