
ইফতেখার সৈকত : বসন্তে পুষ্পিত কানন, শীতে ঝরা পাতার রুক্ষতা এমটাই প্রকৃতির ধর্ম। কিন্তু মাঝে মাঝে শখের পরিশ্রমের কাছে প্রকৃতি মাথা নুইয়ে ভরিয়ে দেয় সবুজে। এমনি এক সবুজে মোড়ানো পুষ্পিত কানন জেগে উঠেছে চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের (চবি) এ.এফ রহমান হল প্রাঙ্গণে।
২১’শ একরের সবুজ ক্যাম্পাসের শাটল থেকে নেমে জিরোপয়েন্টের উত্তর দিকে শাহাজালাল, শাহ আমানত, সোহারওয়ার্দী ও কেন্দ্রীয় মসজিদ পেরিয়ে আলাওল হলের পাশেই লাল ইটে খচিত চবির এ.এফ রহমান হল। হলের সামনে রয়েছে সুবিশাল মাঠ আর পানির হাউজ। খেলার মাঠ ও হলের মধ্যাকার কিছু অংশ খালি পড়ে রয়েছে। আর সেই খালি অংশে তৈরি হয়েছে নান্দনিক সৌন্দর্যের হলকানন।
এ.এফ রহমান হলের মালিদের নিবিড় পরিচর্যায় গড়ে উঠেছে এই ফুলের বাগান। এই বাগানে রয়েছে হরেক রকমের ফুলগাছ। গাছগুলোতে ফুটেছে হলুদ ও লাল রঙ্গের গাদা ফুল। লাল ও বেগুনী রঙ্গের মিশ্রিত খোঁপার মতো ডালিয়া ফুল। গোলাপী, সাদা, ও বেগুনী রঙ্গের কসমস ফুল। হল গেইটে রয়েছে চোখ জুড়ানো লাল বর্ণের বাগানবিলাসের ঝোঁপ। আরো রয়েছে সূর্যমূখী ফুলের গাছ।

সেপ্টেম্বর ও অক্টোবরের মাঝামাঝি সময় পাহাড়ি পলির বুকে কোদালের আঁচড়ে মাটি ঝুরঝুরে করে নিবিড় পরিচর্যায় কোমল হাতে ফুলের চারা রোপন করে হলের মালি আবু ইহছাক। সে থেকেই প্রত্যহ ফুলগাছগুলোকে যত্নসহকারে পরিচর্যা করে বড় করে তুলেছেন তিনি। এখন গাছ ভর্তি ফুল। ফুলগুলো দেখলে এক অন্যরকম অনুভূতি জাগে। এই ফুলগুলোর জন্য হলটিকে আগের থেকে আরো সুন্দর ও মনমুগ্ধকর লাগে। বিশ্ববিদ্যালয় অঙ্গনে এমন একটি ফুলের বাগান যেন মুক্তমনের বহিঃপ্রকাশ।
এদিকে হল প্রঙ্গনে এমন ফুলের বাগান দেখে হল শিক্ষার্থীরা যেমন উৎসাহিত ঠিক তেমনি বহিরাগত অতিথিরাও মুগ্ধ। শিক্ষার্থীরা বলছেন, বিশ্ববিদ্যালয়ের সবজায়গায় এমন ফুলের বাগান থাকা উচিত।
বিশ্ববিদ্যালয়ের লোকপ্রশাসন বিভাগের (১৭-১৮) শিক্ষাবর্ষের শিক্ষার্থী ও এ.এফ রহমান হলের ছাত্র ফেরদৌস হোসেন বাপ্পি বলেন, ফুল হচ্ছে শান্তি, সৌন্দর্য ও ভালোবাসার প্রতীক। এ. এফ রহমান হলের অসম্ভব সুন্দর এই ফুলের বাগান সত্যিই আমাদের মনে স্নিগ্ধকর অনুভূতির সৃষ্টি করে! যা কিনা আমাদের পড়াশুনার সুন্দর পরিবেশ বজায় রাখতে যথেষ্ট ইতিবাচক। আমরা চাই পুরো ক্যাম্পাসকে যেন এভাবে ফুলে ফুলে সাজিয়ে তোলা হয়।যাদের হাত ধরে এই বাগান গড়ে উঠেছে তারা ধন্যবাদ পাওয়ার যোগ্য; বলেন তিনি।

বিশ্ববিদ্যালয় ঘুরতে আসা খান মোহাম্মদ নামে এক অতিথি বলেন, আমি পুরো ক্যাম্পাস ঘুরে দেখেছি। প্রায় সব কয়টি হলের সামনে ফুলসমেত গাছ দেখতে পেয়েছি। তবে এ.এফ রহমান হলের ফুলের বাগানটা অন্য সবগুলো থেকে একটু আলাদা। এখানে বেশ কিছু ভিন্ন ধরনের ফুল রয়েছে। আমি সূর্যমূখী ফুলের গাছ গুলো দেখে একটু নিরাস হয়েছি, ওগুলোতে এখনও ফুল আসেনি। সূর্যমুখী ফুল ফুটলে বাগানটা আরো সুন্দর হয়ে যাবে।
তিনি আরো বলেন, ভোরে ঘুম ভাঙ্গার পর যখন আমি হলের সামনে ফুলগুলো দেখতে পেলাম আমার ভেতর এক অন্যরকম অনুভূতি জাগ্রত হলো। আমি যতটুকু বুঝেছি হলজীবন সত্যি খুব মজার আর হলের সামনে এমন বাগান হলজীবনের সৌন্দর্যকে আরেক ধাপ উচুঁতে নিয়ে গিয়েছে।
বিশ্ববিদ্যালয়ের এ.এফ রহমান হলের প্রভোস্ট প্রফেসর ড. গণেশ চন্দ্র রায় বলেন, আমরা প্রত্যেক বছর চেষ্টা করি হলে সামনে এমন ফুলের বাগান করার। যা একদিকে হলের সৌন্দর্য বাড়িয়ে দেয় অন্যদিকে শিক্ষার্থীর পড়ালেখার সুষ্ঠ পরিবেশ সৃষ্টি করে।
তিনি আরো বলেন, আমি মনে করি বিশ্ববিদ্যালয়ের অন্যান্য হলসহ সর্বত্র এমন ফুলের বাগান করা হোক। যা শিক্ষার্থীদের মানসিক বিকাশে সহায়তা করবে।
একুশে/আরএস/এসসি
