সোমবার, ২২ অক্টোবর ২০১৯, ৬ কার্তিক ১৪২৬

১৭ বছর পর ন্যায়বিচার পেয়ে আপ্লুত বৃদ্ধা

প্রকাশিতঃ রবিবার, এপ্রিল ৭, ২০১৯, ১০:১১ অপরাহ্ণ


চট্টগ্রাম: চট্টগ্রামের হাটহাজারীতে ভূয়া কাবিননামা দাখিল করে সম্পত্তি আত্মসাতের চেষ্টা করেছিল একটি চক্র। এ ঘটনায় ২০০২ সালে হাটহাজারী সিনিয়র সহকারী জজ আদালতে একটি মামলা করেন ভুক্তভোগী আবদুল লতিফ। বিচার না পেয়ে হতাশ লতিফ একপর্যায়ে স্ট্রোকে মারা গেলে মামলার হাল ধরেন তার বৃদ্ধা স্ত্রী হীরা বেগম। ১৭ বছর পর রোববার এ মামলায় ভুক্তভোগীর পক্ষে চূড়ান্ত রায় প্রচার করেছে চট্টগ্রামের একটি আদালত।

আদালত সূত্র জানায়, ২০০২ সালের ১৫ এপ্রিল জায়গা-জমি আত্মসাতের অভিযোগে নেজাম উদ্দিন, তার বাবা আব্দুল জব্বার ও ভাই বকতিয়ার হোসেনের বিরুদ্ধে চট্টগ্রামের হাটহাজারী সিনিয়র সহকারী জজ আদালতে একটি মামলা করেন আবদুল লতিফ। মামলায় ২০১০ সালের ৩১ মে আবদুল লতিফের পক্ষে চিরস্থায়ী নিষেধাজ্ঞার রায় ডিক্রি প্রদান করে আদালত।

২০০২ সালের ১৫ এপ্রিল একই বিষয়ে আবদুল জব্বার বাদী হয়ে আবদুল লতিফের বিরুদ্ধে একটি মামলা করেন; মামলাটি ২০১০ সালের ৩১ মে খারিজ হয়। উক্ত মামলা দুটির রায়ের বিরুদ্ধে জেলা জজ আদালতে আপীল করেন নেজাম উদ্দিন ও অন্যরা।

এরপর ২০১৩ সালের ৩০ সেপ্টেম্বর পূর্বসূরী মো. ইব্রাহীম মিঞা ও মোছাম্মৎ শাহজাদীর বিবাহের একটি নিকাহনামা দাখিল করেন নেজাম উদ্দিন। নিকাহনামায় বিয়ে রেজিষ্ট্রার ও কাজী অফিস হিসেবে হাটহাজারী (সদর), চট্টগ্রাম উল্লেখ করা হয়।

এছাড়াও ১৯৬৩ সালের ১৫ জানুয়ারিতে রেজিস্টার্ড সিরিয়াল নম্বর ৮৮, বালাম নম্বর ০১, পৃষ্ঠা নম্বর ৪৬ রেজিষ্ট্রি হয় বলে তথ্য আছে ওই নিকাহনামায়। সত্যায়িত অনুলিপিতে নিকাহনামার ব্যবহৃত ফরমটি সরকারী বিজি প্রেস থেকে ছাপানো হয় ১৯৯৮ সালে। কিন্তু নিকাহনামা ইস্যুর তারিখ দেওয়া আছে ফরমটি ছাপানোর প্রায় ৫ বছর আগে ১৯৯৪ সালের ১৭ ডিসেম্বর।

নিজাম উদ্দিনের মামলার আর্জির চারটি স্থানে মো. ইব্রাহীম মিঞার স্ত্রী হিসেবে জানাহারা বেগম উল্লেখ ছিল। ১৯৬৩ সালের জানুয়ারির ১৫ তারিখের মধ্যে ৪৬ পৃষ্ঠায় ৮৮ ক্রমিকের বিয়ে হওয়াসহ নানা গড়মিল তথ্যে সন্দেহ হয় প্রতিপক্ষের। নিকাহনামার সত্যতা সম্পর্কে খোঁজ নিয়ে জানতে পারেন নিকাহনামাটি জাল। আবেদনের প্রেক্ষিতে ১৯৭১ সালের পূর্বের কোন বিয়ে নিবন্ধন সংক্রান্তে তথ্য নেই বলে বলে জানান নিকাহনামায় উল্লেখিত চট্টগ্রামের হাটহাজরী সদর ইউনিয়নের রেজিষ্ট্রার ও কাজী জয়নাল আবেদীন। নিজাম উদ্দিনের দাখিল করা নিকাহনামাটি তার অফিস থেকে ইস্যু করা হয়নি বলেও জানান কাজী জয়নাল।

মামলা দুটি প্রথম যুগ্ম জেলা জজ আদালতে বিচারাধীন থাকা অবস্থায় ৪৩ বার সময়ের আবেদন দাখিল করেছেন নেজাম উদ্দিন ও অন্যরা। শেষবারের মতো আদালত সময় দিয়েছিলেন ২০১৪ সালে। এ সময়ের মধ্যে বিচার না পেয়ে বাদী আবদুল লতিফ স্ট্রোক করে মারাও যান। সর্বশেষ জানুয়ারি ২২ আপীল দুটি খারিজ করে দিয়েছিলেন প্রথম যুগ্ম জেলা জজ মোহাম্মদ জসিম উদ্দিন।

এই আদেশের রায় আজ রোববার প্রচার হওয়ার খবরে বৃদ্ধা হীরা বেগম আবেগ আপ্লুত হয়েছেন বলে জানান তার আইনজীবী আসাদুজ্জামান খাঁন। তিনি বলেন, ভুয়া কাবিননামা দাখিল করে সম্পত্তি আত্মসাতের চেষ্টা করেছিল একটি চক্র। ২০০২ থেকে ২০১৯ সাল পর্যন্ত আমরা ন্যায়বিচারের জন্য লড়েছি। বিচার না পাওয়ার হতাশায় আবদুল লতিফ স্ট্রোক করে মারা যান। তার বৃদ্ধা স্ত্রী হীরা বেগম ও এক ছেলে স্ট্রোক করেছেন। বিচারপ্রার্থীদের কাছে বিচার বিভাগ শেষ আশ্রয়স্থল। এ রায়ের মাধ্যমে ন্যায় বিচার প্রতিষ্ঠিত হয়েছে।