সমস্যা সমাধানে বধিরদের ‘মিটিং’

14445531_1586784128294812_61227295_nনজিব চৌধুরী: মঙ্গলবার, সন্ধ্যা ৭টা। চট্টগ্রাম নগরের আগ্রাবাদ সিঙ্গাপুর ব্যাংকক মার্কেটের নিচ তলা। চেয়ার নিয়ে গোল হয়ে বসে ‘মিটিং’ করছে একদল মানুষ; কিন্তু নেই কোন শব্দ। তাদের মধ্যে যোগাযোগটা হচ্ছে ইশারা ইঙ্গিতের মাধ্যমে। কারণ তারা অন্য সাধারণ মানুষের চেয়ে একটু ব্যতিক্রমধর্মী বৈশিষ্ট্যর অধিকারী। তারা বাক-শ্রবণপ্রতিবন্ধী; এই সমাজে তাদের পরিচয় ‘বধির’ নামে।তাদের এই মিটিং বা আলোচনা আগ্রহ নিয়ে দেখছিল আশেপাশের কিছু সাধারণ মানুষ।

ইশারা ভাষায় যোগাযোগের মাধ্যমে তাদের কাছ থেকে জানা গেল; তারা সবাই ‘চট্টগ্রাম বধির উন্নয়ন সংঘ’ এর সদস্য। সংগঠনের সদস্যদের নানা সমস্যা সমাধান করার জন্য তারা প্রতি মাসের নির্দিষ্ট দিনে মিটিংয়ে বসেন; মঙ্গলবারের মিটিংটিরও একই উদ্দেশ্যে।

মঙ্গলবার সন্ধ্যা ৭টার দিকে শুরু হওয়া এই বৈঠকটি শেষ হতে লাগলো রাত ৯টা। এই সময়ে সমস্যা সমাধানের জন্য সদস্যদের সবাই একে একে নিজের বক্তব্য পেশ করেন। আলোচনার মধ্য হয় বিতর্কও। এসময় আশপাশে দাঁড়িয়ে অনেকেই তাদের এই বৈঠক দেখেন; কিন্তু কি নিয়ে আলোচনা হচ্ছে তা ভালোভাবে বুঝে উঠতে পারেননি বেশিরভাগই।

আলাপ-আলোচনারত বধিরদের সবাই সচ্ছল ও ধনী পরিবারের সন্তান; তা তাদের পোশাক-পরিচ্ছদই বলে দিচ্ছিল। কয়েকজনের হাতে দেখা গেছে স্মার্ট ফোনও।

14397251_1586784111628147_929696598_nআগ্রাবাদ সিঙ্গাপুর ব্যাংকক মার্কেটের কয়েকজন ব্যবসায়ী জানান, প্রায় সময় মিটিং করতে এই মারকেটের নিচে আসেন বধিররা। তাদের মাঝে ছোট-বড় সৌহার্দ বজায় আছে। তাদের মধ্যকার যে কোন ধরনের সমস্যার সমাধান তারা এখানে এসে করেন। সবার মধ্যে একতা, সততা ও বন্ধুতপূর্ণ আচরণ প্রত্যক্ষ করা যায়। তবে কোন কোন সময় দেখা যায়, মিটিংয়ের মাঝে কেউ কেউ উত্তেজিত হয়ে যান। পরক্ষণে তাদের মধ্যে সিনিয়ররা পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে নিয়ে আসে।

স্থানীয় এক ব্যবসায়ীর সহযোগিতায় বধির সংঘের এক সিনিয়র সদস্য এ প্রতিবেদককে বলেন, আমাদের (বধির) মাঝে সমস্যা হলে, আমরা এখানে (আগ্রাবাদ) এসে সমাধান করি। আমরা এখানে প্রতিমাসে দুই-তিনবার এসে থাকি। আমরা আমাদের সুখ-দুখ, আনন্দ বিনোদনের কথা এখানে এসে ভাগাভাগি করি। পরস্পরকে সাহায্য সহযোগীতার বিষয় মিটিং এর মাধ্যমে বাস্তবায়ন করা হয়।

তিনি বলেন, আমাদের সাথে কয়েকজন দোভাষী থাকলে আমরা খুব খুশি হতাম। আমাদের কথাগুলো সাধারণ মানুষকে বুঝাতে পারতাম। এতে আমরাও তাদের সাথে আনন্দ-বিনোদন ভাগাভাগি করতাম।

চট্টগ্রামে ‘বধির উন্নয়ণ সংঘ’ প্রতিষ্ঠা হওয়ায় খুশি হয়েছেন জানিয়ে তিনি বলেন, সংগঠন থাকায় আমাদের জন্য অনেক সুবিধা হচ্ছে। বাংলা ইশারা ভাষার অনেক উন্নতি হচ্ছে। অামরা কর্মমুখী শিক্ষার প্রতি খুব উৎসাহিত হচ্ছি।