২৬ জুন ২০১৯, ১২ আষাঢ় ১৪২৬, বুধবার

সোহেলের মৃত্যু: কাউন্সিলর সাবেরকে প্রধান আসামি করে হত্যা মামলা

প্রকাশিতঃ বুধবার, জানুয়ারি ৯, ২০১৯, ৩:০০ অপরাহ্ণ


চট্টগ্রাম: চট্টগ্রামে সাবেক ছাত্রলীগ নেতা মহিউদ্দিন সোহেলের মৃত্যুর ঘটনায় হত্যা মামলা দায়ের করেছেন নিহতের ছোট ভাই শাকিরুল ইসলাম শিশির; মামলায় সরাইপাড়া ওয়ার্ড কাউন্সিলর সাবের আহমেদ সওদাগরসহ ১৭৭ জনকে আসামি করা হয়েছে।

মঙ্গলবার রাতে ডবলমুরিং থানায় মামলাটি রেকর্ড করা হয় বলে জানান নগর পুলিশের সহকারী কমিশনার (ডবলমুরিং জোন) আশিকুর রহমান।
তিনি বলেন, সরাইপাড়া ওয়ার্ডের কাউন্সিলর সাবের আহমেদ সওদাগরকে মামলায় প্রধান আসামি করার পাশাপাশি জাতীয় পার্টির নেতা ওসমান খানসহ ২৭ জনের নাম উল্লেখ করা হয়। মামলায় অজ্ঞাতনামা আরও ১০০ থেকে ১৫০ জনকে আসামি করা হয়েছে।

এর আগে গতকাল সোমবার সকালে নগরীর পাহাড়তলী বাজারে ‘গণপিটুনিতে’ নিহত হন মহিউদ্দিন সোহেল। তিনি চট্টগ্রাম সরকারি কমার্স কলেজ ছাত্রলীগের সাবেক সাধারণ সম্পাদক ও কেন্দ্রীয় আওয়ামী লীগের উপ-কমিটির সাবেক সহ-সম্পাদক ছিলেন। তিনি একাত্তরের ঘাতক-দালাল নির্মূল কমিটিরও নেতা ছিলেন।

সোমবার ঘটনার পর পুলিশ, পাহাড়তলী বাজারের ব্যবসায়ী ও শ্রমিকরা সাংবাদিকদের কাছে দাবি করেন, বাজারে ‘চাঁদাবাজিতে অতিষ্ঠ’ জনতার পিটুনিতে সোহেলের মৃত্যু হয়েছে।

এরপর মঙ্গলবার বিকেলে চট্টগ্রাম প্রেসক্লাবে সংবাদ সম্মেলন করে নিহতের পরিবার অভিযোগ করে, গণপিটুনিতে নয়, পরিকল্পিতভাবে সাবেক ছাত্রলীগ নেতা মো. মহিউদ্দিন সোহেলকে হত্যা করা হয়েছে। গণমাধ্যমে মহিউদ্দিন সোহেলকে ‘চাঁদাবাজ’ উল্লেখ করে সংবাদ প্রকাশ করায় প্রতিবাদ জানান তারা।

সংবাদ সম্মেলনে মহিউদ্দিন সোহেলের ছোট ভাই শাকিরুল ইসলাম শিশির বলেন, আমার ভাই চাঁদাবাজ না। আপনাদের লেখার কারণে আমরা কোথায় গিয়ে দাঁড়াচ্ছি, সেটা একবার ভেবে দেখুন।


কাঁদতে কাঁদতে শাকিরুল ইসলাম শিশির বলেন, হাতজোড় করে বলছি, আমার ভাই চাঁদাবাজ নয়। দয়া করে আমার ভাইকে চাঁদাবাজ লিখবেন না। তিনি কোনো চাঁদাবাজি করেননি। তার নামে কোন থানায় একটি মামলাও নেই। কোন অভিযোগ পর্যন্ত নেই।

এ সময় মহিউদ্দিন সোহেলের স্বজনদের কান্নায় আবেগঘন পরিবেশের সৃষ্টি হয়।

শিশির বলেন, কোন সাংবাদিকের মনে কি এই প্রশ্ন আসেনি যে, গণপিটুনিতে নিহত মহিউদ্দিন সোহেলের গায়ে ২৬টি ছুরির আঘাত কেন? আমার ভাই রেলের কোনো জায়গা দখল করেনি। সে রেলওয়ের কাছ থেকে জায়গা লিজ নিয়েছিল। সে অবৈধ দখলদার না। তার পারিবারিক ঐতিহ্য আছে। তার সাংগঠনিক ভিত্তি ছিল। তিনি বাংলাদেশ রেলওয়ের একজন প্রথম শ্রেণির ঠিকাদার ছিলেন।

তিনি বলেন, পাহাড়তলীকে সন্ত্রাস ও মাদকমুক্ত করার কাজে হাত দিয়েছিল মহিউদ্দিন সোহেল। স্থানীয় কাউন্সিলর সাবের সওদাগরের নেতৃত্বে-কর্তৃত্বে ও সাবেক জামায়াত নেতা, বর্তমানে স্থানীয় জাতীয় পার্টির নেতা ওসমান খানের পৃষ্ঠপোষকতায় গড়ে ওঠা অনৈতিক ব্যবসার আখড়া ভেঙে দিয়ে স্থানীয় এলাকাবাসীর জন্য জানাজা ও নামাজের মাঠ করে দিয়েছিল।

এ কারণে মহিউদ্দিন সোহেল স্থানীয় ভূমিদস্যু, মাদক ও অনৈতিক ব্যবসায়ীদের রোষানলে পড়ে বলেও দাবি করেন শিশির। তিনি বলেন, আমার ভাইকে পরিকল্পিত হত্যা করা হয়েছে। এর প্রমাণ তার শরীরে ২৬টি ছুরিকাঘাতের চিহৃ।