কারাগার থেকে মুক্ত হয়ে ফের সন্ত্রাসে ‘কানা কুদ্দুস’

Screenshot_22চট্টগ্রাম: জামিনে বের হওয়ার পরপরই ফের সন্ত্রাসী কর্মকান্ডে জড়িয়ে পড়ার অভিযোগ উঠেছে বায়েজিদ বোস্তামি থানার তালিকাভুক্ত সন্ত্রাসী আব্দুল কুদ্দুস বাপ্পি ওরফে কানা কুদ্দুসের বিরুদ্ধে।

এর আগে বৃহস্পতিবার বিকেল ৪টার দিকে চট্টগ্রাম কেন্দ্রীয় কারাগার থেকে মুক্তি পান যুবলীগ নেতা মেহেদী হাসান বাদল হত্যার মূল পরিকল্পনাকারী হিসেবে অভিযুক্ত এই ব্যক্তি।

প্রত্যক্ষদর্শীরা জানিয়েছেন, বৃহস্পতিবার রাত সাড়ে ৮টার দিকে বায়েজিদের তারা গেট এলাকায় গাড়িবহর নিয়ে শোডাউন দিতে যান কানা কুদ্দুস ও তার অনুসারীরা। এসময় ওই এলাকায় দোকানপার্টের শার্টার বন্ধ করে আতঙ্ক সৃষ্টির চেষ্টা চালান কুদ্দুসের অনুগত শতাধিক ব্যক্তি।

এসময় তারা গেট এলাকায় অবস্থান করা চার যুবককে মারধর করা হয়েছে বলেও অভিযোগ পাওয়া গেছে। মারধরের শিকার যুবকরা হলেন- মিরাজ, বাবলী, জয় ও আজিম। এদের মধ্যে প্রথম তিনজন নিহত যুবলীগ নেতা মেহেদী হাসান বাদলের অনুসারী হিসেবে পরিচিত; আজিম নামের অন্য ব্যক্তি সাধারণ পথচারী।

স্থানীয়রা জানিয়েছেন, তারা গেট পার হয়ে গাড়ি বহরসহ দলবল নিয়ে শেরশাহ এলাকায় আওয়ামী লীগের কার্যালয়ে যান কুদ্দুস। এরপর তালা ভেঙে ভেতরে প্রবেশ করেন তারা। সেখানে দেওয়ালে থাকা ‘মেহেদী হাসান বাদল হত্যার বিচার চাই’ সম্বলিত বেশকিছু পোস্টার ছিড়ে ফেলেন কুদ্দুসের অনুসারীরা।

কুদ্দুসের অনুসারীদের মধ্যে বাপ্পি ওরফে সেটিং বাপ্পি নামের বিএনপির এক কর্মীও ছিলেন; তার বিরুদ্ধে বায়েজিদ এলাকায় সন্ত্রাসী কার্যকলাপে জড়িত থাকার অভিযোগ রয়েছে।

বৃহস্পতিবার রাত সাড়ে ৮টা থেকে ৯টা পর্যন্ত সময়ে এসব ঘটনা ঘটে বলে প্রত্যক্ষদর্শীরা জানিয়েছেন।

এদিকে এই ঘটনার প্রতিবাদ জানিয়ে রাত ১০টার দিকে বিক্ষোভ মিছিল বের করে মেহেদী হাসান বাদলের অনুসারীরা। মিছিলটি শেরশাহ আওয়ামী লীগের কার্যালয় থেকে শুরু হয়ে বায়েজিদের বিভিন্ন সড়ক ঘুরে তারা গেট এলাকায় গিয়ে শেষ হয়।

বায়েজিদ বোস্তামি থানার পরিদর্শক (তদন্ত) শহীদুল ইসলাম বলেন, জামিনে মুক্তির পর এলাকায় যান মেহেদী হাসান বাদল হত্যা মামলার আসামি আব্দুল কুদ্দুস বাপ্পি। এ নিয়ে দু’পক্ষের মধ্যে উত্তেজনা দেখা দেয়। খবর পেয়ে পুলিশ সদস্যরা ঘটনাস্থলে গিয়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে নেয়। এখন পরিস্থিতি শান্ত, স্বাভাবিক।

এদিকে বৃহস্পতিবার সন্ধ্যায় নিহত মেহেদী হাসান বাদলের স্ত্রী ও মামলার বাদি মোবশ্বেরা বেগম বলেন, ‘কুদ্দুস বের হওয়ায় এলাকায় আনন্দ প্রকাশ করে পোস্টার লাগাচ্ছেন তার অনুগত সন্ত্রাসীরা। মামলার অন্য আসামিরা এতদিন পালিয়ে থাকলেও কুদ্দুস জামিনে আসার খবরে সবাই এলাকায় এসে শোডাউন দিচ্ছে।’

তিনি বলেন, ‘কুদ্দুস এতদিন কারাগারে থাকায় বিচার পাওয়া নিয়ে আশাবাদি ছিলাম। এখন নিরাপত্তাহীনতায় ভুগছি।’

*** মেহেদী হত্যার পরিকল্পনাকারী ‘কানা কুদ্দুস’ জামিনে মুক্ত