২৫ জুন ২০১৯, ১০ আষাঢ় ১৪২৬, সোমবার

সীতাকুণ্ডে ছেলেকে খুন করে লাশ পুকুরে ফেলেন মা

প্রকাশিতঃ বৃহস্পতিবার, জানুয়ারি ৩, ২০১৯, ৭:০৪ অপরাহ্ণ


চট্টগ্রাম: চট্টগ্রামের সীতাকুণ্ডে পারিবারিক অশান্তি ও ক্ষোভের কারণে ছয় বছরের এক শিশুকে খুন করার অভিযোগ উঠেছে এক সৎ মায়ের বিরুদ্ধে। অভিযুক্ত শামীনা আক্তারকে (৩৫) গ্রেফতার করেছে পুলিশ। তিনি শিশুটিকে হত্যার কথা স্বীকার করেছেন বলে পুলিশ জানিয়েছে।

নিহতের নাম মো: নিহাদ হাসান রাজু (৬)। সে উপজেলার কুমিরা ইউনিয়নের ৪নং ওয়ার্ড হিঙ্গুলিপাড়ার বাসিন্দা মোঃ মহরম আলী দুলালের ছেলে।

স্থানীয়রা জানায়, ছবুরা ও শামীনা নামে দুই স্ত্রী রয়েছে দুলালের। দ্বিতীয় স্ত্রী শামীনা আক্তার (৩৫) প্রথম স্ত্রী ছবুরা খাতুনের আপন ভাবি। দুলাল প্রথম স্ত্রী ও তার দুই ছেলে-মেয়ে নিয়ে হিঙ্গুলিপাড়ার ডেন্টার শফির বাড়িতে ভাড়া থাকতেন। দ্বিতীয় স্ত্রী থাকতেন কুমিল্লার চৌদ্দগ্রামে। তারও দুই ছেলে মেয়ে আছে।

এক মাস আগে দ্বিতীয় স্ত্রী শামিনা আক্তারকেও সীতাকুণ্ডে নিয়ে আসেন দুলাল। একই বাড়ির পাশাপাশি দুটি কক্ষে বাস করতেন তারা। ছবুরা খাতুন একটি গার্মেন্টে চাকরি করেন। তাই মাদ্রাসা পড়ুয়া নিহাদ ও তার বোন থাকত সৎ মায়ের কাছে। বুধবার সন্ধ্যার পর শামীনা আক্তার সৎ ছেলে নিহাদকে হত্যা করে বাড়ির পাশের পুকুরে লাশ ফেলে দেন। এরপর তিনি নিজেই নিহাদকে খোঁজাখুজি শুরু করেন।

এ সময় অন্যরাও নিহাদকে খুঁজতে থাকেন। এক পর্যায়ে এলাকাবাসী শামীনার কাছে নিহাদের বিষয়ে জিজ্ঞাসা করলে এলোমেলো তথ্য দিতে থাকেন তিনি। এতে সবার সন্দেহ হয়। এক সময় শামীনা জানায়, নিহাদকে পুকুরের দিকে যেতে দেখেছে। সেখানে খোঁজাখুঁজির এক পর্যায়ে রাত ৯টায় শিশু নিহাদের নিথর দেহ পাওয়া যায়। পরে শিশুটিকে হাসপাতালে নিয়ে গেলে কর্তব্যরত চিকিৎসকরা মৃত ঘোষণা করেন। ঘটনার পর স্থানীয়রা শামীনাকে পুলিসে সোপর্দ করে।

সীতাকুণ্ড সার্কেলের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার শম্পা রাণী সাহা বলেন, নিহাদের মুখ চেপে শ্বাসরোধ করে খুন করে লাশ পাশের পুকুরে ফেলে দেন বলে স্বীকার করেছেন শামীনা। পারিবারিক অশান্তি ও ক্ষোভের কারণে তিনি এ ঘটনা ঘটিয়েছেন বলে জানান। লাশ ময়নাতদন্তের জন্য চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের মর্গে পাঠানো হয়েছে।