২৩ মে ২০১৯, ৮ জ্যৈষ্ঠ ১৪২৬, বুধবার

এফ আর টাওয়ারের আগুন: যেভাবে বেঁচে গেলেন চট্টগ্রামের সালমান করিম

প্রকাশিতঃ বৃহস্পতিবার, মার্চ ২৮, ২০১৯, ১১:৪১ অপরাহ্ণ


চট্টগ্রাম: ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ডের পর বনানীর বহুতল ভবন এফ আর টাওয়ার থেকে পাশের আরেক ভবনে লাফিয়ে বেঁচে গেছেন চট্টগ্রামের তরুণ সালমান করিম।

এফ আর টাওয়ারের ১৩ তলায় ডার্ড গ্রুপ নামের একটি বেসরকারি প্রতিষ্ঠানে কর্মরত সালমান করিম। তিনি চ্যানেল নাইনের চট্টগ্রাম ব্যুরোর ইনচার্জ হিসেবে দায়িত্ব পালন করা ফায়সাল করিমের ছোট ভাই; ফায়সাল করিম এখন চীনের জনপ্রিয় উহান টিভি সিক্স’র ইংরেজি সংবাদ পাঠক হিসেবে কাজ করছেন।

২২ তলা বাণিজ্যিক ভবন এফ আর টাওয়ারে বৃহস্পতিবার দুপুর ১টার দিকে আগুন লাগে। তখন ভবনের বিভিন্ন অফিসে অসংখ্য কর্মী ছিল।

সে সময়ের চিত্র তুলে ধরে সালমান করিম একুশে পত্রিকাকে বলেন, আমার অফিস ১৩ তলায়। আগুন ধরেছে হয়তো পঞ্চম বা ৬ষ্ঠ তলায়। আগুন ধরার সাথে সাথেই ধোঁয়া উপরের দিকে উঠছিল সিঁড়ি দিয়ে। তখন অলরেডি ১৩ তলায় ধোঁয়া পৌছে গেছে। কারেন্টও চলে গেল। দ্রুত ব্যাগ নিয়ে দৌড় শুরু করলাম।

‘তারপর আমরা জরুরী সিঁড়ি দিয়ে নিচে নামা শুরু করলাম। নিচে নামতে নামতে দেখি, আমাদের সিদ্ধান্ত ভুল। নিচে ধোঁয়ার প্রেসার বেশী। তখন আমরা আবার উপরে উঠা শুরু করেছি। উঠতে উঠতে আমরা ২২ তলার ছাদে উঠে গেলাম।’

সালমান করিম একুশে পত্রিকাকে বলেন, এফআর টাওয়ারের কাছের ভবন আহমেদ টাওয়ার একেবারে লাগানো। আমাদের অফিসের ভবনের ছাদ থেকে লাফ দিয়ে পাশের ওই ভবনে চলে গেলাম। এরপর ওই ভবনের সিঁড়ি দিয়ে আমরা নিচে নেমে গেলাম। আমার সাথে আরো দুজন লাফ দিয়েছে দেখলাম। এভাবে আগে-পরে লাফ অনেকজনই দিয়েছে।

নিচে নেমে আসার ২০-৩০ সেকেন্ডের মধ্যেই আগুন ভয়াবহ আকার নিয়েছে বলেও জানান তিনি।

চট্টগ্রামের সন্তান সালমান করিম একুশে পত্রিকাকে বলেন, নামার পর দেখলাম, আমাদের সহকর্মীদের মধ্যে যারা ২০-৩০ সেকেন্ড দেরী করায় আটকে গিয়েছেন, তারা সেখানে দাঁড়ানো। তারা উদ্ধারের আকুতি জানিয়ে হাত দেখাচ্ছিলেন, ভয়াবহ অবস্থা।

‘ভবনের কেউ কেউ নিচে লাফ দিয়েছে দেখলাম। তবে আমার অফিসের কেউ লাফ দেয়নি, ২৫-৩০ জন আটকে ছিল। তাদেরকে ফায়ার সার্ভিসের কর্মীরা ক্রেন দিয়ে নামিয়ে এনেছে। আমাদের অফিসের একজন একটু গুরুতর আহত হয়েছেন। ধোঁয়ার কারণে শ্বাসনালীতে সমস্যা হয়েছে। অন্যরা সামান্য আহত হয়েছেন।’ যোগ করেন সালমান করিম।

এদিকে বৃহস্পতিবার দুপুরে এ অগ্নিকাণ্ডের ঘটনায় সন্ধ্যা পর্যন্ত ২৫ জনের মৃত্যুর খবর পাওয়া গেছে। তাদের মৃত্যু হয়েছে আগুনে পুড়ে, ধোঁয়ায় শ্বাসরোধ হয়ে অথবা যাদের মধ্যে কয়েকজনের মৃত্যু হয়েছে বাঁচার চেষ্টায় লাফিয়ে পড়ে।

এই সংখ্যা আরও বাড়বে জানিয়ে ফায়ার সার্ভিসের ঢাকা বিভাগীয় উপ পরিচালক দেবাশিষ বর্ধন বলেন, ভবনের ভেতরে উদ্ধার কাজ চলছে, সেখানে আরও কিছু মৃতদেহ আছে।

কামাল আতাতুর্ক এভিনিউয়ের ৩২ নম্বর হোল্ডিংয়ে ২২ তলা ওই বাণিজ্যিক ভবনের সবগুলো ফ্লোরেই দোকান ও বিভিন্ন ব্যবসা প্রতিষ্ঠানের অফিস। সপ্তাহের শেষ দিন দুপুরে লাঞ্চ ব্রেকের আগে আগে সব অফিসেই তখন দারুণ ব্যস্ততা।

ফায়ার সার্ভিস নিয়ন্ত্রণ কক্ষের কর্মকর্তা এরশাদ হোসাইন জানান, বেলা ১২টা ৫২ মিনিটে আগুন লাগার খবর পেয়ে প্রথমে তাদের ১৩টি ইউনিট ঘটনাস্থলে গিয়ে কাজ শুরু করে। পরে আরও ১২টি ইউনিট তাদের সঙ্গে যোগ দেয়।

চার ঘণ্টা চেষ্টার পর বিকাল পৌঁনে ৫টার দিকে আগুন নিয়ন্ত্রণে আসার কথা জানান ফায়ার সার্ভিসের কর্মকর্তারা। তবে তখনও কয়েকটি ফ্লোর থেকে আগুনের শিখা দেখা যাচ্ছিল, ধোঁয়া বের হচ্ছিল ভবনের বিভিন্ন অংশ থেকে।

অগ্নিকাণ্ড থেকে বেঁচে ফেরা কেউ কেউ বৈদ্যুতিক গোলযোগ থেকে আগুন লাগার ধারণা দিলেও দেবাশিষ বর্ধন অগ্নিকাণ্ডের কারণ সম্পর্কে নিশ্চিত করে কিছু বলতে চাননি।