
চবি প্রতিনিধি: অস্ত্র মামলায় গ্রেপ্তার চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের (চবি) ৬ শিক্ষার্থীর মুক্তির দাবিতে ছাত্রলীগের একাংশের ডাকা চলমান অবরোধ কর্মসূচী আগামীকাল অব্যাহত থাকবে নাকি প্রত্যাহার হয়েছে- এই নিয়ে স্পষ্ট করে কিছু জানা যাচ্ছে না।
শিক্ষা প্রতিমন্ত্রী মুহিবুল হাসান চৌধুরী নওফেলের অনুসারী বিজয় ও সিএফসি গ্রুপের দুপক্ষের নেতারা অবরোধ অব্যাহত বা প্রত্যাহারের বিষয়ে এখনও স্পষ্ট করে কিছু বলেননি।
রোববার রাত সোয়া নয়টার দিকে সিএফসি গ্রুপের নেতা ও সাবেক সহ-সভাপতি রেজাউল হক রুবেল একুশে পত্রিকাকে বলেন, নওফেল ভাইয়ের সিদ্ধান্ত মোতাবেক আমরা অগ্রসর হবো। তিনি অবরোধ প্রত্যাহারের বিষয়ে যে সিদ্ধান্ত দেন সেটাই হবে।
তিনি বলেন, অবরোধ চলা বা প্রত্যাহারের ব্যাপারে এখনও কোন ফাইনাল সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়নি।
অপরদিকে বিজয় গ্রুপের নেতা ও সাবেক সাংগঠনিক সম্পাদক জাহাঙ্গির জীবন বলেন, প্রশাসনের মৌখিক সিদ্ধান্তে আমরা অবরোধ প্রত্যাহার করবো না। যতক্ষণ পর্যন্ত নেতা-কর্মীদের মুক্তির ব্যাপারে প্রশাসন কোন লিখিত বক্তব্য না দিচ্ছে ততক্ষণ পর্যন্ত অবরোধ চলবে।
অন্যদিকে চবি ছা্ত্রলীগের সাবেক সাধারণ সম্পাদক ফজলে রাব্বী সুজন রাতে সাংবাদিকদের জানান, চার দফা দাবিতে আমাদের শান্তিপূর্ণ আন্দোলন চলছিল। সে আন্দোলনে আমরা সফলও হয়েছি। বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন আমাদের দাবিগুলো মেনে নিয়েছে। মেনে নেয়ার পর আমাদের আন্দোলনকে ভিন্নখাতে প্রবাহিত করার জন্য আমাদের মধ্যে ঘাপটি মেরে থাকা জামাত-শিবিরের এজেন্টরা পুলিশের সাথে সংঘর্ষে জড়িয়েছে। যারা পুলিশের সাথে সংঘর্ষে জড়িয়েছে তাদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেয়ার জন্য আমরা বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনকে বলেছি।
প্রসঙ্গত অস্ত্র মামলায় আটক ছয় ছাত্রলীগ কর্মীর নিঃশর্ত মুক্তি, বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রক্টর এবং ওসি বেলালের প্রত্যাহারের দাবিতে রবিবার সকাল থেকে অনির্দিষ্টকালের জন্য অবরোধের ডাক দেয় চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয় (চবি) শাখা ছাত্রলীগের একাংশের নেতাকর্মীর।
রোববার সকাল ৮ টার আগে ষোলশহর রেল স্টেশনে শাটল ট্রেন আটকে দিয়ে আন্দোলন শুরু করে ছাত্রলীগ নেতাকর্মীরা। পরে সকাল ৮টা থেকে বিশ্ববিদ্যালয়ের জিরোপয়েন্ট এলাকায় প্রধান ফটক বন্ধ করে দিয়ে দুপুরে পুলিশের হস্তক্ষেপের আগ পর্যন্ত অবরোধ কর্মসূচী ও বিক্ষোভ সমাবেশ করে আন্দোলনকারীরা। পরে পুলিশের লাঠিচার্জ, জলকামান বর্ষণ ও টিয়ারসেলে সরে যায় অবরোধকারীরা।
