২৫ জুন ২০১৯, ১০ আষাঢ় ১৪২৬, সোমবার

দেশে ফের জঙ্গি হামলার আশঙ্কা!

প্রকাশিতঃ মঙ্গলবার, জানুয়ারি ৮, ২০১৯, ১১:৫৩ অপরাহ্ণ


রংপুর: উত্তরাঞ্চলের জেলাগুলোতে সশস্ত্র জঙ্গিরা আবারও সক্রিয় হয়ে ওঠছে। ৩টি জঙ্গি সংগঠনের প্রায় শতাধিক সদস্য দেশে বিভিন্ন স্থাপনা ও ব্যক্তির ওপর জঙ্গি হামলার পরিকল্পনা করছে।

র‌্যাব ও পুলিশের বিভিন্ন গোয়েন্দা ইউনিটের কাছে এ রকম উদ্বেগজনক তথ্য রয়েছে। পুরাতন ও নবীনদের সংগঠিত করে এই তৎপরতা চালানো হচ্ছে। এ জন্য উত্তরের জেলাগুলোতে ঘাঁটি গেড়েছে একাধিক জঙ্গি সংগঠনের ইউনিট।

মঙ্গলবার দুপুরে রংপুর র‌্যাব-১৩ অধিনায়ক মোজাম্মেল হক তার কার্যালয়ে এক প্রেস ব্রিফিংয়ে এসব তথ্য জানান।

জামা’আতুল মুজাহিদীন বাংলাদেশের (জেএমবি) উত্তরাঞ্চলের সমন্বয়ক ও সামরিক কমান্ডার আব্দুর রহমান বিশ্বাস ওরফে ফুয়াদসহ ৫ সক্রিয় সদস্যকে সোমবার আটক করে রংপুর র‌্যাব-১৩।

তিনি আরও জানান, জঙ্গিরা বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানে চাকরির আড়ালে নিজেদের সংগঠিত করছে। শুধু তাই নয়, জঙ্গিরা এসব প্রতিষ্ঠানের বিভিন্ন স্থাপনা তাদের সংগঠনের কার্যক্রম পরিচালনার জন্য ব্যবহার করে আসছে। আটকদের মধ্যে আখিনুর ইসলাম রংপুর নগরীর প্রাইম মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল ও সনিক গ্রুপের একজন কর্মচারী। সে প্রাইম মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের গাড়ির গ্যারেজ ইনচার্জের আড়ালে ওই গ্যারেজ জঙ্গি তৎপরতার কাজে ব্যবহার করত। সেখানে তাদের জঙ্গি তৎপরতার কাজে ব্যবহৃত মোটরসাইকেলগুলো লুকিয়ে রাখা ও বিভিন্ন সময়ে সংগঠনের গোপন বৈঠকের কাজে ব্যবহার করে আসছিল। রংপুর অঞ্চলে জঙ্গিদের বড় ধরনের হামলার আগেই এদেরকে আটক করা হলো।

তারা র‌্যাবের জিজ্ঞাসাবাদে এমন গুরুত্বপূর্ণ তথ্য দিয়েছে। জনমনে আতঙ্ক যেন না ছড়ায় সে জন্য র‌্যাবের ওই কর্মকর্তা বিস্তারিত জানাতে চাননি।

র‌্যাব অধিনায়ক আরও জানান, জঙ্গিরা উত্তরের জেলাগুলোতে সবচেয়ে যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন চরাঞ্চলের গ্রামগুলোকে সংগঠনের কাজে নিরাপদ আশ্রয় হিসেবে ব্যবহার করছে। তাদের সবার তথ্য এখন র‌্যাব মনিটরিং করছে।

অতিরিক্ত ডিআইজি মোজাম্মেল হক বলেন, সামরিক কমান্ডার ফুয়াদ ওরফে নিয়াজের নির্দেশেই রংপুর জেলার বিভিন্ন এলাকায় সাংগঠনিক কার্যক্রম পরিচালিত হচ্ছে। এ তথ্য পাওয়ার পর তাদের খোঁজে নামে র‌্যাবের গোয়েন্দারা। অবশেষে র‌্যাব জানতে পারে, রংপুর শহরের কাছে সদর উপজেলার মমিনপুর এলাকায় অবস্থান করছেন জেএমবি সদস্য নিয়াজ। সেখানে অভিযান চালিয়ে তাদেরকে আটক করা হয়।

প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে তারা সবাই জেএমবিতে সক্রিয় থাকার কথা স্বীকার করেছে। তাই তাদের সবার বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নেয়া হয়েছে।

মোজাম্মেল হক বলেন, প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে আটক জঙ্গিরা প্রায় ৭-৮ বছর ধরে গোপনে জেএমবির সাংগঠনিক কার্যক্রম চালিয়ে যাচ্ছিল এবং বিভিন্ন নাশকতামূলক কর্মকাণ্ডের পরিকল্পনা করছিল বলে স্বীকার করেছে। এ ছাড়া বিভিন্ন সময়ে আটক জঙ্গিদের কাছ থেকে বিপুল পরিমাণ গোলাবারুদ, অত্যাধুনিক আগ্নেয়াস্ত্র, জিহাদি তৎপরতার বইপত্র ও জঙ্গি হামলার রণকৌশলের দিকনির্দেশনা সংক্রান্ত নথিপত্র উদ্ধার করা হয়েছে।