২৪ মে ২০১৯, ৯ জ্যৈষ্ঠ ১৪২৬, বৃহস্পতিবার

পায়ে হেঁটে কক্সবাজার

প্রকাশিতঃ বুধবার, মার্চ ২৭, ২০১৯, ১২:৫৩ অপরাহ্ণ


ইফতেখার সৈকত : ‘নিরাপদ সড়ক চাই, গাছ লাগাই পরিবেশ বাঁচাই, বাল্য বিবাহ প্রতিরোধ গড়ি’ এই তিন প্রতিপাদ্যকে সামনে রেখে পাঁয়ে হেটে চট্টগ্রাম থেকে কক্সবাজার পরিভ্রমণ করলেন চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয় ও মহসীন কলেজের তিন রোভার।

গত ২১ মার্চ চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের নৃবিজ্ঞান বিভাগের (১৪-১৫) শিক্ষাবর্ষের শিক্ষার্থী মো আনোয়ারুজ্জামান মুরাদ, একই শিক্ষাবর্ষের প্রাণীবিদ্যা বিভাগের এস এম আবু নাহিয়ান এবং মহসীন কলেজের অর্থনীতি বিভাগের শিক্ষার্থী মোঃ তৌহিদুল ইসলাম নগরীর চকবাজার এলাকার অলী খাঁ মসজিদ প্রাঙ্গণ থেকে সকাল ৬টা থেকে পায়ে হেঁটে কক্সবাজার পরিভ্রমণ শুরু করেন। এবং ২৫ মার্চ কক্সবাজার জিরোপয়েন্টে পৌঁছে এই পরিভ্রমণ শেষ হয়।

চট্টগ্রাম থেকে কক্সবাজারে দীর্ঘ ১৫০ কিলোমিটার পায়ে হেঁটে ভ্রমণ করতে এই তিন রোভারের সময় লেগেছে পাঁচ দিন।প্রথমদিন সকালে চট্টগ্রাম থেকে পায়ে হেঁটে দীর্ঘ ৩০ কিলোমিটার পথ পাড়ির পর এই তিন রোভার রাত কাটায় গাছবাড়িয়া সরকারি কলেজে। দ্বিতীয় দিন সকালে গাছবাড়িয়া থেকে শুরুর আগের দিনের সমান দূরত্ব অতিক্রম করে লৌহাগাড়া উপজেলা পরিষদ বাংলোতে অবস্থান নেয় এই দল। তৃতীয় দিন ৩০ কিলোমিটার এবং চতুর্থ দিন ৪২ কিলোমিটার পথ অতিক্রম করে এই রোভার দল অবস্থান করে কাক্সবাজার থেকে ১৮ কিলোমিটার দূরে। পঞ্চম এবং শেষ দিন ১৮ কি.মি পথ অতিক্রম করে এই তিন রোভার দল পৌঁছে যায় কাক্সবাজার এলাকায়।

পায়ে হেঁটে কাক্সবাজার পরিভ্রমণের পর এই দলের একজন আনোয়ারুজ্জামান মুরাদ একুশে পত্রিকাকে বলেন, অনেক দিনের ইচ্ছে পায়ে হেটে দেশ ভ্রমণের।তবে সেই সৌভাগ্য না হলেও চট্টগ্রাম থেকে কাক্সবাজারে পায়ে হেঁটে পরিভ্রমণের করতে পেরে নিজের কাছে খুব আনন্দ লাগছে।

এই পরিভ্রমণে সর্বাত্মক বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য প্রফেসর ড. ইফতেখার উদ্দীন চৌধুরী সহায়তা করেছেন বলেও জানান তিনি। তাছাড়া বিশ্ববিদ্যালয়ের ফলিত রসায়ন ও কেমিকৌশল বিভাগের প্রফেসর ও চবি রোভার স্কাউট গ্রুপের গ্রুপ সম্পাদক ড. মোঃ হেলাল উদ্দীন, চট্টগ্রাম জেলা রোভারের কমিশনার মোঃ কামাল উদ্দীন এবং সম্পাদক ফজলে কাদের চৌধুরীও সহযোগিতা করেন।

যাত্রাপথে গাছবাড়িয়া সরকারি কলেজের সিনিয়র রোভার মেট মোঃ আনিছ, লোহাগাড়া উপজেলা নির্বাহী অফিসার, কক্সবাজার রোভার স্কাউটের সম্পাদক মোঃ আব্দুল হামিদ এবং কক্সবাজারের অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক আক্তার উদ্দীন ও সহকারী পুলিশ সুপার মোঃ সাইফুল ইসলাম যথেষ্ট সহায়তা করেছেন বলেও জানান আনোয়ারুজ্জামান মুরাদ।

এক প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, আমার এই পরিভ্রমণের সবচেয়ে যে বিষয়টি খারাপ লেগেছে তা হলো- বাংলাদেশের সড়ক পথের অবস্থা। গাড়িগুলো কোন নিয়ম না মেনেই একটি অপরটিকে অতিক্রম করছে। গাড়ি চলাচলে কোন শৃঙ্খলা নেই। যার ফলস্বরূপ হচ্ছে যত্রতত্র সড়ক দূর্ঘটনা।

তিনি বলেন, আমাদের এই পরিভ্রমণে আমরা আমাদের প্রতিপাদ্য বিষয় নিয়ে ক্যাম্পেইন করেছি। এই ভ্রমণে আমরা আরকটি বিষয় যেটি দেখেছি তা হলো বাংলাদেশের মানুষগুলো খুবই আন্তরিক।

আরেক প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, আমার ইচ্ছা সব সময় রোভার স্কাউটের সাথে থেকে নিজেকে একটি শৃঙ্খল জীবনের আওতায় নিয়ে আসা। তিনি বলেন, আমার একটি স্বপ্ন আছে সেটি হচ্ছে প্রেসিডেন্ট রোভার স্কাউট এ্যাওয়ার্ড অর্জন করা।