গ্রীল মিস্ত্রি থেকে গ্রীল কাটা চোর!

14429085_1239702102727528_1272525480_nচট্টগ্রাম: চট্টগ্রাম নগরীতে গ্রীল ভাঙ্গা চোর চক্রের তিনজনকে গ্রেফতার করেছে বায়েজিদ বোস্তামি থানা পুলিশ। মঙ্গলবার সকালে বায়েজিদ ও খুলশী থানা এলাকায় অভিযান চালিয়ে তাদেরকে গ্রেফতার করা হয়। এসময় তাদের কাছ থেকে দুটি ল্যাপটপ ও তিনটি আইফোনসহ বিভিন্ন চোরাই মালামাল উদ্ধার করা হয়েছে।

গ্রেফতারকৃতরা হলেন- নগরীর খুলশী থানার বিহারী কলোনীর শফি ড্রাইভারের ছেলে শহিদুল ইসলাম ওরফে আকাশ (২৬), খুলশী কলোনীর শফি ইসলামের ছেলে সোহেল রানা (২৪), ব্রাক্ষণবাড়িয়ার নবীনগর থানার কাঠালিয়া গ্রামের হুমায়ুন কবিরের ছেলে মোঃ সোহাগ (২৬)।

পুলিশ সূত্রে জানা যায়, গত ১৭ এপ্রিল দিবাগত রাতে শেরশাহ এলাকার গুলনাহার ভবনের একটি বাসা থেকে দুটি ল্যাপটপ, দুটি মোবাইল সেট, রুপার ব্রেসলেট ও নগদ ৫ হাজার টাকা চুরি হয়। এছাড়া গত ২৫ জুলাই রাতে শেরশাহ এলাকায় পিবিআইয়ে কর্মরত এক পরিদর্শকের বাসা থেকে দুটি মোবাইল, নগদ টাকাসহ বেশকিছু গুরুত্বপূর্ণ কাগজপত্র চুরি হয়। এই দুটি ঘটনায় চোরের দল গ্রীল কেটে বাসায় প্রবেশ করে। এরপর অভিযোগ পেয়ে পুলিশ তদন্তে নামে। একপর্যায়ে মঙ্গলবার সকালে খুলশী রেল কলোনী থেকে প্রথমে সোহেলকে ও পরে শহিদুলকে গ্রেফতার করা হয়। তাদের তথ্যমতে মোহাম্মদনগর থেকে সোহাগকে গ্রেফতার করা হয়।

বায়েজিদ বোস্তামি থানার ওসি মোহাম্মদ মহসীন বলেন, গ্রেফতার শহিদুল ৫ বছর আগে বায়েজিদ থানা এলাকার একটি গ্রীলের ওয়ার্কসপে কাজ করতো। সেখান থেকে সে রপ্ত করে গ্রীল ভাঙ্গার কৌশল। গত ৫ বছরে কতগুলো বাসাবাড়িতে চুরি করেছে তার হিসাব মনে নেই শহিদুলের। পাঁচ তলা বিল্ডিংয়ে গ্রীল ধরে উপরে উঠতে এবং গ্রীল ভাঙ্গতে মাত্র ৫ মিনিট সময় লাগে শহিদুলের।

তিনি বলেন, বাসাবাড়িতে রাত ২ থেকে ৪টার মধ্যে বাইরে থেকে লাইট বন্ধ দেখলে শহিদুল তার সহযোগি সোহেলকে নিয়ে শুরু করে চুরির অভিযান। তারা চোরাই মাল বিক্রি করতো সোহাগের মাধ্যমে। মোবাইল, ল্যাপটপসহ সহজে বহনযোগ্য দামী মালামাল ছিলো তাদের টার্গেট।

ওসি বলেন, গ্রীল ভাঙ্গতে তারা ব্যাবহার করে সেলাই রেঞ্জ। অনেক সময় গ্রীল ভাঙ্গতে হয়না; গ্রীলের পাশে থাকা মোবাইল এবং ল্যাপটপ হাত দিয়ে চুরি করে নিয়ে আসে চক্রটি। বায়েজিদ, খুলশী, আকবর শাহ, কোতোয়ালী থানা এলাকায় তাদের তৎপর বেশী।