চট্টগ্রাম: চট্টগ্রামের পাহাড়তলী ও ফৌজদারহাট রেলস্টেশনের অদূরে বুধবার পৃথক দুটি রেল দুর্ঘটনার ঘটনা ঘটেছে। এতে সারা দেশের সাথে চট্টগ্রামের ১০ ঘন্টা রেল যোগাযোগ বন্ধ থাকে। দুর্ঘটনার কারণ অনুসন্ধানে দুটি তদন্ত কমিটি করেছে রেল কর্তৃপক্ষ। রেলের বিভাগীয় ও উচ্চপর্যায় থেকে এ দুটি কমিটি গঠন করা হয়।
রেলওয়ে পূর্বাঞ্চলের মহাব্যবস্থাপক আবদুল হাই বলেন, পূর্বাঞ্চল রেলের প্রধান পরিবহন কর্মকর্তা মিয়া জাহানকে আহ্বায়ক করে পাঁচ সদস্যের তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়েছে। কমিটিকে তিন দিনের মধ্যে প্রতিবেদন জমা দেওয়ার জন্য বলা হয়েছে। এছাড়া বিভাগীয় পরিবহন কর্মকর্তা (ডিটিও) ফিরোজ ইখতেখারকে প্রধান করে চার সদস্যের একটি তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়েছে। এই কমিটিকে দ্রুত সময়ের মধ্যে তদন্ত প্রতিবেদন দিতে বলা হয়েছে।
এর আগে বুধবার সকাল ১১টার দিকে চট্টগ্রাম বন্দর থেকে ঢাকার কমলাপুরগামী কনটেইনারবাহী একটি ট্রেনের ইঞ্জিন সীতাকুন্ডের ফৌজদারহাট স্টেশনের কাছে লাইনচ্যুত হয়। এতে চালক ও চালকের সহকারি আহত হন। দুর্ঘটনার ফলে পাহাড়তলী থেকে ফৌজদারহাট পর্যন্ত আপ লাইনের পরিবর্তে ডাউন লাইনে ট্রেন চলাচল শুরু হয়। একইদিন বিকেল সাড়ে তিনটার দিকে পাহাড়তলী স্টেশনের অদূরে মহানগর গোধূলির চারটি বগি লাইনচ্যুত হওয়ার পর ডাউন লাইনও বন্ধ হয়ে যায়। এতে চট্টগ্রামের সঙ্গে সারা দেশের রেল যোগাযোগ বন্ধ হয়ে পড়ে। এতে পাঁচজন সামান্য আহত হন। তবে দুর্ঘটনার এক ঘণ্টা পর লাইনচ্যুত চারটি বগি রেখে বাকি ১৪টি বগি নিয়ে ট্রেনটি ঢাকায় রওনা হয়।
রেলওয়ের বিভাগীয় পরিবহন কর্মকর্তা (ডিটিও) ফিরোজ ইখতেখার জানান, দুর্ঘটনার ১০ ঘন্টা পর বুধবার দিবাগত রাত ১টা ৪০ মিনিটের দিকে চট্টগ্রামের সঙ্গে সারা দেশের রেল যোগাযোগ স্বাভাবিক হয়। বুধবার সকালে ঢাকা থেকে ছেড়ে যাওয়া মহানগর প্রভাতী ওই দুর্ঘটনার কারণে পথে আটকে ছিল পুরোটা সময়। লাইন খোলার পর প্রথমে মহানগর প্রভাতী চট্টগ্রাম রেল স্টেশনে পৌঁছায়।
তিনি জানান, এরপর ঢাকাগামী ত’র্ণা নিশিথা ও ঢাকা মেইল, সিলেটগামী উদয়ন এক্সপ্রেস ও জালালাবাদ এক্সপ্রেস এবং চাঁদপুরগামী মেঘনা এক্সপ্রেস চট্টগ্রাম ছেড়ে যায় তিন থেকে ১০ ঘণ্টা বিলম্বে। প্রায় ১০ঘন্টা দেরিতে চট্টগ্রাম পৌঁছায় কর্ণফুলী এক্সপ্রেস, চট্টলা এক্সপ্রেস সাড়ে সাত ঘন্টা দেরি করে এবং চাঁদপুর থেকে আসা সাগরিকা এক্সপ্রেস ১০ ঘন্টা দেরিতে চট্টগ্রাম আসে। শুধু চট্টগ্রাম থেকে ময়মনসিংহগামী মেইল ট্রেন নাসিরাবাদ এক্সপ্রেসের যাত্রা বাতিল করা হয়েছে।
