শনিবার, ৭ ডিসেম্বর ২০১৯, ২৩ অগ্রহায়ণ ১৪২৬

প্রায় ৩৪ কোটি টাকায় সড়ক প্রশস্ত ও সেতু নির্মাণ, পাল্টে যাবে কর্ণফুলীর চিত্র

প্রকাশিতঃ শনিবার, মার্চ ২৩, ২০১৯, ১১:২৯ পূর্বাহ্ণ

ফাইল ছবি

মোর্শেদ নয়ন : কর্ণফুলী উপজেলায় সাড়ে পাঁচ কিলোমিটার সড়ক প্রশস্তকরণ ও দুইটি পাকা সেতু নির্মাণ প্রকল্পের কাজ শুরু করতে যাচ্ছে সড়ক ও জনপথ বিভাগ (সওজ)। ‌‌’জেলাসড়ক যথাযথ মান ও প্রশস্তায় উন্নীতকরণ’ প্রকল্পের আওতায় উপজেলার মইজ্জারটেক থেকে পুরাতন ব্রিজঘাট ফেরিঘাট সড়ক-বিএফডিসি সড়ক- আরবান আলী সড়ক পর্যন্ত সাড়ে পাঁচ কিলোমিটার সড়কের দুই পাশে প্রশস্ত করা হবে এবং সৈন্নারটেক ও পুরাতন ব্রীজঘাটস্থ পুরাতন নড়বড়ে সেতু দুইটি ভেঙে নতুন দুইটি পাকা সেতু নির্মাণ করা হবে। এ প্রকল্পের ব্যয় ধরা হয়েছে ৩৩ কোটি ৬০ লক্ষ টাকা। ২০২১ সালের ৩০ জুনের মধ্যে এই প্রকল্পের কাজ শেষ করা হবে বলে সওজ সূত্র নিশ্চিত করেছে।

জানতে চাইলে দোহাজারী সড়ক ও জনপদ বিভাগের পটিয়া উপ-বিভাগীয় প্রকৌশলী শাখাওয়াত হোসেন বলেন, কর্ণফুলী উপজেলার মইজ্জারটেক থেকে পুরাতন ব্রিজঘাট ফেরিঘাট সড়ক-বিএফডিসি সড়ক হয়ে বিএফডিসি ভেতর দিয়ে বিএফডিসির পিছনের সড়ক হয়ে বাংলা বাজার, আরবান আলী সড়ক পর্যন্ত সাড়ে পাঁচ কিলোমিটার সড়ক প্রশস্ত করা হবে। তারমধ্যে মইজ্জারটেক থেকে সাড়ে তিন কিলোমিটার সড়কের প্রশস্ত হবে ২৪ ফুট করে। বাকি দুই কিলোমিটার সড়ক হবে ১৮ ফুট করে। এছাড়াও সৈন্নারটেক এবং পুরাতন ব্রীজঘাটস্থ পুরাতন নড়বড়ে সেতু দুইটি ভেঙে নতুন দুইটি সেতু নির্মাণ করা হবে। সেতু দুইটির প্রস্থ হবে ১০ দশমিক ২৫ মিটার, দৈর্ঘ্য হবে ৩২ মিটার ও ৩৬ মিটার।

সরেজমিনে দেখা যায়, সড়ক প্রশস্ত করার জন্য ঠিকাদারের লোকজন সড়কে মাপজোখ করছে। শ্রমিকরা সড়ক প্রশস্তকরণে সড়কের পাশে মাটি খোঁড়াখুঁড়ি শুরু করেছে। সড়কের বিভিন্ন অংশে সড়কের দুই পাশের শত শত অবৈধ স্থাপনা ছিল। যেগুলো দুই দিন ধরে সরিয়ে নেয়া হচ্ছে। সৈন্যার এলাকার ব্যবসায়ী ওমর ফারুক বিজয় বলেন, ’সড়ক প্রশস্ত করা কাজ শুরু করবে জানিয়েছে সওজ কর্মকর্তারা। তাই আমরা নিজ উদ্যোগে স্থাপনা সরিয়ে নিচ্ছি’।

জানা যায়, মইজ্জারটেক-পুরাতন ব্রিজঘাট সড়ক হয়ে প্রতিদিন হাজার হাজার মানুষ যাতায়ত করে থাকে। কর্ণফুলীর লোকজন ছাড়াও পুরাতন ব্রিজঘাট ফেরিঘাট হয়ে সহজে শহরে যাতায়ত সুবিধার কারণে শাহ আমানত সেতু এলাকার যানজট এড়াতে দক্ষিণ চট্টগ্রামের পটিয়া, আনোয়ারা, বাশঁখালী, সাতকানিয়া, চন্দনাইশ, লোহাগাড়া উপজেলার লোকজন এ সড়ক দিয়ে যাতায়ত করে থাকে। এছাড়াও শিল্প কাঁচামাল ও পণ্য পরিবহন এবং যাতায়াতের সুবিধার কারণে কর্ণফুলী নদীর দক্ষিণ তীরবর্তী উপজেলা কর্ণফুলীর ইছানগর, খোয়াজনগর ও চরপাথরঘাটা গ্রামে ডায়মন্ড সিমেন্ট লিমিটেড, প্রিমিয়ার সিমেন্ট লিমিটেড, এস আলম সুগার রিফাইনারি ইন্ডাষ্ট্রিজ মিল, ইছানগর সি রিসোর্স লিমিটেড, কর্ণফুলী শীপ বিল্ডার্স, ফোরএইচ বেলামি টেক্সটাইল মিল, ব্যাঞ্চমার্ক এ্যাপারেল গার্মেন্টস, গোল্ডেন সন লিমিটেড, এপিটি গার্মেন্টস, ইছানগর ড্রাই ডক, ডিভাইন ট্যাক্সটাইল লিমিটেড, মাসুদ এগ্রো ফুড লিমিটেড, এস. আলম তৈল রিফাইনারি, কর্ণফুলী শীপ ইয়ার্ড, বিএফডিসি মৎস্য বন্দর, ইছানগর কোল্ডস্টোর, মিল্কভিটা দুগ্ধ শীতলীকরণ কেন্দ্র, বিন হাবিব গ্যাস লিমিটেড, ফিশ গার্ডেন লিমিটেড, নিহাও ফুডস লিমিটেডসহ ৩০টির অধিক মাঝারি ও ভারী শিল্প কারখানা গড়ে উঠেছে। ওই সব শিল্প কারখানার শত শত ভারী যানবাহন এসব সড়ক দিয়ে যাতায়ত করে থাকে। কিন্তু সড়ক সুরু হওয়ায় যানজট লেগে যেত। পুরাতন সেতু দুইটিতে গাড়ি উঠলে সেতু দোল খেত। ভয়ে যাত্রী চালক কেঁপে উঠত। সড়কগুলো প্রশস্ত করা ও সেতু নির্মাণের উদ্যোগে জনমনে স্বস্তি এসেছে।

ডায়মন্ড সিমেন্ট লিমিটেড পরিচালক লায়ন হাকিম আলী বলেন, ‘নড়বড়ে সেতু দুইটির পুনর্নির্মাণ ও সড়ক প্রশস্তকরণে উদ্যোগ আমাদের জন্য অনেক বড় আনন্দের সংবাদ। এই প্রকল্প বাস্তবায়িত হলে এলাকায় বেসরকারি বিনিয়োগ বাড়বে। নতুন নতুন কর্মসংস্থান সৃষ্টি হবে।’

এ ব্যাপারে জানতে চাইলে কর্ণফুলী উপজেলা পরিষদ চেয়ারম্যান ফারুক চৌধুরী বলেন, ‘জেলাসড়ক যথাযথ মান ও প্রশস্তায় উন্নীতকরণ’ প্রকল্পটি সরকার গৃহীত একটি অনন্য প্রকল্প। কর্ণফুলী আখতারুজ্জামান বাবু চত্বর (মইজ্জারটেক)-পুরাতন ব্রিজঘাট-বিএফডিসি সড়ক-আরবান আলী সড়ক এই প্রকল্পের আওতায় আনায় স্থানীয় সাংসদ ও ভূমিমন্ত্রী সাইফুজ্জামান চৌধুরী জাবেদকে ধন্যবাদ জানাই।

একুশে/এমএন/এটি