চট্টগ্রাম: গ্রাহকের টাকা আত্মসাতের দুর্নীতির পৃথক তিন মামলায় ইব্রাহীম খলিল দিদার নামের সাবেক এক পোস্টমাস্টারকে ১৮ বছরের কারাদণ্ড দিয়েছেন আদালত।
বৃহস্পতিবার বিকেলে চট্টগ্রাম বিভাগীয় বিশেষ জজ আদালতের বিচারক মীর রুহুল আমিন আসামির অনুপস্থিতিতে এ রায় দেন। দণ্ডাদেশপ্রাপ্ত ইব্রাহীম খলিল দিদার নগরের পাহাড়তলী থানার উত্তর কাট্টলী ডাকঘরের পোস্টমাস্টার ছিলেন।
দুদকের আইনজীবী মেজবাহ উদ্দিন চৌধুরী বলেন, রায়ের আদেশে প্রতিটি মামলায় তিন বছর করে ছয় বছর এবং আত্মসাৎ করা অর্থ জরিমানা করেন। অনাদায়ে আরও ছয় মাসের কারাদণ্ড দেওয়া হয়। সেই হিসাবে তিন মামলায় আসামিকে ১৮ বছরের কারাদণ্ড দেন আদালত। একই সঙ্গে আত্মসাৎ করা অর্থ রাষ্ট্রীয় পাওনা হিসেবে রাষ্ট্র অনুকূলে বাজেয়াপ্ত করে দণ্ডাদেশপ্রাপ্ত আসামির স্থাবর ও অস্থাবর সম্পত্তি থেকে আদায় করতে সংশ্লিষ্ট জেলা প্রশাসককে নির্দেশ দেন আদালত।
আদালত সূত্রে জানা গেছে, পোস্টমাস্টার থাকাকালে ইব্রাহীম খলিল ২০০৯-১০ অর্থবছরে গ্রাহক নীপা দত্ত, মিনা আক্তার ও রোকেয়া আক্তারের ৫ লাখ ৪ হাজার টাকা আত্মসাৎ করেন। তিনি গ্রাহকের কাছ থেকে টাকাগুলো জমা নিয়ে তাঁদের সঞ্চয়ী হিসাব নম্বরে জমা দেননি। এভাবে পরের অর্থবছরে গ্রাহক ঝুমকা সিংহ, সোমা দে, শিমুল দে, আছিয়া আক্তার, পান্না লাল ও আবদুস সালামের ৬ লাখ ৭৪ হাজার টাকা এবং মিতা দত্ত, পেয়ারা বেগম, ভূপেন কান্তি দাশ ও ইজাজুল করিমের ৯ লাখ ৪৮ হাজার টাকা আত্মসাৎ করেন।
এ ঘটনায় দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক) চট্টগ্রামের উপসহকারী পরিচালক শহীদুল আলম সরকার বাদী হয়ে পোস্টমাস্টার ইব্রাহীম খলিলকে আসামি করে ২০১২ সালের ৩১ ডিসেম্বর নগরের পাহাড়তলী থানায় পৃথক তিনটি মামলা করেন। তদন্ত শেষে দুদকের উপসহকারী পরিচালক আবুল বাশার তাঁর বিরুদ্ধে আদালতে অভিযোগপত্র জমা দেন। তিন মামলায় নয়জন করে সাক্ষ্য নেন আদালত।
