চট্টগ্রামে নির্ধারিত স্থানে পশু জবাইয়ে সাড়া মেলেনি

চট্টগ্রাম: কোরবানির পশু জবাই করার জন্য এবার চট্টগ্রাম সিটি করপোরেশন ৩৭০টি স্থান নির্ধারণ করে দিয়েছিল। তবে নির্ধারিত স্থানে গিয়ে পশু কোরবানি দেওয়ার ক্ষেত্রে মানুষের আগ্রহ নেই বললেই চলে। শহরজুড়ে সেই নির্ধারিত জায়গাগুলো ফাঁকাই দেখা গেছে। পশু জবাই করতে দেখা গেছে সড়কে, অলিগলিতে এবং বাসার সামনে। অভিযোগ আছে, এ বিষয়ে যথেষ্ট প্রচার-প্রচারণা না চালানোয় তেমন সাড়াও মেলেনি।

এদিকে চসিকের বর্জ্য ব্যবস্থাপনা স্ট্যান্ডিং কমিটির সভাপতি ও কাউন্সিলর শৈবাল দাশ সুমন বলেন, পশু জবাইয়ের জন্য ৩৭০টি স্থান নির্ধারণ করে দেয়া হয়েছিল। যত্রতত্র পশু জবাই না করার অনুরোধ জানিয়ে নগরীতে লিফলেট বিলি ও মাইকিং করা হয়েছিল। কিন্তু এতে কাজ হয়নি। আশা করছি আস্তে আস্তে মানুষটি নির্দিষ্ট স্থানে জবাইয়ের বিষয়টি অনুধাবন করতে পারবেন।
এদিকে সিটি করপোরেশনের প্রধান পরিচ্ছন্নতা কর্মকর্তা শেখ শফিকুল মান্নান সিদ্দিকী বলেন, পরিচ্ছন্নতাকর্মীরা পশুর বর্জ্য ঈদের দিন রাতের মধ্যে অপসারণ করেছেন। দ্বিতীয়বারের মতো পশু জবাইয়ের জন্য ৩৭০টি স্থান নির্ধারণ করা হয়েছিল। তবে নগরবাসীর তেমন সাড়া পাওয়া যায়নি।

বাকলিয়ার মাস্টারপুল এলাকার বাসিন্দা আবুল কাশেম বলেন, নির্ধারিত স্থানে পশু জবাইয়ের ব্যাপারে প্রচারণা কম ছিল। এলাকায় এলাকায় ও মসজিদে মসজিদে আগে থেকে ব্যাপক প্রচারণা চালালে এ উদ্যোগের সুফল পাওয়া যাবে।

করপোরেশন সূত্র জানায়, পশুর বর্জ্য দ্রুত সময়ের মধ্যে সরিয়ে নিতে নগরের ৪১টি ওয়ার্ডকে চারটি জোনে ভাগ করা হয়। সিটি করপোরেশনের পাঁচজন কাউন্সিলরকে এসব অঞ্চলের বর্জ্য অপসারণ কার্যক্রম তত্ত্বাবধান ও তদারকির দায়িত্ব দেওয়া হয়। ৪১টি ওয়ার্ডে ১৮০টি আবর্জনাবাহী গাড়ি বর্জ্য ব্যবস্থাপনার কাজ করে। এর মধ্যে আবর্জনাবাহী গাড়ি ১২৬টি, ট্রাক্টর ওয়াগন ৪টি, পে-লোডার ৮টি, ড্রাম ট্রাক ৩২টি এবং অতিরিক্ত গাড়ি ১০টি। এছাড়াও ৬টি পানির ভাউচার, ২৫টি পানির ভ্যানগাড়ি, ৩টি পানির টেম্পো, ২টি পানির টেক্সি সার্বক্ষণিকভাবে কোরবানি পশুর রক্তসহ অন্যান্য বর্জ্য পরিষ্কারের কাজে নিয়োজিত থাকে।

অন্যদিকে বর্জ্য ব্যবস্থাপনা সংক্রান্ত চসিকের স্থায়ী কমিটির সভাপতি ও কাউন্সিলর শৈবাল দাশ সুমনের নেতৃত্বে প্রত্যেক ওয়ার্ডে কাউন্সিলর এবং সংরক্ষিত কাউন্সিলররা বর্জ্য অপসারণের কাজ তদারক করেন।