২৪ মে ২০১৯, ৯ জ্যৈষ্ঠ ১৪২৬, বৃহস্পতিবার

‘কর্মক্ষেত্রে অধিকার প্রতিষ্ঠা হলে অর্থনৈতিক উন্নয়নের দ্বার উন্মোচন হবে’

প্রকাশিতঃ শুক্রবার, মার্চ ২৯, ২০১৯, ৮:২০ অপরাহ্ণ

চট্টগ্রাম : চট্টগ্রামের অতিরিক্ত বিভাগীয় কমিশনার (উন্নয়ন) মো. নুরুল আলম নিজামী (যুগ্ম সচিব) বলেছেন, উন্নয়নের স্বপ্নদ্রষ্টা ছিলেন জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান। তাঁরই সুযোগ্য কন্যা মাননীয় প্রধানমন্ত্রী জননেত্রী শেখ হাসিনা টানা তিনবার ক্ষমতায় থেকে দেশের সামগ্রিক উন্নয়নে নিরলসভাবে কাজ করে যাচ্ছেন। বেকারত্ব দূরীকরণ ও পিছিয়ে পড়া জনগোষ্ঠীকে স্বাবলম্বী করতে প্রধানমন্ত্রী সারাদেশে বিভিন্ন কর্মমুখী ট্রেড ভিত্তিক কারিগরি প্রশিক্ষণের ব্যবস্থা করেছেন।

সরকারের সার্বিক সহযোগিতায় বেসরকারি সংস্থাগুলো ও এ ধরনের কর্মদক্ষতামূলক প্রশিক্ষণের আয়োজন করায় দেশের গার্মেন্টস সেক্টরসহ বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানে লাখ লাখ মানুষের কর্মসংস্থানের সুযোগ সৃষ্টি হচ্ছে। এতে করে শিশু শ্রম অনেকটা হ্রাস পেয়েছে। শিশুরা ঝুঁকির মধ্যে থাকুক তা আমরা কেউ কামনা করি না বিধায় তাদের জন্য কারিগরি ও দক্ষতামূলক প্রশিক্ষণের আয়োজন। কর্মক্ষেত্রে নিজের অধিকার নিজে প্রতিষ্ঠা করতে পারলে একদিকে দেশের অর্থনৈতিক উন্নয়নের দ্বার উন্মোচন হবে, অন্যদিকে জাতির পিতার স্বপ্নের সোনার বাংলাদেশ বিনির্মাণ হবে। এজন্য সরকারের উন্নয়নে মহাসড়কে সবাইকে শামিল হতে হবে। একই সাথে শিশুশ্রম, বাল্যবিবাহ, ইভটিজিং ও নারী নির্যাতন রোধে সবাইকে সচেতন থাকতে হবে।

চট্টগ্রাম শিশু একাডেমিতে ওয়ার্ল্ড ভিশনের এমপাওয়ারিং দি ওয়ার্কিং চিলড্রেন থ্রো মবিলাইজেশন এন্ড ক্যাপাসিটি বিল্ডিং এপ্রোচ প্রজেক্ট আয়োজিত পার্টনার সংস্থা-অপরাজেয় বাংলাদেশ ও ব্রাইট বাংলাদেশ ফোরাম’র কারিগরি প্রশিক্ষণপ্রাপ্ত কিশোর-কিশোরীদের মাঝে সনদপত্র বিতরণ অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।

তিনি বলেন, দেশ থেকে পোশাক রপ্তানি ও প্রবাসীদের প্রেরণকৃত রেমিটেন্সের মাধ্যমে প্রচুর বৈদেশিক মুদ্রা দেশের অর্থনীতিতে যুক্ত হচ্ছে। সরকারের নিজস্ব অর্থায়নে পদ্মা সেতু, কর্ণফুলী টানেল, রূপপুর পারমানবিক বিদ্যুৎ কেন্দ্র, মহেশখালীর মাতারবাড়িতে কয়লা বিদ্যুৎ কেন্দ্র, এলিভেটেড এক্সেপ্রেসওয়ে, মীরসরাই অর্থনৈতিক জোন, দোহাজারী টু ঘুমধুম পর্যন্ত রেললাইন নির্মাণসহ অসংখ্য বড়-ছোট প্রকল্পের কাজ দৃশ্যমান হচ্ছে। বেড়েছে শিক্ষার হার, মাথাপিছু আয়, বিদ্যুৎ উৎপাদন, জিডিপি ও হ্রাস পেয়েছে মাতৃ ও শিশু মৃত্যুর হার, দারিদ্র্যতা ও বেকারত্ব। সরকারের উন্নয়নের এ ধারা অব্যাহত থাকলে আগামী ২০২১ সালের আগে এদেশ মধ্যম আয়ের, ২০৩০ সালের মধ্যে এসডিজি অর্জন ও ২০৪১ সালের মধ্যে বাংলাদেশ উন্নত রাষ্ট্রে পরিণত হবে।

ওয়ার্ল্ড ভিশন বাংলাদেশ’র সেন্ট্রাল ইস্টার্ন রিজিওনের এপিসি ম্যানেজার আগষ্টিন প্রভাঞ্জন হীরার সভাপতিত্বে ও শ্রমজীবী শিশুদের ক্ষমতায়ন প্রকল্পের প্রকল্প কর্মকর্তা চন্দন কুমার বড়ুয়ার সঞ্চালনায় সনদপত্র বিতরণ অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি ছিলেন চট্টগ্রাম সিটি কর্পোরেশনের সংরক্ষিত ওয়ার্ডের কাউন্সিলর ফারজানা পারভীন, শিশু একাডেমির জেলা শিশু বিষয়ক কর্মকর্তা নারগীস সুলতানা, সমাজ সেবা অধিদপ্তর প্রবেশন অফিসার মোছাম্মৎ পারুমা বেগম ও স্কাস টেকনিক্যাল ট্রেনিং সেন্টারের (এসটিটিসি) অধ্যক্ষ মারুফ বিল্লাহ জাবেদ।

স্বাগত বক্তব্য রাখেন ওয়ার্ল্ড ভিশন বাংলাদেশ’র চট্টগ্রামের প্রজেক্ট ম্যানেজার রবার্ট কমল সরকার। শুভেচ্ছা বক্তব্য রাখেন ব্রাইট বাংলাদেশ ফোরাম’র প্রধান নির্বাহী উৎপল বড়ুয়া। মাল্টিমিডিয়া প্রজেক্টরের মাধ্যমে শিশু শ্রম হ্রাসকরণ প্রকল্প উপস্থাপন করেন ওয়ার্ল্ড ভিশন বাংলাদেশ’র মনিটরিং অফিসার মো. রবিউল আলম।

অন্যান্যের মধ্যে বক্তব্য রাখেন বেসরকারি উন্নয়ন সংস্থা অপরাজেয় বাংলাদেশ’র চট্টগ্রাম জোনের ইনচার্জ মো. মাহাবুবুল আলম, হোয়াইট ফ্যাশন প্রতিষ্ঠানের কর্মকর্তা শ্যামল নাহা, স্কাস’র প্রতিনিধি একে আজাদ ও শ্রমজীবী শিশুদের ক্ষমতায়ন প্রকল্পের সুপারভাইজার মো. ফোরকান।

অনুষ্ঠানে প্রশিক্ষণপ্রাপ্ত ও চাকরিপ্রাপ্তদের মধ্যে নিজের অনুভূতি ব্যক্ত করেন তাসলিমা সুলতানা প্রিয়া ও জান্নাতুল মাওয়া। শেষে অপরাজেয় বাংলাদেশ ও ব্রাইট বাংলাদেশ ফোরাম’র কারিগরি প্রশিক্ষণপ্রাপ্ত ১৫০ জন কিশোর-কিশোরীর মাঝে সনদপত্র তুলে দেন অনুষ্ঠানের প্রধান অতিথি অতিরিক্ত বিভাগীয় কমিশনার (উন্নয়ন) মো. নুরুল আলম নিজামী।

একুশে/প্রেসবিজ্ঞপ্তি/এটি