বৃহস্পতিবার, ১৯ জুলাই ২০১৯, ৩ শ্রাবণ ১৪২৬

খাদ্যমন্ত্রীর জামাতার রহস্যজনক মৃত্য, পরিবারের দাবি হত্যাকাণ্ড

প্রকাশিতঃ রবিবার, মার্চ ১৭, ২০১৯, ৬:৫২ অপরাহ্ণ

ঢাকা : খাদ্যমন্ত্রী সাধন চন্দ্র মজুমদারের জামাতা বিএসএমএমইউর ম্যাক্সিলোফেসিয়াল বিভাগের সহযোগী অধ্যাপক রাজন কর্মকারের মৃত্যুর নিয়ে দুই রকম বক্তব্য পাওয়া গেছে।

পুলিশ জানিয়েছে, হৃদরোগে আক্রান্ত হয়ে রাজনের মৃত্যু ঘটেছে বলে তার শ্বশুরবাড়ির সদস্যরা বললেও হত্যাকাণ্ডের সন্দেহ করছেন তার পরিবারের সদস্যরা।

রোববার (১৭ মার্চ) ভোরে ফার্মগেটের ইন্দিরা রোডের বাসা থেকে রাজনের শ্যালিকা তাকে স্কয়ার হাসপাতালে নিয়ে আসে। পরে কর্তব্যরত চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষণা করেন। এর কিছুক্ষণ পর রাজনের স্ত্রী কৃষ্ণা কাবেরী হাসপাতালে আসেন হাসপাতাল সুত্র জানিয়েছে।

নিহত রাজনের পরিবারের দাবি এটি স্বাভাবিক মৃত্যু নয়, হত্যাকাণ্ড। মৃত্যুর বিষয়ে রাজনের চাচাত ভাই অভি বলেন, রাজন ভাইয়ের সঙ্গে তার স্ত্রীর সম্পর্ক খারাপ যাচ্ছিল। এর আগে একাধিকবার তাকে মারধর করা হয়েছিল। এ জন্য আমাদের সন্দেহ তাকে হত্যা করা হয়ে থাকতে পারে। আমরা তাঁর লাশের ময়নাতদন্ত করাতে চাই।

ঢাকার স্কয়ার হাসপাতালে ডা. রাজনের মৃত্যুর পর ভোর থেকে দিনভর উত্তেজনা চলে বেসরকারি ওই হাসপাতালে। পরে পুলিশ গিয়ে হস্তক্ষেপ করে।

রাজনের মামা সুজন কর্মকার বলেন, প্রথমে নিহতের শ্বশুরবাড়ির লোকজন স্বাভাবিক মৃত্যু ধরে ময়নাতদন্ত ছাড়াই মরদেহ হাসপাতাল থেকে নিয়ে যেতে চেয়েছিল। কিন্তু নন-ডায়াবেটিস (ডায়াবেটিস নেই এমন) একজন লোকের এমন মৃত্যৃ মেনে নেয়া যায় না। আমরা ময়নাতদন্ত চাই।

শেরে বাংলা থানার ওসি জানে আলম বলেন, স্কয়ার হাসপাতালের ডাক্তাররা বলেছেন, ডা. রাজনের স্বাভাবিক মৃত্যু হয়েছে। তবে দুই পক্ষ থেকে দুই রকম বক্তব্য এসেছে, তাই লাশ কাউকেই দেওয়া হচ্ছে না। ময়নাতদন্তের পর প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নেওয়া হবে।

জানা গেছে, নিহত রাজনের স্ত্রী কৃষ্ণাও বিএসএমএমইউর চিকিৎসক। হাসাপাতলে রাজনের ভর্তির খবর পেয়ে হাসপাতালে ছুটে যান রাজনের পরিবারের লোকজন এবং তাঁর শ্বশুর বাড়ির লোকজন। শুরু হয় দুই পক্ষের মধ্যে বাদানুবাদ। রাজনের বাবার পক্ষ চায় লাশের ময়না তদন্ত হোক, অন্যপক্ষ তাতে আপত্তি জানাচ্ছিল। বছরখানেক আগে মাথায় আঘাতপ্রাপ্ত হয়ে রাজন ঢাকার পপুলার হাসপাতাল, সিরাজুল ইসলাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল ও বিএসএমএমইউ’র আইসিইউতে চিকিৎসাধীন ছিলেন মাসখানেক।

বিএসএমএমইউ এর উপাচার্য অধ্যাপক ডা. কনক কান্তি বড়ুয়া বলেন, আমি রাজন কর্মকারের মৃত্যুর খবরটি শুনেছি। তাকে হাসপাতালে দেখতে গিয়েছিলাম। আমার এখানে তার বাবা ও মামা এসেছিলেন। তার বাবা অভিযোগ করেছেন, এটি একটি হত্যাকাণ্ড। তারা মৃতদেহের ময়নাতদন্তের দাবি জানিয়েছেন।

ডিএমপির তেজগাঁও বিভাগের উপকমিশনার বিপ্লব কুমার সরকার বলেন, বিকালে লাশ পুলিশ হেফাজতে নেওয়া হয়েছে। ময়না তদন্ত ছাড়া লাশ কাউকে দেওয়া হবে না।

রাজনের পরিবার থানায় অভিযোগ করার প্রস্তুতি নিচ্ছেন। কেউ অভিযোগ করলে তদন্ত করে পদক্ষেপ নেওয়া হবে বলে পুলিশ কর্মকর্তারা জানিয়েছেন।

একুশে/ডেস্ক/এসসি