মশার উৎপাতে অতিষ্ঠ মানুষ, ওষুধ নিয়ে সন্দেহ


আকমাল হোসেন : মশার উৎপাতে অতিষ্ঠ হয়ে পড়েছেন চট্টগ্রাম নগরের বাসিন্দারা; অনেকের অভিযোগ, মশা নিধনে কার্যকর ব্যবস্থা নিচ্ছে না চট্টগ্রাম সিটি করপোরেশন (চসিক)। অন্যদিকে ওষুধ ছিটানোর পরও মশার উপদ্রব না কমায় এর কার্যকারিতা নিয়ে সন্দেহ প্রকাশ করেছেন খোদ চসিকের একজন কাউন্সিলর।

চট্টগ্রাম নগরের বাসিন্দা আব্দুর রশিদ বলেন, কয়েল ব্যবহার করে মশা দূর হচ্ছে না। একসময় কয়েল জ্বালালে মশা দূরে সরে যেতো। এখন কয়েল, স্প্রে কোন কিছুতেই কাজ হয় না। আগে শুধু রাতে মশার যন্ত্রণা থাকলেও এখন তা দিনেও শুরু হয়েছে। কিছুদিন আগে মশা নিধনে ওষুধ ছিটাতে দেখা গেলেও এখন আর তা চোখে পড়ে না। অভিযোগ করারও কোনো জায়গা নেই।

তার মতো একই কথা বললেন মির্জাপুল এলাকার এ্যালুমনিয়াম গলির এক বাসিন্দা; তিনি বলেন, চলতি বছর একবারও মশার ওষুধ ছিটাতে দেখিনি। চসিক কোটি কোটি টাকা খরচ করার কথা বলে। কিন্তু বাস্তবে তো কোন কার্যক্রম দেখতে পাই না।

মশক নিধন কার্যক্রম পরিচালনায় গত তিন অর্থ বছরে সাড়ে ৮ কোটি টাকার ওষুধ ও মালামাল ক্রয় করেছে চসিক। এর মধ্যে শুধু গত অর্থ বছরের প্রথম ছয় মাসে ব্যয় করা হয়েছে সাড়ে চার কোটি টাকা।

বর্তমানে চসিকে আছে ১২০ জন স্প্রেম্যান, উন্নতমানের ১১০টি ফগার মেশিন ও ৩০০টি সাধারণ স্প্রে মেশিন।

এদিকে সিটি করপোরেশন মশা নিধনে কাজ করলেও অনেকের অভিযোগ তা হচ্ছে নামমাত্র। এ বিষয়ে দৃশ্যমান কোনো কার্যক্রম নেই। এতে নগরীতে মশাবাহিত রোগ বেড়েছে। তবে সিটি কর্পোরেশন বলছে, প্রতি সপ্তাহে মশা নিধনে প্রত্যেকটি ওয়ার্ডে তারা ওষুধ ছিটিয়ে যাচ্ছে। তবে মশা অতিরিক্ত পরিমাণে বেড়ে যাওয়ায় এখন পর্যন্ত তা প্রতিকারের কোনো বিশেষ ব্যবস্থা নেয়নি চসিক।

শান্তিবাগের বাসিন্দা রাহী একুশে পত্রিকাকে জানান, এ এলাকায় এমন কোন জায়গা নেই যেখানে মশা নেই। শীতের আগমনের সাথে মশার তীব্রতাও বেড়ে গেছে। গত মৌসুমে ওষুধ ছিটাতে দেখা গেলেও এবার তাদের কোন কার্যক্রম চোখে পড়েনি।

সরেজমিন নগরীর বিভিন্ন এলাকা ঘুরে দেখা যায়, শীত মৌসুমে বৃষ্টি না থাকায় নগরীর নালা-নর্দমার পানির ধারা স্থির রয়েছে। যার কারণে অন্য সময়ের তুলনায় মশার প্রজনন হারও বেড়েছে।

অন্যদিকে অধিকাংশ নালা-নর্দমা ও সড়কের আশপাশ এবং ডাস্টবিনসহ বিভিন্ন স্থানে ময়লা আবর্জনা ছড়িয়ে ছিটিয়ে থাকার দৃশ্যও দেখা গেছে।
এসব স্থান থেকেই মশার উৎপাদন বৃদ্ধি পাচ্ছে বলে অভিযোগ নগরবাসীর।

তারা বলছেন, মশা নিধনে চসিকের প্রকৃত কোন উদ্যোগ নেই, যার কারণে দিনের বেলায়ও মশারি টাঙ্গিয়ে জীবন-যাপন করতে হচ্ছে। দিনের বেলায়ও মশা থেকে রেহাই মিলছে না। বাসাবাড়ি, অফিস আদালত, শিক্ষা প্রতিষ্ঠান, কর্মস্থলসহ সর্বত্রই মশার উৎপাত।

এ ব্যাপারে ২৬ নং ওয়ার্ড কাউন্সিলর আবুল হাশেম একুশে পত্রিকাকে বলেন, প্রত্যেকদিন আমার ওয়ার্ডের বিভিন্ন পাড়ায়, মহল্লায় মশা নিধনের ওষুধ ছিটাচ্ছি। কিন্তু এগুলো দিয়ে তো কাজ হচ্ছে না। ওষুধের যে মান সেগুলো দিয়ে মশা নিধন সম্ভব হচ্ছে না। এসব ওষুধের কার্যকারিতাও কম।

এ ব্যপারে চসিকের প্রধান পরিচ্ছন্ন কর্মকর্তা শফিকুল মান্নান সিদ্দিকী একুশে পত্রিকাকে বলেন, নিয়মিত মশা নিধন কার্যক্রমের জন্য ওষুধ ছিটানো হয়। এটি চসিকের রুটিন কাজ।

মশা নিধন কার্যক্রমে শিথিলতার অভিযোগ প্রসঙ্গে এ কর্মকর্তা বলেন, মশার ওষুধ তো রাতে দেয়া হয়। তাহলে দিনের বেলায় নগরবাসী কিভাবে দেখবে?

তিনি আরো বলেন, প্রত্যেকে যদি নিজ নিজ বাসার আঙ্গিনা পরিষ্কার রাখেন তা হলে মশার প্রাদুর্ভাব কমে যাবে। এছাড়াও নিয়মিত সেপটিক ট্যাংক পরিষ্কারের পাশাপাশি প্রতি সপ্তাহে ট্যাংকে কালো তেল বা কেরোসিন ছিটানো, নলা-নর্দমা পরিষ্কার রাখলে মশা নিয়ন্ত্রণে চলে আসবে এবং প্রজননও কমে যাবে।

উল্লেখ্য বর্ষা মৌসুমের পরপরই, সাধারণত নভেম্বর থেকে ফেব্রুয়ারি পর্যন্ত মশার প্রকোপ বাড়ে।

সংশ্লিষ্টরা বলেছেন, এ সময় এসব স্থানে তরল অ্যাডালটিসায়েড ওষুধ ছিটালে মশার বংশবৃদ্ধি রোধ হয়। এ ছাড়া উড়ন্ত মশা মারার জন্য লার্ভিসায়েড নামক আরো একধরনের ওষুধ ব্যবহার করা যায়।