২৩ মে ২০১৯, ৮ জ্যৈষ্ঠ ১৪২৬, বুধবার

সরকার দৌড়ছে, আমরা দ্রুতগতিতে হাঁটছিও না: মেয়র নাছির

প্রকাশিতঃ শুক্রবার, মার্চ ২৯, ২০১৯, ১০:০০ অপরাহ্ণ


চট্টগ্রাম: সমৃদ্ধ দেশ গঠনের জন্য নাগরিকদের কাছ থেকে ‘কার্যকর ভূমিকা’ আশা করছেন চট্টগ্রাম সিটির মেয়র আ জ ম নাছির উদ্দীন।

শুক্রবার সন্ধ্যায় নগরের পাঁচলাইশ থানাধীন সুগন্ধা আবাসিক এলাকার ১ নম্বর সড়কে প্রবর্তক সংঘের নতুন ৬ তলা ৫০০ ছাত্রীর আবাসিক হোস্টেল ‘মৈত্রেয়ী’ ভবনের উদ্বোধন অনুষ্ঠানে তিনি এ কথা বলেন।

অনুষ্ঠানের প্রধান বক্তা মেয়র আ জ ম নাছির উদ্দীন বলেন, পৃথিবীর যে সমস্ত দেশ সমৃদ্ধি লাভ করেছে, সেখানে সে সব দেশের নাগরিকদের একটা কার্যকর ভূমিকা ছিল। কিন্তু আমাদের দেশের নাগরিকদের এখনো পর্যন্ত সে ধরনের কার্যকর ভূমিকায় অবতীর্ণ হতে দেখিনি। এখানেই প্রধান প্রতিবন্ধকতা।

তিনি বলেন, সরকার দৌড়ছে ১০০ মাইল গতিতে। কিন্তু অনেক সময় দেখা যায়, আমরা একই বিষয়ে দ্রুতগতিতে হাঁটছিও না। তাহলে তো দেশকে কাঙ্ক্ষিত লক্ষে পৌঁছানো কঠিন হবে, চ্যালেঞ্জিং হবে। আমরা অনেক সময় সংকীর্ণতার পরিচয় দিই। আমরা আত্মসমালোচনা করিনা। আমরা সবসময় পরচর্চা, পরনিন্দা করি। পরনির্ভর মানসিকতার পরিচয় দিয়ে থাকি।

নাগরিক দায়িত্ব পালনের জন্য সবাইকে অঙ্গীকার করার আহ্বান জানান মেয়র আ জ ম নাছির।

তিনি বলেন, বাঙালি জাতিকে নেতৃত্বহীন করার জন্য বঙ্গবন্ধুকে হত্যা করা হয়েছে। এরপর যারা রাষ্ট্রীয় ক্ষমতা দখল করেছিলেন, তারা পাকিস্তানের সমর্থক ছিলেন। যার কারণে একটি প্রজন্ম মুক্তিযুদ্ধের সঠিক ইতিহাস জানা থেকে বঞ্চিত হয়েছে। শুধু তাই নয়, তাদের সামনে বিকৃত ইতিহাস উপস্থাপন করা হয়েছিল। জাতিকে বিভ্রান্ত করা হয়েছিল।

মেয়র বলেন, এক-এগারোর সময় ক্ষতিপূরণ ছাড়াই প্রবর্তক সংঘের জায়গা অধিগ্রহণ করে সিডিএ’র সড়ক প্রশস্ত করার বিষয়টি আপনারা বলেছেন। এটা নিয়ে আমি তথ্যমন্ত্রী মহোদয়ের সঙ্গে কথা বলেছি। তিনি পূর্তমন্ত্রী মহোদয়ের সঙ্গে যোগাযোগ করে এ বিষয়ে কার্যকর ব্যবস্থা গ্রহণ করবেন বলেছেন। যেহেতু রেকর্ড আছে, ক্ষতিপূরণ না পাওয়ার কোন যৌক্তিক কারণ নেই। ক্ষতিপূরণ অবশ্যই পাবেন।

তিনি বলেন, প্রবর্তক সংঘের বর্তমান নেতৃত্বের দক্ষতায় উন্নয়নের ছোঁয়া লেগেছে। একসময় জীর্ণ ছিল। আর্থিক সংকট কাটাতে আয়বর্ধক প্রকল্প, সরকারের সুদৃষ্টির কারণে সংঘের আমূল পরিবর্তন হয়েছে। প্রবর্তক সংঘে যাওয়ার সড়কটি যতদ্রুত সম্ভব করে দেব। এটা আপনারা নিশ্চিত থাকতে পারেন।

মেয়র আ জ ম নাছির বলেন, প্রবর্তক সংঘ শিক্ষা প্রতিষ্ঠানটি সুন্দর ও মনোরম পরিবেশে স্থাপিত। আমি অনুরোধ করবো, এখানে শিক্ষার মান আরো বৃদ্ধি করার জন্য। চট্টগ্রাম নগরীতে যতবেশী মানসম্পন্ন শিক্ষা প্রতিষ্ঠান আমরা গড়ে তুলতে পারবো, ততই চাপ কমবে বিশেষ কিছু শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের উপর। সন্তানদের একটি ভালো স্কুলে পড়াতে অভিভাবকদের যে গলদঘর্ম হতে হয়, এ থেকে উনারা রক্ষা পাবেন। এত চাপ আর নিতে হবে না।

প্রবর্তক সংঘের সভাপতি অ্যাডভোকেট সুভাষ চন্দ্র লালার সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে স্বাগত বক্তব্য দেন সম্পাদক তিনকড়ি চক্রবর্তী।

অন্যদের মধ্যে বক্তব্য দেন সংঘের সহ-সভাপতি প্রফেসর রণজিৎ কুমার ধর, শুলকবহর ওয়ার্ডের কাউন্সিলর মোরশেদুল আলম প্রমুখ।

এর আগে ফলক উন্মোচন করে ‘মৈত্রেয়ী’ ভবনের উদ্বোধন করেন তথ্যমন্ত্রী ড. হাছান মাহমুদ।