চট্টগ্রামের জন্য কিছুই করেননি ড. ইউনুস -অভিযোগ চবি ভিসির

cu vc 2চট্টগ্রাম: চট্টগ্রামের সন্তান নোবেলজয়ী ড. ইউনুস হালদা নদী ও চট্টগ্রামের উন্নয়নের জন্য কিছুই করেননি বলে অভিযোগ করেছেন চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য প্রফেসর ইফতেখার উদ্দিন চৌধুরী। শুক্রবার চট্টগ্রাম প্রেসক্লাবের ইঞ্জিনিয়ার আবদুল খালেক মিলনায়তনে হালদা রক্ষা কমিটি আয়োজিত আলোচনা সভা ও সংবর্ধনা অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এ অভিযোগ করেন।

চবি ভিসি বলেন, ড. ইউনুসকে নিয়ে অনেকে অনেক কিছু বলে। তিনি আমাদের চট্টগ্রামের জন্য একটি সামাজিক ব্যবসা যদি শুরু করেন, হালদা নদী রক্ষার জন্যে কোনো প্ল্যান নিতেন তাহলে চট্টগ্রামবাসী উপকৃত হতো। ড. ইউনুস লাখ লাখ টাকার ডলারের বাণিজ্য করছেন। কিন্তু চট্টগ্রামের জন্য কিছুই করেননি।

চট্টগ্রামে অপরিকল্পিত নগরায়ন হয়েছে মন্তব্য করে তিনি বলেন, চট্টগ্রাম শহরে যতগুলি কারখানা আছে তন্মধ্যে একটি কারখানারও ওয়াটার ট্রিটমেন্ট ব্যবস্থা নেই। বর্তমান কর্ণফুলি সেতু করার কারণে দুই পাশে পলিমাটিঁ জমে যাওয়ায় জোয়ারের পানি কর্ণফুলি দিয়ে উঠতে না পেরে হালদা নদীতে মিশছে। কর্ণফুলির লবনাক্ত পানি হালদার মিঠা পানিতে মিশার কারণে হালদার প্রায় ৬০-৭০ ভাগ মাছের পোনা নষ্ট হচ্ছে।

সভায় সভাপতির বক্তব্যে ইস্ট ডেল্টা বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য ও হালদা নদী রক্ষা কমিটির উপদেষ্টা প্রফেসর সিকান্দার খান বলেন, হালদার প্রতি আমাদের সমর্থন আছে। আমরা অনেক প্লান তৈরী করেছিলাম। কিন্তু চট্টগ্রাম উন্নয়ন কর্তৃপক্ষ কোন দিন এই প্ল্যান ধরেনি এবং কোনদিন পৃষ্ঠাও উল্টাননি। তারা আছে উড়াল সেতু নিয়ে।

ড. ইউনুসের চট্টগ্রাম নিয়ে কাজ করার সুযোগ হয়নি উল্লেখ করে সিকান্দার খান বলেন, ড. ইউনূস চট্টগ্রামে জন্মগ্রহণ করেছেন। সেই ইউনুসের চট্টগ্রামের জন্য অবদান রাখার সুযোগ হয়নি। তিনি যা করেছেন তা হলো তার থিউরির পরীক্ষিত ফর্মুলা বিভিন্ন দেশকে দিয়েছেন। যেমন গ্রামীণ ব্যাংকের ক্ষুদ্রঋণ প্রকল্প। এ প্রকল্পের মূল বিষয় হলো গরিব মানুষকে ঋণ দেওয়া যায়। যেটি তিনি প্রমাণ করেই নোবেল পুরস্কার পেয়েছেন।

‘হালদা নদীর বর্তমান প্রেক্ষাপট এবং করণীয়’ শীর্ষক সভায় জেলা প্রশাসক মেজবাহ উদ্দিন ও চট্টগ্রাম সাংবাদিক ইউনিয়নের (সিইউজে) সাধারণ সম্পাদক মোহাম্মদ আলীকে হালদা রক্ষায় ভ’মিকার জন্য সংবর্ধনা দেওয়া হয়। সভায় চট্টগ্রামের জেলা প্রশাসক বলেন, হালদা বাংলাদেশের গর্ব। বাংলাদেশে গর্ব করার অনেক কিছু আছে যার মধ্যে অন্যতম হালদা নদী। এই হালদা নদী চট্টগ্রামের মানুষের গর্ব। যারা হালদাকে ভালোবাসে, তারা বাংলাদেশের মাটি ও মানুষকে ভালোবাসে। তারা সবাই এগিয়ে আসলে হালদার সমস্যা সমাাধান করা কোন কঠিন বিষয় না। সরকার হালদা নিয়ে আন্তরিক।
চট্টগ্রাম সাংবাদিক ইউনিয়নের সাধারণ সম্পাদক মো. আলী বলেন, হালদা জাতীয় সম্পদ। এটা বিশ্বের অন্যতম নদী যেখানে জোয়ার ভাটার পানি আসা স্বত্ত্বেও মাছের পোনা সংগ্রহ করা যায়।

সভায় মূল প্রবন্ধ উপস্থাপন করেন হালদা নদী রক্ষা কমিটির সভাপতি ও চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রাণীবিদ্যা বিভাগের সহযোগী অধ্যাপক ড. মনজুরুল কিবরিয়া।

আলোচনা করেন- চট্টগ্রাম প্রেসক্লাবের সাবেক সভাপতি আবু সুফিয়ান, টিভি জার্নালিস্ট অ্যাসোসিয়েশনের সভাপতি শামসুল হক হায়দারী, মহসিন কলেজের অধ্যাপক ইদ্রিস আলী, বাপা চট্টগ্রামের সাধারণ সম্পাদক ড. আবু নোমান ও শিকারপুর ইউনিয়নের চেয়ারম্যান আবু বকর সিদ্দিক প্রমুখ। অনুষ্ঠান সঞ্চালনায় ছিলেন চট্টগ্রাম প্রেসক্লাবের যুগ্ম সম্পাদক চৌধুরী ফরিদ।