চট্টগ্রামে দুই ভাইয়ের লাশ উদ্ধারের ঘটনায় অপমৃত্যু মামলা

ctgচট্টগ্রাম: চট্টগ্রাম নগরীতে বস্তির একটি ঘর থেকে দুই ভাইয়ের মরদেহ উদ্ধারের ঘটনায় অপমৃত্যু মামলা দায়ের হয়েছে। বৃহস্পতিবার রাতে নগরীর খুলশী থানায় মামলাটি দায়ের করা হয়। তবে এ ঘটনার রহস্য এখনো উদঘাটন করতে পারেনি পুলিশ।

খুলশী থানার ওসি নিজাম উদ্দিন বলেন, দুই ভাইয়ের মরদেহের ময়নাতদন্ত করা হয়েছে। কিভাবে মৃত্যু হয়েছে সেটা ময়নাতদন্ত প্রতিবেদন পেলেই জানা যাবে। এ ঘটনায় নিহত কামরুলের স্ত্রী নাজমা আক্তার অপমৃত্যু মামলা করেছেন। এখনো বলার মতো কোন অগ্রগতি নেই।

এর আগে বৃহস্পতিবার রাত ৯টার দিকে খুলশী থানার টাইগারপাস এলাকায় রেলওয়ে বস্তির একটি ঘর থেকে কামরুল ইসলাম (৩৬) এবং নূরুল আবসার লাকী (৩৮) নামের দুই ভাইয়ের লাশ উদ্ধার করা হয়। তারা দুইজন রেলওয়ে পূর্বাঞ্চলের সাবেক কর্মচারি মৃত আব্দুল হালিমের ছেলে। এদের মধ্যে কামরুল বিবাহিত। তার স্ত্রী পোশাককর্মী নাজমা আক্তার ইপিজেড এলাকার একটি বাসায় থাকেন।

বৃহস্পতিবার রাতে ঘটনাস্থলে গিয়ে দেখা গেছে, বাঁশের বেড়ার টিনের চালের একটি ঘরের মেঝেতে দুই ভাইয়ের মরদেহ পড়ে রয়েছে। একজনের মহদেহ আরেকজনের উপর ছিল। দুইজনের মুখে ছিল ফেনা। এছাড়া লাকীর পিটে ৬ ইঞ্চি পরিমাপের জায়গায় দগ্ধ হওয়ার চিহ্ন দেখা গেছে। ঘরের খাটের উপর গাঁজা, সিগারেট, লাইটারসহ বিভিন্ন নেশাদ্রব্য দেখা গেছে।

কামরুলের স্ত্রী পোশাককর্মী নাজমা আক্তার বলেন, কামরুল ও লাকী দুজনই গাঁজা সেবী ছিল। লাকী দিনমজুরি করলেও কামরুল কোন কাজ করতেন না। বন্দরটিলা এলাকায় বাসা ভাড়া নিয়ে এক ছেলে সন্তানসহ আমরা বসবাস করতাম। মাঝে মাঝে টাইগারপাসের বাসায় এসে বন্ধুদের সঙ্গে মিলে গাঁজা খেত কামরুল। তবে দুই ভাই একে অপরের কিংবা প্রতিবেশি কারও সঙ্গে বিরোধে লিপ্ত ছিল না। কিভাবে এ ঘটনা ঘটলো আমি বুঝতে পারছি না।

খুলশী থানার ওসি নিজাম উদ্দিন বলেন, লাকীর পিটে দগ্ধ হওয়ার চিহ্ন পাওয়া গেছে। তার পাশে বৈদ্যুতিক সুইচ বোর্ডের তার ছেঁড়া ছিল। ধারণা করছি, সেখান থেকে লাকী বিদ্যুৎস্পৃষ্ট হয়েছে। পুরো বিষয়টি এখনো রহস্যই থেকে গেছে। এ ঘটনায় সন্দেহভাজন কাউকে শুক্রবার সন্ধ্যা পর্যন্ত আটক করা হয়নি।