চট্টগ্রাম: চট্টগ্রামের ৭টি উপজেলার অর্ধশতাধিক গ্রামে ১২ সেপ্টেম্বর পবিত্র ঈদুল আজহা পালিত হবে। এসব গ্রামের দুই লক্ষাধিক মানুষ সোমবার পশু কোরবানী দিচ্ছেন। দীর্ঘ দুই শতাধিক বছর আগে থেকে সৌদি আরবসহ মধ্যপ্রাচ্য, ইউরোপ ও আফ্রিকার বিভিন্ন দেশের সাথে তাল মিলিয়ে এসব পরিবারগুলো একদিন আগে ঈদ পালন করে আসছে।
রোববার সন্ধ্যায় চন্দনাইশের জাহগিরিয়া শাহছুফি মমতাজিয়া দরবারের মৌলানা মতি মিয়া মনচুর মুঠোফোনে বলেন, সৌদী আরবসহ বিশ্বের আরো প্রায় ৫১টি দেশের সাথে তাল মিলিয়ে চট্টগ্রামের অর্ধশতাধিক গ্রামে সোমবার ঈদুল আজহা পালিত হবে। সকাল ৮টায় জাহগিরিয়া শাহছুফি মমতাজিয়া দরবার সংলগ্ন ময়দানে ঈদের নামাজ অনুষ্ঠিত হবে। অন্যদিকে সাতকানিয়ার মীর্জাখিল দরবারে সকাল ৮টায় ও সকাল ১০টায় দুটি ঈদের নামাজ অনুষ্ঠিত হবে।
জানা গেছে, বিগত দুইশতাধিক বছর আগে সাতকানিয়ার মীর্জাখিল দরবারের তৎকালীন পীর হযরত মাওলানা মুখলেছুর রহমান (র.) একদিন আগে অর্থাৎ পৃথিবীর অন্য যেকোন দেশে চাঁদ দেখা গেলেই ঈদুল আজহা (কোরবানী), রোজা ও ঈদুল ফিতর পালনের নিয়ম প্রবর্তন করেন। আর তখন থেকেই চলে আসছে এ নিয়ম। সারাদেশে হানাফী মাজহাবের অনুসারীরাই এ নিয়ম মেনে একদিন আগেই কোরবানী, রোজা ও ঈদ পালন করে থাকেন।
খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, সাতকানিয়ার মির্জাখীল দরবারের অনুসারীরা তাদের তৎকালীন পীরের নির্দেশ অনুসারে দুই শতাধিক বছর পূর্ব থেকে এ নিয়ম পালন করে আসছে। সাত উপজেলার যেসব গ্রামে আজ সোমবার ঈদুল আজহা পালন করার খবর পাওয়া গেছে, সেগুলো হলো- চন্দনাইশ উপজেলার কাঞ্চনগর, জোয়ারা, সাতবাড়িয়া, হারালা, আব্বাসপাড়া, খুনিপাড়া, সৈয়দাবাদ, দক্ষিণ কাঞ্চননগর, হাশিমপুর, কেশুয়া, জুনিঘোনা, মোহাম্মদপুর, বাইনজুড়ি, বরকল ও কানাইমাদারী, সাতকানিয়ার মীর্জাখীল, চরতী, সুইপুরা, খোয়াজপাড়া, মৈশামুড়া, বাজালিয়া, কাঞ্চনা, গাটিয়াডেঙ্গা, বাজালিয়া ও পুরানগড়, লোহাগাড়ার কলাউজান, আমিরাবাদ, বড়হাতিয়া, পুটিবিলা, উত্তর সুখছড়ি ও চুনতী, বাঁশখালীর জলদি, গুনাগরি, গন্ডামারা, মিঞ্জিরিতলা, ছনুয়া, সাধনপুর, কালীপুর, চাম্বল, শেখেরখীল, আনোয়ারার বরুমচড়া, বারখাইন, তৈলারদ্বীপ, পটিয়ার কালারপুল, হাঈদগাঁও, মল্লপাড়া, বাথুয়া, পৌরসদর ও বাহুলী এবং বোয়ালখালীর চরণদ্বীপ, বেঙ্গুরা ও সারোয়াতলী ইত্যাদি।
