২৩ মে ২০১৯, ৮ জ্যৈষ্ঠ ১৪২৬, বুধবার

চলাচলের পথ বন্ধ করতেই রাস্তার উপর দেয়া হচ্ছে কবর!

প্রকাশিতঃ শুক্রবার, এপ্রিল ৫, ২০১৯, ১২:৪৪ পূর্বাহ্ণ


মো. আলাউদ্দীন, হাটহাজারী (চট্টগ্রাম): চট্টগ্রামের হাটহাজারীতে পুর্ব ধলই গ্রামে শহীদ কাজী আহমেদ নেওয়াজ শ্যামলের নামানুসারে করা একটি রাস্তা দিয়ে যাতায়াতের পথ বন্ধ করতে সেখানে মৃত মানুষকে দাফন করা হচ্ছে বলে অভিযোগ পাওয়া গেছে।

সরেজমিনে গিয়ে দেখা যায়, পুকুরের পাড় দিয়ে তৈরী করা রাস্তার পূর্ব পাশে কবরস্থান আর পুকুরের পশ্চিম পাড়ে মসজিদ ও কবরস্থান বিদ্যমান। আর সড়কের একপাশে পানি চলাচলের রাস্তার উপর কনক্রিট ও সিমেন্টের তৈরী স্ল্যাব দিয়ে তৈরী করা হয়েছে একটি কালভার্ট। বর্তমানে এটি খুবই ঝুঁকিপুর্ণ অবস্থায় আছে।

উক্ত কবরস্থানে পর্যাপ্ত পরিমাণে জায়গা থাকার পরও শুধুমাত্র চলাচলের পথ বন্ধ করে দিতেই রাস্তার উপর কবর দেয়া হচ্ছে বলে অভিযোগ রয়েছে।

এ রাস্তা দিয়ে চলাচলকারীরা জানান, চট্টগ্রাম জেলা পরিষদের চেয়ারম্যান এম এ সালাম রাস্তাটি উন্নয়ন করে শহিদ কাজী শ্যামলের নামে নামকরণ করার জন্য ৫ লক্ষ টাকা বরাদ্দও দেন। রাস্তাটির উপর একের পর এক মৃত মানুষকে কবর দেয়ায় সাধারণ পথচারীসহ স্কুল, কলেজ ও মাদরাসা পড়ুয়া শিক্ষার্থীদের রাস্তাটি ব্যবহারে অসুবিধায় পড়তে হচ্ছে।

বর্তমানে কবর সরানো না গেলেও কবরের পশ্চিম পাশের গাছগুলো কেটে চলাচল উপযোগী রাস্তা করে দিতে প্রশাসনের কাছে দাবি জানান তারা।

জানতে চাইলে শহীদ কাজী শ্যামলের ভাতিজা কাজী হায়দার এবং কাজী আরাফাত জানান, তাদের মৌরশী সম্পত্তি তারা মসজিদ কর্তৃপক্ষকে দান করেছেন কবরস্থানের জন্য। তারা কবর দিয়ে যাতায়াতের কোনো রাস্তা বন্ধ করে প্রতিবন্ধকতা সৃষ্টি করছেন না। তাছাড়া সেখানে কোনো রাস্তা নেই বলেও দাবি করেন তারা।

কাজী হায়দার বলেন, আমাদের অজান্তে কে বা কারা এ কবরস্থানের উপর দিয়ে রাস্তা করার জন্য জেলা পরিষদ থেকে বরাদ্দ এনেছেন। এ কথা শুনেই আমরা জেলা পরিষদের চেয়ারম্যানের কাছে তা বাতিলের জন্য লিখিত অভিযোগ দিয়েছি। যদি তা বাতিল করা না হয় তবে এ ব্যাপারে আমরা আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ করবো।

স্থানীয় ইউপি সদস্য তহিদুল আনোয়ার জানান, একটি পক্ষ জেলা পরিষদ থেকে রাস্তা করার জন্য বরাদ্দ এনেছেন। কিন্তু শহিদ কাজী আহমেদ নেওয়াজ শ্যামলের পরিবার তা জেলা পরিষদের চেয়ারম্যানের সাথে কথা বলে বরাদ্দটি বাতিল করেছে বলে আমি শুনেছি।

চট্টগ্রাম জেলা পরিষদের চেয়ারম্যান এম এ সালাম বলেন, সেখানে দুইটি পক্ষ হওয়াতে জেলা পরিষদের সদস্য শওকতুল আলমকে বিষয়টি তদন্ত করার জন্য দায়িত্ব দেয়া হয়েছে। তদন্ত করে এ ব্যাপারে ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

জেলা পরিষদের সদস্য মো. শওকতুল আলম বলেন, জামায়াত-শিবিরের হাতে নির্মমভাব নিহত হওয়া শহীদ কাজী আহমেদ নেওয়াজ শ্যামলের স্মৃতিকে ধরে রাখার জন্য তার নামে সড়কটির নামকরণ করার জন্য আমি ও স্থানীয়রা অনেক দৌড়াদৌড়ি করার পর জেলা পরিষদ থেকে ৫ লক্ষ টাকার বরাদ্দ পাওয়া যায়। কিন্তু শহিদ শ্যামলের পরিবারের পক্ষ থেকে রাস্তাটি করতে আপত্তি জানান। পরে কোন পক্ষই আমার সাথে আর যোগাযোগ করেনি। তবে তারা রাস্তা করতে না দিলে রাস্তার জন্য জেলা পরিষদ থেকে বরাদ্ধ দেয়া টাকা জেলা পরিষদে ফেরত পাঠানো হবে।