চট্টগ্রাম: আসন্ন দুর্গাপূজায় পূজামন্ডপে সিসিটিভি ক্যামেরা লাগানোর আহ্বান জানিয়েছেন চট্টগ্রামের জেলা প্রশাসক (ডিসি) মেজবাহ উদ্দিন আহমেদ ও পুলিশ সুপার (এসপি) নূরেআলম মিনা। বৃহস্পতিবার ঈদুল আযহা ও দুর্গাপূজা উপলক্ষে আয়োজিত আইনশৃঙ্খলা সমন্বয় সভায় তারা এই আহ্বান জানান।
পুলিশ সুপার বলেন, দুর্গাপূজায় স্বার্থান্বেষী মহল গুজব ছড়াতে পারে। এই গুজব সম্পর্কে সতর্ক থাকতে হবে। পূজামন্ডপে যে কোন ধরনের অপ্রীতিকর ঘটনা হঠাৎ করে ঘটে যেতে পারে। এজন্য সিসিটিভির লাগাতে হবে।
জেলা প্রশাসক মেজবাহ উদ্দিন বলেন, পুলিশের পক্ষে তো সব পূজামন্ডপে পর্যাপ্ত ফোর্স মোতায়েন করা সম্ভব না। তাই মন্ডপে মন্ডপে সিসিটিভি লাগিয়ে দেন। ইউএনও-ওসিকে আমি এ বিষয়টি দেখতে বলব। শুধু সিসিটিভি নয়, জেনারেটরও বসাতে হবে। পাঁচ-দশ মিনিট লোকশেডিং থাকলেও অন্ধকারে দুষ্ট লোকেরা অঘটন ঘটিয়ে চলে যেতে পারে।
সভায় হিন্দু বৌদ্ধ খ্রিস্টান ঐক্য পরিষদের চট্টগ্রামের সাধারণ সম্পাদক অ্যাডভোকেট নিতাই প্রসাদ ঘোষ বলেন, পূজার সময় বিশেষ করে গ্রামাঞ্চলে বাংলা মদের ব্যবহার বেড়ে যায়। মাদক কোথায় বিক্রি হয়, কিভাবে আসে সব কিন্তু পুলিশ জানে। পূজার আগে থেকে যদি এই বিষয়ে ব্যবস্থা নেয়া হয় তাহলে পূজা সর্বাঙ্গীন সুন্দর হবে।
বৈঠকে জেলা প্রশাসক মেজবাহ উদ্দিন বলেন, নতুন করে কোথাও পশুর হাট বসাতে হলে আমাদের অনুমতি নিতে হবে। স্থানীয়ভাবে ইউএনও অথবা কোন স্থানীয় সরকারী প্রতিষ্ঠান পশুর হাটের অনুমতি দিতে পারবেনা। জেলা প্রশাসেনর অনুমতি ছাড়া যে কেউ হাট বসালে আইনী পদক্ষেপ নেয়া হবে। সড়কের পাশে পশুর হাট বসানো যাবে না।
মেজবাহ উদ্দিন বলেন, অবৈধ পশুর হাটের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নিতে মোবাইল কোর্ট দায়িত্ব পালন করবে। অবৈধ হাট ছাড়াও পশুর বাজারে নানা অনিয়মের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা গ্রহণ করবে মোবাইল কোর্ট। পশুর স্বাস্থ্য পরীক্ষার জন্য হাটগুলোতে পর্যাপ্ত সংখ্যক ভেটেরেনারী সার্জন এবং পশুসম্পদ বিভাগের কর্মকর্তারা দায়িত্ব পালন করবেন।
সভায় অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (বিশেষ শাখা) মুহাম্মদ রেজাউল মাসুদ এবং জেলার বিভিন্ন উপজেলা চেয়ারম্যান ও পৌর মেয়র এবং উপজেলা নির্বাহী কর্মকতাসহ সরকারি বিভিন্ন সংস্থার কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।
