অনাস্থা ভোটে টিকে গেলেন তেরেসা মে


লন্ডন : ব্রেক্সিট চুক্তি নিয়ে ভরাডুবি হলেও, পার্লামেন্টের আস্থা ভোটে অল্পের জন্য উৎরে গেলেন ব্রিটিশ প্রধানমন্ত্রী তেরেসা মে। মাত্র ১৯ ভোটের ব্যবধানে জয় পায় কনজারভেটিভদের সরকার। বুধবার অনুষ্ঠিত অনাস্থা ভোটে ৩২৫-৩০৬ ব্যবধানে জয়ী হন তিনি। এ কারণে প্রধানমন্ত্রী হিসেবে থাকছেন মে। এ তথ্য জানিয়েছে আলজাজিরা।

এর আগের দিন মঙ্গলবার ব্রেক্সিট ইস্যুতে প্রধানমন্ত্রীর আনা একটি প্রস্তাব ২৩০ ভোটের ব্যবধানে নাকচ করে দেন পার্লামেন্টের সদস্যরা। এতে থেরেসা মের কনজারভেটিভ পার্টির ১১৮ সংসদ সদস্যও তাঁর প্রস্তাবের বিপক্ষে ভোট দেন।

ব্রেক্সিট চুক্তি পাশে ব্যর্থ হওয়ার সুযোগ নিয়ে প্রধান বিরোধী দল লেবার পার্টির নেতা জেরেমি করবিন তাৎক্ষণিকভাবে থেরেসা মে’র সরকারের বিরুদ্ধে অনাস্থা প্রস্তাব উত্থাপন করেন। সংসদের অন্যান্য বিরোধী দল লিবারেল ডেমোক্র্যাটস, স্কটিশ ন্যাশনালিস্ট পার্টি, প্লাইড কামরি ও গ্রিন পার্টি এই অনাস্থা প্রস্তাবে সমর্থন করে।

এদিকে, আস্থা ভোটে জিতে ব্রেক্সিট বাস্তবায়নে সব দলকে একসঙ্গে কাজ করার আহ্বান জানিয়েছেন তেরেসা মে। ব্রেক্সিট বাস্তবায়নে নিজের কাজ অব্যাহত রাখার কথাও জানান তিনি।পাশাপাশি প্রধানমন্ত্রী হিসেবে তার ওপর আস্থা রাখায় আনন্দিত বলেও জানান তেরেসা মে।

ব্রিটিশ প্রধানমন্ত্রী বলেন, টেরিজা মে বলেন, পার্লামেন্ট আমাদের ওপর আস্থা জানিয়েছে। তবে আমরা এই জয়কে হাল্কা ভাবে দেখছি না। আমাদের ঐক্য ধরে রাখতে হবে, সবাইকে দায়িত্বশীল আচরণ করতে হবে। আর ব্রেক্সিটের সিদ্ধন্ত গণভোটেই হয়েছে। তাই সবাইকে জনগণের রায়ের কথা মাথায় রাখা উচিৎ। নিরাপত্তা এবং সমৃদ্ধি বাড়াতে তার সরকার কাজ করে যাবে ।

অন্যদিকে, বিরোধী নেতা জেরেমি করবিন বলেছেন, যেকোনো ‘ইতিবাচক আলোচনার’ আগে প্রধানমন্ত্রীকে ব্রেক্সিট প্রশ্নে চুক্তিবিহীন সম্ভাবনার বিষয়টি নাকচ করতে হবে।

বিরোধী দলীয় নেতা বলেন, ঠিক এর আগের অধিবেশনেই ব্রেক্সিট চুক্তি বাতিল হয়। তার আগের সপ্তাহে চুক্তিহীন ব্রেক্সিটের প্রস্তাবও বাদ পড়েছিল। এতে স্পষ্ট বোঝা যাচ্ছে, এই সরকারের ক্ষমতা ছাড়ার সময় এসেছে।