যানবাহন চলাচলে শৃঙ্খলা ফিরিয়ে আনা বড় চ্যালেঞ্জ

Obaidul Quaderমহাসড়কে যানবাহন চলাচলে শৃঙ্খলা ফিরিয়ে আনাকে বড় চ্যালেঞ্জ মনে করছেন সড়ক পরিবহন ও সেতুমন্ত্রী ওবায়দুল কাদের।

বৃহস্পতিবার দুপুরে মহাসড়কে যানবাহন চলাচলের অবস্থা সরেজমিন দেখতে গিয়ে সিটি গেট এলাকায় সাংবাদিকদের তিনি এ কথা বলেন।

ঈদ উপলক্ষে ঢাকার কাঁচপুর থেকে মেঘনা সেতু পর্যন্ত ভয়াবহ যানজটের কথা স্বীকার করে মন্ত্রী বলেন, ঢাকা থেকে চট্টগ্রাম পর্যন্ত চার লেন মহাসড়কের কাজ শেষ হয়েছে। কিন্তু চার লেন দিয়ে আসা গাড়ি দুই লেনের কাচপুর, মেঘনা ও গোমতী সেতু পারাপারের সময় থমকে যাচ্ছে। এতে কাঁচপুর থেকে গোমতী সেতু পর্যন্ত যানজট হচ্ছে। আমরা জাইকার অর্থায়নে তিনটি নতুন সেতুর কাজ শুরু করছি। সেতুগুলো নির্মিত হলে ওই এলাকায় যানজট থাকবে না।

সিটি গেট এলাকায় ওবায়দুল কাদের আরও বলেন, মহাসড়কের পাশে কোরবানি পশুর হাট না বসানোর ব্যাপারে কড়া নির্দেশনা দেওয়া আছে। এ ছাড়া ধীর গতিতে পশু বহনকারী গাড়ির চলাচল কিংবা পথে এ ধরনের গাড়ি নষ্ট হওয়ায় যানজট হচ্ছে। কারণ, একটি অচল গাড়ি সরাতে কিছু সময় লেগে যায়। ততক্ষণে মহাসড়কে ৮-১০ কিলোমিটার যানজট সৃষ্টি হয়। তাই আমরা ফিটনেসবিহীন গাড়ির বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নিচ্ছি। বেপরোয়া গাড়ি চলাচল নিয়ন্ত্রণও একটা চ্যালেঞ্জ। আসলে আমরা সচেতন না হলে সড়ক চার বা ছয় লেন করেও কোনো লাভ নেই। তাই মানুষের মধ্যে সচেতনতা বৃদ্ধি ও শৃঙ্খলা ফিরিয়ে আনা আমাদের বড় চ্যালেঞ্জ।

চট্টগ্রাম নগরে গণপরিবহনে বিশৃঙ্খলা বিরাজমান উল্লেখ করে মন্ত্রী বলেন, ফ্লাইওভার (উড়ালসড়ক) নির্মাণ করে কেবল যানজট নিরসন সম্ভব নয়। ফ্লাইওভার না করেও রাস্তা সংস্কার ও চওড়া করে যানজট নিয়ন্ত্রণে রাখা যায়। আর চট্টগ্রাম নগরে এলিভেটেড এক্সপ্রেসওয়ের প্রয়োজন আছে কি না, সিডিএকে (চট্টগ্রাম উন্নয়ন কর্তৃপক্ষ) ভাবতে হবে। আমার মনে হয়, এলিভেটেড এক্সপ্রেসওয়ের পরিবর্তে মনোরেল বা মেট্রোরেল করা হলে অনেক কম জায়গা নষ্ট হবে। কম সময়ের মধ্যে অনেক মানুষ যাতায়াত করতে পারবে। বিষয়টি নিয়ে আমি মাননীয় প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে আলোচনা বলব।

চট্টগ্রাম নগরে গণপরিবহন ব্যবস্থায় বিশৃঙ্খলা দূর করতে আগামী ১৬ সেপ্টেম্বর চট্টগ্রামে সমন্বয় বৈঠক আহ্বান করা হয়েছে বলে মন্ত্রী জানান।