
সিউল: দক্ষিণ কোরিয়ার সিউলস্থ বাংলাদেশ দূতাবাসের উদ্যোগে স্বাধীনতার মহান স্থপতি জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের ‘স্বদেশ প্রত্যাবর্তন দিবস’ পালন করা হয়েছে।
আজ বিকাল ৪টায় দূতাবাস প্রাঙ্গণে আয়োজিত কর্মসূচীতে রাষ্ট্রপতি ও প্রধানমন্ত্রীর বাণী পড়ে শোনানোর পর এই দিবসের তাৎপর্যের উপর বিশদ আলোচনা করা হয়।
রাষ্ট্রদূত আবিদা ইসলাম তাঁর বক্তব্যের শুরুতেই বঙ্গবন্ধুর স্মৃতির প্রতি গভীর শ্রদ্ধা জানান; তিনি বলেন, বাংলাদেশে প্রত্যাবর্তনের পরদিনই বঙ্গবন্ধু প্রধানমন্ত্রীর দায়িত্ব নিয়ে যুদ্ধবিদ্ধস্ত বাংলাদেশ পুনর্গঠনে আত্মনিয়োগ করেন। দেশের ভেঙ্গে পড়া যোগাযোগ ব্যবস্থা পুননির্মাণসহ প্রতিটি ক্ষেত্রেই ব্যাপক উন্নয়নের সূচনা করেন। সেই সাথে বিশ্বদরবারে নতুন রাষ্ট্র হিসেবে বাংলাদেশকে যথাযথ সম্মান ও মর্যাদার আসনে অধিষ্ঠিত করেন।
রাষ্ট্রদূত আবিদা ইসলাম আরো বলেন, বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের স্বপ্ন ছিল এদেশকে ‘সোনার বাংলা’ হিসেবে গড়ে তোলার। আর লক্ষ্য ছিল একটি ক্ষুধা ও দারিদ্রমুক্ত অসাম্প্রদায়িক গণতান্ত্রিক বাংলাদেশের এবং তিনি আজীবন এই লক্ষ্যেই কাজ করে গেছেন।

বক্তারা বাংলাদেশের মুক্তিযুদ্ধে ৩০ লক্ষ শহীদ, ২ লক্ষ সম্ভ্রম হারানো মা-বোন, যুদ্ধাহত মুক্তিযোদ্ধাসহ অকুতোভয় মুক্তিযোদ্ধাদের স্মৃতিচারণ করেন।
তারা বলেন, বাংলাদেশের চূড়ান্ত বিজয়ের পর সবাই প্রতীক্ষায় ছিলেন জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান এর স্বাধীন সার্বভৌম বাংলাদেশে আগমনের। প্রায় ২৫ দিনের প্রতীক্ষা শেষে বন্দীদশা থেকে স্বসম্মানে মুক্ত হয়ে তিনি যখন ১৯৭২ সালের ১০ জানুয়ারী বাংলাদেশে প্রত্যাবর্তন করেন, সেইদিনেই বাংলাদেশের মানুষ বিজয়ের প্রথম আনন্দে মেতে উঠেন।
বাংলাদেশ কমিউনিটির সদস্যসহ দূতাবাসের সকল কর্মকর্তা-কর্মচারী এ সময় উপস্থিত ছিলেন।
