চট্টগ্রাম: নগরীর পাহাড়তলী থানার একটি চাঁদাবাজির মামলায় সাক্ষী থাকার পরও ‘তাঁকে পাওয়া যায়নি’ ও ‘এই নামের কোনো ব্যক্তি নেই’ উল্লেখ করে প্রতিবেদন দেয় পুলিশ। এ কারণে ওই থানার ওসি ও একজন উপসহকারী পরিদর্শককে (এএসআই) কারণ দর্শানোর (শোকজ) নোটিশ দিয়েছেন আদালত।
রোববার তৃতীয় যুগ্ম চট্টগ্রাম মহানগর দায়রা জজ মোছাম্মৎ বিলকিস আক্তার এ আদেশ দেন।
সরকারি কৌঁসুলি তুহিন গাঙ্গুলি বলেন, পাহাড়তলী এলাকার মাহবুবুর রহমান ১০ লাখ টাকা চাঁদাবাজির অভিযোগে একটি মামলা করেন। এ মামলায় একজন সাক্ষীর সাক্ষ্য গ্রহণ করেন আদালত। বাদীর সাক্ষ্য গ্রহণের জন্য আদালত গত এপ্রিল মাসে সমন জারি করেন। কিন্তু থানা থেকে সমনটি ফেরত আসায় আদালত গত ২৮ জুন বাদীর বিরুদ্ধে গ্রেপ্তারি পরোয়ানা জারি করেন। ২২ আগস্ট ওই সাক্ষীকে পাওয়া যায়নি এবং এই নামের কোনো ব্যক্তি নেই উল্লেখ করে পাহাড়তলী থানার এএসআই আবছার উদ্দিন আদালতে প্রতিবেদন জমা দেন। পাহাড়তলী থানার ওসি রণজিৎ বড়ুয়া ওই প্রতিবেদনে স্বাক্ষর করেন।
এদিকে আজ মামলার ধার্য দিনে আদালতে হাজির হন বাদী মাহবুবুর রহমান। তিনি আদালতকে জানান, মামলার ধার্য দিনে হাজির হতে তিনি কোনো সমন পাননি। তাঁর বাড়িতে কোনো পুলিশ যায়নি। খবর পেলে তিনি সাক্ষ্য দিতে ধার্য দিনে হাজির হতেন।
পরে আদালত বাদীকে পাওয়া যায়নি প্রতিবেদন দেওয়ায় পাহাড়তলী থানার এএসআই আবছার উদ্দিনকে আগামী ২০ অক্টোবর সশরীরের হাজির হয়ে এবং ওসি রণজিৎ বড়ুয়াকে লিখিতভাবে কারণ ব্যাখ্যা দিতে বলেছেন। একই সঙ্গে আদেশের অনুলিপি চট্টগ্রাম মহানগর পুলিশ কমিশনার ও নগর পুলিশের অতিরিক্ত উপকমিশনারকে পাঠানোর (প্রসিকিউশন) আদেশ দিয়েছেন আদালত।
পাহাড়তলী থানার ওসি রণজিৎ বড়ুয়া বলেন, সমন ও পরোয়ানা জারিতে কোনো গাফিলতি থাকলে এএসআই আবছারের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
