
ঢাকা : নগদ অর্থের পাশাপাশি স্থাবর সম্পত্তিতেও সাবেক সেনাপ্রধান, জাতীয় পার্টির চেয়ারম্যান হুসেইন মহম্মদ এরশাদের চেয়ে অনেক এগিয়ে তার স্ত্রী রওশন এরশাদ।
এরশাদের নগদ টাকার পরিমাণ ২৮ লাখের মতো হলেও তার স্ত্রী রওশন এরশাদের কাছে ২৬ কোটি টাকার বেশি রয়েছে। মনোনয়নপত্র দাখিলের সঙ্গে রিটার্নিং কর্মকর্তার কাছে হুসেইন মুহম্মদ এরশাদের জমা দেওয়া হলফনামা থেকে এ তথ্য পাওয়া গেছে।
সাবেক রাষ্ট্রপতি এরশাদ বর্তমানের সংসদ সদস্য, পাশাপাশি প্রধানমন্ত্রীর বিশেষ দূত তিনি। ব্যবসাও রয়েছে তার। অপরদিকে তার স্ত্রী রওশন এরশাদ জাতীয় পার্টির জ্যেষ্ঠ কো চেয়ারম্যান, সংসদে বিরোধী দলীয় নেতা।
জাতীয় পার্টির চেয়ারম্যান হুসেইন মুহম্মদ এরশাদের নগদ অর্থের পরিমাণ ২৮ লাখ ৫৩ হাজার ৯৯৮ টাকা। আর তার স্ত্রীর নগদ অর্থের পরিমাণ ২৬ কোটি ২০ লাখ ২৯ হাজার ২৩৩ টাকা।
হলফনামায় তথ্য অনুসারে, এরশাদের অস্থাবর সম্পদের মোট মূল্য ৫৮ কোটি ৭ লাখ ৩৪ হাজার ১৯৮ টাকা। দশম সংসদ নির্বাচনের সময় এই পরিমাণ ছিল ৫০ কোটি ২২ লাখ ৫৪ টাকা। বর্তমানে নগদ টাকা ছাড়াও ব্যাংকে তার জমা আছে ৩৭ লাখ ৬৯ হাজার ৪৬ টাকা। এছাড়া, বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানে শেয়ারের মূল্য ৪৪ কোটি ১০ হাজার টাকা, এফডিআর ৯ কোটি ২০ লাখ টাকা, ডিপিএস ৯ লাখ টাকা, তিনটি গাড়ির মূল্য এককোটি ৪৮ লাখ টাকা (দুটি ল্যান্ড ক্রুজার ৫৫ লাখ ও ৭৫ লাখ ৫০ হাজার, একটি নিশান কার ১৮ লাখ টাকা), ইলেকট্রনিক সামগ্রী ৩০ হাজার টাকা, আসবাবপত্র ৩০ হাজার টাকা, ব্যবসায় মূলধন ১২ লাখ ৫১ হাজার ১৫৪ টাকা এবং জমি বিক্রির দুই কোটি ৫০ লাখ ৪০ হাজার টাকা।
স্থাবর সম্পদের মূল্য হলো দুই কোটি ৫০ লাখ ৪০ হাজার টাকা। এর মধ্যে বনানীতে একটি দোকান (মূল্য ৭৭ লাখ টাকা), তিনটি ফ্ল্যাট বারিধারায় ৬২ লাখ ৪০ হাজার টাকা মূল্যের ৭০৪২ দশমিক ৫২ বর্গফুট। ৪৯ লাখ টাকার দামের বনানীতে ১৪২৭ বর্গফুট ও ৬২ লাখ টাকা দামে গুলশানে ২১৭১ বর্গফুটের ফ্ল্যাট। এরশাদের স্থাবর সম্পত্তির মধ্যে বারিধার ফ্ল্যাটটির তথ্য দশম সংসদের হলফনামায় ছিল। সেই হিসাবে বলা যেতে পারে, গত ৫ বছরে তিনি এই দুটি ফ্ল্যাট অর্জন করেছেন।
ফাস্ট সিকিউরিটি ব্যাংকে এককোটি ৭৫ লাখ ৮৪ হাজার ৯৪৬ টাকাসহ মোট ব্যাংক লোন রয়েছে দুই কোটি ৩২ লাখ ৪ হাজার ৬৩৫ টাকা। আগেরবার ফাস্ট সিকিউরিটি ব্যাংকে তার লোন ছিল দুই কোটি ৮৭ লাখ ৮২ হাজার ৫৩৫ টাকা।
এরশাদ বার্ষিক আয় দেখিয়েছেন এককোটি ৮ লাখ ৪২ হাজার ২০৬ টাকা। এর মধ্যে ব্যবসা থেকে ২ লাখ ৬ হাজার ৫০০ টাকা, রাষ্ট্রীয় বিশেষ দূত হিসেবে সম্মানী ১৯ লাখ ৪ হাজার ৬৯৬ টাকা, সংসদ সদস্যের সম্মানী ১২ লাখ ৬০ হাজার টাকা এবং ব্যাংকে পরিচালনা পরিষদের সম্মানী ৭৪ লাখ ৭১ হাজার ১০ টাকা।
দশম জাতীয় সংসদ নির্বাচনের হলফনামায় তার বার্ষিক আয় ছিল এককোটি ৬ লাখ ৭৮ হাজার ১৪১ টাকা। এর মধ্যে ব্যবসা থেকে ৬২ হাজার ৯৫০ টাকা, শেয়ার/সঞ্চয়পত্র থেকে ৯১ লাখ ৫৭ হাজার ৭৯২ টাকা এবং চাকরি থেকে ১৪ লাখ ৫৭ হাজার ৩৯৯ টাকা।
এরশাদের হলফনামার দেওয়া তথ্য অনুসারে তার স্ত্রীর নগদ অর্থসহ মোট অস্থাবর সম্পদের মূল্য ৩৬ কোটি ৭৮ লাখ ৭৪ হাজার ৭১৩ টাকা।
এর মধ্যে নগদ ২৬ কোটি ২০ লাখ ২৯ হাজার ২৩৩ টাকা, ব্যাংকে ৭৪ লাখ ৮৯ হাজার ৭১৩ টাকা, জনতা পাবলিশিং-এর শেয়ার ৫০ হাজার টাকা, এফডিআর ৩ কোটি ২ লাখ ৯২ হাজার ৫০০ টাকা, সেভিং সার্টিফিকেট ৬০ লাখ টাকা, সেভিং স্কিম ৪ কোটি ৩৮ লাখ ৩৪ হাজার ৫১৭ টাকা, বিনিয়োগ ২৫ লাখ ৮০ হাজার টাকা, তিনটি গাড়ির মূল্য এককোটি ৫৩ লাখ ২৩ হাজার ৭৫০ টাকা, ১০০ ভরি সোনার মূল্য (অর্জনকালীন) একলাখ ২৫ হাজার টাকা এবং ইলেকট্রনিক ও আসবাবপত্র দেড় লাখ টাকা।
এছাড়া, এরশাদের স্ত্রীর রংপুরে ২৬৩ দশমিক ৫ ডেসিমেল ও পূর্বাচলে ৭ দশমিক কাঠা জমি, বসুন্ধরা ও গুলশানে দুটি ফ্ল্যাট এবং গুলশানে ৫ কাঠার একটি প্লট রয়েছে।
পাঁচ বছর আগের নির্বাচনে এরশাদ যে হলফনামা দিয়েছিলেন সেখানে তার উল্লেখ করা নগদ অর্থের পরিমাণ কোটি টাকা ছাড়িয়েছিল। তবে এবার সেখানে তিনি উল্লেখ করেছেন মাত্র ২৮ লাখ ৫৩ হাজার ৯৯৮ টাকা।
আগামী ৩০ ডিসেম্বর অনুষ্ঠেয় নির্বাচনে প্রতিদ্বন্দ্বিতার জন্য রংপুর-৩ ও ঢাকা-১৭ আসনে মনোনয়নপত্র জমা দিয়েছেন এরশাদ। গতবারের মতো এবারও নির্বাচনের আগে ‘অসুস্থতা’ নিয়ে আলোচনায় আছেন ৮৯ বছর বয়সী সাবেক এ রাষ্ট্রপতি।
২০১৪ সালের নির্বাচনে অংশ না নেওয়ার ঘোষণা দিয়ে এরশাদ নাটকীয় অসুস্থতা নিয়ে সিএমএইচে ভর্তি হয়েছিলেন। কিন্তু সেখানে ভর্তি থাকা অবস্থায়ই এমপি নির্বাচিত হন তিনি। পরে প্রধানমন্ত্রীর বিশেষ দূত করা হয় তাকে।
গণপ্রতিনিধিত্ব আদেশ অনুযায়ী, হলফনামায় ৮টি ব্যক্তিগত তথ্য (শিক্ষাগত যোগ্যতা, বর্তমান মামলা, অতীতের মামলার রেকর্ড, পেশা, আয়ের উৎস, সম্পদ বিবরণী, প্রতিশ্রুতি ও ঋণ) দিতে হয়। নবম সংসদ থেকে তা জমা দেয়ার বাধ্যবাধকতা শুরু হয়।
৯ ডিসেম্বরের পর নির্বাচন কমিশন প্রতিদ্বন্দ্বী প্রার্থীদের হলফনামার তথ্য ভোটারদের কাছে প্রচারও করবে।
একুশে/এসসি
