২৬ জুন ২০১৯, ১১ আষাঢ় ১৪২৬, মঙ্গলবার

‘বেয়াদবি’ করায় প্রকৌশলীকে ‘বকাঝকা’ করেছি : মেয়র (ভিডিও)

প্রকাশিতঃ মঙ্গলবার, এপ্রিল ২, ২০১৯, ৮:২৪ অপরাহ্ণ

চট্টগ্রাম : জাতীয় গৃহায়ন কর্তৃপক্ষের সহকারী প্রকৌশলী আশ্রাফুজ্জামান পলাশকে মারধরের অভিযোগ অস্বীকার করেছেন চট্টগ্রাম সিটি মেয়র আ জ ম নাছির উদ্দীন। তিনি বলেন, কথার একপর্যায়ে ‘বেয়াদবি’ করায় তাকে ‘বকাঝকা’ করেছি।

একটি সড়কের পাশে নালা নির্মাণ বিষয়ে বিরোধ নিয়ে মেয়রের সঙ্গে আলোচনা করতে সোমবার সন্ধ্যা ৭টার দিকে নগর ভবনের আবদুস সাত্তার মিলনায়তনে যান গৃহায়ন কর্তৃপক্ষের চট্টগ্রাম সার্কেলের ছয় কর্মকর্তা।

তাদের একজন ডিপ্লোমা প্রকৌশলী আশ্রাফুজ্জামান। তার অভিযোগ, সড়কের পাশে ‘অবৈধ দখল’ বিষয়ে কাটাকাটির জের ধরে মেয়র ও এক ওয়ার্ড কাউন্সিলর তাকে মারধর করেন।

এই অবস্থায় মঙ্গলবার বিকালে নগর ভবনে সাংবাদিকদের ডেকে নিয়ে পুরো ঘটনা তুলে ধরেন মেয়র নাছির।

মেয়র বলেন, মূলত ওই জমি সড়ক ও জনপথ বিভাগের। তারা সড়ক নির্মাণের জন্য গৃহায়ন কর্তৃপক্ষকে জমি বুঝিয়ে দিয়েছিল, গৃহায়ন কর্তৃপক্ষ তা সিটি কর্পোরেশনকে দেয়।

মেয়র বলেন, ‘কিন্তু পুরো জমি যে সড়কের জন্য, সেটা গোপন করে তারা ১২০ ফুট জমি আমাদের দিয়েছিল। এরপর ২০১০ সালে চট্টগ্রাম অঞ্চলের সেসময়ের তত্ত্বাবধায়ক প্রকৌশলী গৃহায়নের চেয়ারম্যান বরাবরে রাস্তার পাশে কাঁচা বাজার বসানোর অনুমতি চেয়ে আবেদন করে। কিন্তু অনুমোদন পায়নি।

মেয়র নাছির বলেন, সড়কের পাশে ঝুপড়ি আকারে একটি কাঁচাবাজার ছিল। এবিএম মহিউদ্দিন চৌধুরী মেয়র থাকাকালে সেটা একবার এবং এরপর আরও ৩-৪বার উচ্ছেদ করা হয়।

বর্তমানে পোর্ট কানেকটিং সড়ক সম্প্রসারণ হচ্ছে এবং সড়কের পাশের অংশে ড্রেন করা হচ্ছে। পুরো সড়কে ড্রেনের কাজ শেষ, ওই অংশে ছাড়া। সেখানে গৃহায়নের লোকরা বাধা দিচ্ছে। এটা আমি জানতাম না। গতকাল এলাকাবাসী কমিটি করে আমার কাছে এসে বিষয়টি অবহিত করে।- যোগ করেন মেয়র।

সিটি মেয়র ওই এলাকার সড়কের একটি মানচিত্র গণমাধ্যমকর্মীদের দেখিয়ে বলেন, ‘গৃহায়নের লোকজন আবাসিক এলাকা দিয়ে ঘুরিয়ে ড্রেন করার কথা বলছিল। ড্রেন সোজা না হলে পানি ফুলে বর্ষায় জলাবদ্ধতা হবে। ফোনে এ বিষয়ে কথা হলে তাদের আমি সন্ধ্যায় অফিসে আসতে বলি।

বৈঠকে আমাদের এস্টেট শাখার একজন বলেন, উনারা (গৃহায়ন) ড্রেন ঘুরিয়ে দিতে চান। তখন পেছন থেকে একজন বলে ওঠেন, ‘আপনি আপনার মতো বললে হবে নাকি? আমরা ১২০ ফুটই হস্তান্তর করেছি।

মেয়র বলেন, “তখন সে এগিয়ে আসে কথা বলার জন্য। তার নাম নাকি আশ্রাফুজ্জামান পলাশ। আমি বললাম, এতদিন তো সেখানে বাজার ছিল, কোনো ব্যবস্থা নেয়া হয়নি কেন? সে উত্তর দেয়, ‘সিটি করপোরেশনের জায়গা হকারদের দখলে আছে না?’

এটা তো তার বিষয় না। সে বেয়াদবি করেছে। বেয়াদবি করার দুঃসাহস তাকে কে দিল? বাজার বসিয়ে সেখান থেকে তারা নিয়মিত আয় করত। বলেন মেয়র।

মারধরের অভিযোগের বিষয়ে প্রশ্নে করলে মেয়র নাছির বলেন, ‘তাকে বকাঝকা করেছি। মারধরের প্রশ্নই আসে না। অপরাধ আড়াল করার জন্য এখন সে নানা কথা বলছে।’

এই প্রকৌশলীর বিরুদ্ধে নানা অভিযোগ তুলে মেয়র বলেন, ‘তার বিরুদ্ধে অনেকে টেলিফোনে অনেক অভিযোগ করেছে। এ বিষয়ে যেখানে জানানো প্রয়োজন, জানানো হবে।’

একুশে/এসসি/এটি