‘জামিনআদেশ’ ঘিরে চট্টগ্রাম কারাগারে প্রকাশ্যে ঘুষবাণিজ্য

ctg jailমামুনুল হক চৌধুরী : আদালতের মুক্তির আদেশ পাওয়ার পরপরই কারাগার থেকে বন্দিদের মুক্তির বিধান থাকলেও তা মানা হচ্ছে না। সূর্যাস্তের আগে মুক্তির আদেশ কারাগারে পৌছলেও ‘ঘুষ’ না দিলে পরদিন বন্দিকে মুক্তি দেওয়ার অভিযোগ উঠেছে চট্টগ্রাম কেন্দ্রীয় কারাগার কর্তৃপক্ষের বিরুদ্ধে।

ভুক্তভোগীরা অভিযোগ করেছেন- মুক্তির আদেশের সাথে ‘টাকা’ দিলেই বন্দিকে দিনে দিনে মুক্তি দেয় কারা কর্তৃপক্ষ।

মুক্তির আদেশ হওয়ার পরও কারা কর্তৃপক্ষের এ ধরনের অনিয়মের ফলে জামিনপ্রাপ্ত বন্দিকে একদিন অতিরিক্ত বন্দি থাকতে হচ্ছে। অন্যদিকে ওই বন্দিকে পরদিন মুক্তি দেওয়ার পূর্ব পর্যন্ত রাতের খাবার ও সকালের নাস্তা ইত্যাদির জন্য সরকারের অতিরিক্ত টাকা খরচ হচ্ছে। এতে কারা কর্তৃপক্ষের দূর্নীতি আছে বলে অভিযোগ উঠেছে।

চট্টগ্রাম কেন্দ্রীয় কারাগার থেকে মুক্তি পাওয়া একাধিক বন্দি কারা কর্তৃপক্ষের বিরুদ্ধে এ অনিয়মের অভিযোগ তুলেছেন।

জেল কোডের ৯১৯ বিধিতে বলা আছে ‘মুক্তির আদেশ দানের পর (লক আপের পরে ছাড়া) সঙ্গে সঙ্গে মুক্তি দিতে হবে।’

একই আইনের ৫৭৩ বিধিতে বলা আছে ‘লক আপ সময়ের পর কোনোভাবেই কোনো বন্দীকে মুক্তি দেয়া যাবে না।’

‘সূর্যাস্ত’কে লক আপের সময় হিসেবে বলা আছে জেল কোডের ৪৯৬ বিধিতে।

গত ৯ আগস্ট পতেঙ্গার মিসবাহ উদ্দীন আহমেদ মাসুদ নামের এক ব্যক্তির জামিন মঞ্জুর করেন আদালত। ওই দিন বিকাল সাড়ে ৪টার দিকে মুক্তির আদেশ কারাগারে পৌছলেও সেদিন মুক্তি মিলেনি তার। পরে ১০ আগস্ট সকালে কারাগার থেকে মুক্তি পান তিনি।

তিনি একুশেপত্রিকাডটকমকে বলেন, ‘মুক্তির আদেশের সঙ্গে ১ হাজার টাকা ঘুষ জেলারের কাছে পৌছলে আমাকে একদিন অতিরিক্ত জেল খাটতে হতো না।’

পরিচয় গোপন রেখে গত ১১ আগস্ট এই প্রতিবেদক জামিনে মুক্তির আদেশ পাওয়া আসামি বিজয় কুমার দাশকে ওই দিন জেল থেকে মুক্তি দিতে ডেপুটি জেলার জাহিদুল ইসলামকে অনুরোধ করেন। এই সময় বিজয়কে ৩০ মিনিটের মধ্যে বের করে দিবে বলে তিনি এ প্রতিবেদকের কাছে এক হাজার টাকা দাবি করেন।

এরপর বিজয় কুমার দাশের ভাই ওইদিন (১১ আগস্ট) বিকাল ৪টার দিকে কারাগারে ১ হাজার টাকা ঘুষ দিয়ে মুক্তি দেওয়ার তদবির করে। এর ১ ঘণ্টা পর বিজয় কারাগার থেকে মুক্তি পান।

এদিকে গত ১৭ আগস্ট জেল থেকে মুক্তি পাওয়া রঞ্জন দাশ নামের একজন বলেন, ‘১৬ আগস্ট আমার জামিনে মুক্তি পাওয়া সংক্রান্তে কাগজপত্র কারাগারে পৌছে। কিন্তু আমাকে ওই দিনেই কারাগার থেকে বের করার জন্য আমার পক্ষের কেউ টাকা দেননি, তাই আমি বের হতে পারিনি।’

এক হাজার টাকা না দেওয়ায় জামিনপ্রাপ্ত বন্দিকে একদিন পর ছাড়ার অভিযোগ প্রসঙ্গে চট্টগ্রাম কেন্দ্রীয় কারাগারের সিনিয়র জেল সুপার ইকবাল কবির বলেন, ‘এ ধরনের অভিযোগের সুনির্দিষ্ট প্রমাণ থাকলে সংশ্লিষ্টদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া হবে।’

তবে সূর্যাস্তের (লক আপে নেওয়ার) আগে মুক্তির আদেশ আসলে বন্দি ওই দিনে ছেড়ে দেওয়ার নিয়ম আছে বলে স্বীকার করেন তিনি।

এক দিন অতিরিক্ত বন্দি থাকলে সরকার ও বন্দি উভয়ই ক্ষতির সম্মুখীন হন বলে প্রতিবেদকের সাথে একমত পোষণ করেন ইকবাল কবির।

তিনি বলেন, ‘জামিন আদেশ যাচাই-বাচাই করতে কারা কর্তৃপক্ষের সময় লাগে বিধায় বন্দিদের মুক্তি দিতে পরদিন পর্যন্ত সময় লেগে যায়।’

তবে এতে কোনো অনিয়ম-দূর্নীতি সংশ্লিষ্টতা নেই বলে দাবি করেন সিনিয়র জেল সুপার ইকবাল কবির।
*** চট্টগ্রাম কারাগারের ভেতর থেকে দুটি মোবাইল উদ্ধার
*** জেলগেটে ইয়াবা ও গাঁজা উদ্ধারের খবর