২৩ মে ২০১৯, ৮ জ্যৈষ্ঠ ১৪২৬, বুধবার

শিশুদের স্বাধীনতার গল্প শোনালেন বিজয় বসাক

প্রকাশিতঃ বুধবার, মার্চ ২৭, ২০১৯, ৬:২৩ অপরাহ্ণ


চট্টগ্রাম: ‘স্বাধীনতার গল্প শোন’ শিরোনামে সাইন্টিস্ট জামাল নজরুল ইসলাম একাডেমির এক অনুষ্ঠানে শিশুদের যুদ্ধদিনের গল্প শুনিয়েছেন চট্টগ্রাম মহানগর পুলিশের উপ-কমিশনার (উত্তর) বিজয় বসাক।

বুধবার সকালে চট্টগ্রাম নগরের পাঁচলাইশ থানাধীন মুরাদপুর মোড়ের অদূরে একাডেমি প্রাঙ্গণে আয়োজিত উক্ত অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি ছিলেন মহানগর পুলিশের ঊর্ধ্বতন এ কর্মকর্তা।

২৬ মার্চ বাংলাদেশের স্বাধীনতা ঘোষণা করা হয়েছিলো। কীভাবে সেই ঘোষণা দেয়া হয়েছিল, তা শিশুদের জানান বিজয় বসাক। এই প্রজন্মের শিশুরাও আগ্রহ নিয়ে শুনেছে মুক্তিযুদ্ধের নানা গল্প।

পুলিশ কর্মকর্তা বিজয় বসাক বলেন, স্বাধীনতার আগের ঘটনাগুলো পাকিস্তানিদের অত্যাচার নিপীড়ন আর প্রবঞ্চনার গল্প। পাকিস্তানিরা পদে পদে আমাদেরকে নিপীড়ন করেছে। এই নির্যাতন, নিষ্পেষণের বিরুদ্ধে রুখে দাঁড়িয়েছিলেন আমাদের জাতির জনক, হাজার বছরের শ্রেষ্ঠ বাঙালি বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান। কৈশোরে সরাসরি সরকারের বিরুদ্ধে বিদ্রোহ করেছিলেন বঙ্গবন্ধু। কৈশোরে তাঁকে জেলে যেতে হয়েছে। জীবনের ১৪টি বছর তিনি জেলে কাটিয়েছেন শুধু আমাদের মুখে হাসি ফোটাবেন বলে।

তিনি বলেন, এবারের সংগ্রাম আমাদের মুক্তির সংগ্রাম, এবারের সংগ্রাম আমাদের স্বাধীনতার সংগ্রাম। এই কথাটি বলার মত সাহস, একজন ব্যক্তির ছিল, তিনি আমাদের বঙ্গবন্ধু। তাঁর একটি হাতের তর্জনী থামিয়ে দিলো পাকিস্তানিদের সব গর্জন। বঙ্গবন্ধুর একক নির্দেশনায় ২৬ মার্চ বাঙালি জাতি পাকিস্তানি হানাদার বাহিনীর বিরুদ্ধে যুদ্ধ শুরু করলো।

বিজয় বসাক বলেন, পাকিস্তানিদের পরিকল্পনা ছিল ভয়ঙ্কর, রাতের আঁধারে হামলে পড়ে আমাদের দেশের রাজনৈতিক নেতা আর প্রতিবাদী মানুষগুলোকে নিশ্চিহ্ন করে দিতে চেয়েছিলো। সে কাপুরুষোচিত পরিকল্পনা তারা বাস্তবায়নও করেছিল। ইতিহাসের জঘন্যতম এই হামলার নামও দিয়েছিলো ওরা- ‘অপারেশন সার্চলাইট’! রাজারবাগ পুলিশ লাইনে ওই রাতেই থ্রি নট থ্রি রাইফেল নিয়ে পাকিস্তানিদের বিরুদ্ধে প্রথম প্রতিরোধ শুরু হয়৷

তিনি বলেন, এর আগে রাজারবাগের পুলিশ সদস্যরা সকাল থেকেই মানসিকভাবে প্রস্তুত ছিল যে, ভয়ংকর কিছু হতে পারে। ২৫ মার্চ রাতে স্বাধীনতা যুদ্ধের প্রথম গুলিটি কিন্তু বাংলাদেশ পুলিশ বাহিনীর পক্ষ থেকেই পাকিস্তানিদের বিরুদ্ধে ছোড়া হয়েছিল। সেদিন অনেক পুলিশ সদস্য দেশের জন্য জীবন দিয়েছিলেন। মুক্তিযুদ্ধের প্রথম শহীদ হয়েছিলেন পুলিশ বাহিনীর সদস্যরা। সে কারণে পুলিশ বাহিনীর সদস্য হিসেবে আমিও গর্ববোধ করি।

বিজয় বসাক বলেন, অপারেশন সার্চলাইটের হত্যাযজ্ঞের কারণে বাঙালিরা ভয় পাওয়ার পরিবর্তে উল্টো শ্লোগান ধরলো; সঙ্গে হাতে তুলে নিল অস্ত্র। বিপুল বিক্রমে ঝাঁপিয়ে পড়লো মুক্তিযুদ্ধে। নভেম্বরের শেষে সে যুদ্ধে আমাদের সঙ্গে যোগ দিলো ভারতও। পাক হানাদাররা আমাদের আক্রমণ আর সহ্য করতে পারলো না। ফলাফল- আমাদের বিজয়। ১৬ ডিসেম্বর ১৯৭১। সালে ৯৩ হাজার সৈন্যসহ পাকিস্তানি বাহিনীর পূর্বাঞ্চলীয় কমান্ডের অধিনায়ক জেনারেল এ এ কে নিয়াজি আত্মসমর্পণ করলেন। আমাদের মুক্তিযুদ্ধ শেষ হলো; বাংলাদেশ স্বাধীন হলো।

পাকিস্তানিদের সঙ্গে দূরত্ব রেখে চলেন জানিয়ে বিজয় বসাক বলেন, শান্তিরক্ষা মিশনে গিয়ে পাকিস্তানের নাগরিকদের কাছে পেলেও তাদের সঙ্গে হাত মেলাইনি। শুধু একজন পাকিস্তানি অফিসারের সাথে সম্পর্ক ছিল। কারণ একাত্তরে তাদের সেনারা আমাদের উপর যে অন্যায় করেছে, সেজন্য তিনি ব্যক্তিগতভাবে আমার কাছে ক্ষমা চেয়েছিলেন।

সাইন্টিস্ট জামাল নজরুল ইসলাম একাডেমির চেয়ারম্যান ছিদ্দিকুর রহমানের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন নগর পুলিশের সহকারী কমিশনার (পাঁচলাইশ জোন) দেবদূত মজুমদার, পাঁচলাইশ মডেল থানার ওসি আবুল কাশেম ভুঁইয়া।

এর আগে সাইন্টিস্ট জামাল নজরুল ইসলাম একাডেমি প্রাঙ্গণে শিশু শিক্ষার্থীদের আঁকা ছবিগুলো ঘুরে দেখেন আমন্ত্রিত অতিথিরা। পরে বিভিন্ন ইভেন্টে বিজয়ীদের মাঝে পুরস্কার প্রদান করেন তারা।