২৬ জুন ২০১৯, ১১ আষাঢ় ১৪২৬, মঙ্গলবার

কালামিয়া বাজারের ‘মামলাবাজ’ ফরিদ সহযোগীসহ গ্রেপ্তার

প্রকাশিতঃ বুধবার, মার্চ ২৭, ২০১৯, ৪:৫৪ অপরাহ্ণ


চট্টগ্রাম: চট্টগ্রামে হত্যাচেষ্টা মামলার ওয়ারেন্টভুক্ত আসামি মো. ফরিদুল আলমকে (৩৫) গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ; যিনি চট্টগ্রাম নগরের বাকলিয়া থানাধীন কালামিয়া বাজার এলাকায় ‘মামলাবাজ’ হিসেবে পরিচিতি পেয়েছেন।

এসময় তার সহযোগী ওয়ারেন্টভুক্ত আসামি আব্দুল শুক্কুরকেও (৬৫) গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ।

বুধবার দুপুর দেড়টার দিকে নগরের কোতোয়ালী থানাধীন জেলা পরিষদ মার্কেটের সামনে থেকে তাদের গ্রেপ্তার করা হয়েছে বলে জানান বাকলিয়া থানার এসআই মো. আলমগীর।

গ্রেপ্তার ফরিদুল আলম বাকলিয়া থানাধীন কালামিয়া বাজার এলাকার আব্দুল নুর সওদাগরের বাড়ির মৃত শামসুল আলমের ছেলে। আরেক আসামি আব্দুল শুক্কুর হলেন ফরিদের চাচা ও একই এলাকার মৃত খুইল্লা মিয়ার ছেলে।

অভিযোগ রয়েছে, কালামিয়া বাজার এলাকায় টাকার বিনিময়ে বিরোধপূর্ণ জমি দখল-বেদখল, দালালি, চাঁদাবাজির সাথে যুক্ত রয়েছেন ফরিদ। লাভের জন্য নানাজনের বিরুদ্ধে একের পর এক মামলা করে আসছিলেন ফরিদ। ইতিমধ্যে এমন কিছু মামলা আদালতে মিথ্যা প্রমাণিত হয়েছে।

পুলিশ জানায়, জাহাঙ্গীর আলম নামের এক মোবাইল ফোন ব্যবসায়ীর কেনা বৈধ জায়গাকে কেন্দ্র করে আদালতে ফরিদ প্রথমে তার চাচী সাজু বেগমকে দিয়ে মামলা করে হেরে যাবার পর পুনরায় একই বিষয় নিয়ে একই আদালতে ফুফু গুলচেহেরকে দিয়ে মামলা করান ফরিদ। এ মামলায়ও হেরে যাবার পর জাহাঙ্গীরের নির্মিয়মান ঘরে গত ১৪ ফেব্রুয়ারি সন্ধ্যায় হামলা চালান ফরিদ ও তার সহযোগিরা। এতে জাহাঙ্গীরের বয়োবৃদ্ধ মা রোকেয়া গুরুতর আহত হন।

এই ঘটনায় আদালতে জাহাঙ্গীর আলম মামলা করলে ফরিদ তার চাচা আবদুল শুক্কুরকে দিয়ে জাহাঙ্গীর, তার স্ত্রী, বৃদ্ধ বাবা-মাকে আসামি করে মামলা করেন। আদালত দুটি মামলায় বাকলিয়া থানার ওসিকে তদন্তের নির্দেশ দেন।

বাকলিয়া থানার উপপরিদর্শক (এসআই) শাহীন ভূঁঞা মামলা দুটি তদন্ত করে গত ১৮ মার্চ আদালতে প্রতিবেদন দেন। প্রতিবেদনে ফরিদ ও তার চাচা শুক্কুরের বিরুদ্ধে অভিযোগের সত্যতা তুলে ধরা হয়। অন্যদিকে জাহাঙ্গীরের বিরুদ্ধে দায়ের করা মামলাটি মিথ্যা প্রতীয়মান হয়। এসআই শাহীন ভূঁঞা প্রতিবেদনে জাহাঙ্গীর ও তার মাকে হত্যার উদ্দেশ্যে হামলা করার তথ্য-প্রমাণ প্রতিবেদনে উল্লেখ করেন।

এরপর আদালত সোমবার ফরিদ ও তার চাচা আবদুল শুক্কুরের বিরুদ্ধে গ্রেপ্তারি পরোয়ানা জারি করেন।

একটি ভিডিওচিত্রে দেখা যায়, জাহাঙ্গীর আলমকে প্রকাশ্যে ফরিদ হুমকি দিচ্ছেন, প্রয়োজনে দিনে তিনটি করে মামলা করবেন। জাহাঙ্গীরকে ধ্বংস করবেন, শেষ করে ছাড়বেন- বলেও ফরিদ হুমকি দিচ্ছেন এমনটি দেখা গেছে ওই ভিডিওতে।

বাকলিয়া থানার এসআই মো. আলমগীর বলেন, ব্যবসায়ী জাহাঙ্গীর আলম ও তার পরিবারের ‍উপর হামলার ঘটনায় ফরিদ ও শুক্কুরকে গ্রেপ্তার করতে পরোয়ানা জারি করে আদালত। এ প্রেক্ষিতে তাদের গ্রেপ্তার করা হয়েছে।