চট্টগ্রাম: ‘সে আমার বিয়ে করা বউ। আমাকে ফেলে চলে গেছে। তাই এসিড মেরেছি।’ কেন নিজের সাবেক স্ত্রী শেলী আক্তার ও তার মা হোসনে আরা বেগমকে ‘এসিড’ মেরেছেন- প্রশ্নে এ প্রতিবেদককে এমন উত্তর দিয়েছেন জানে আলম ওরফে জাহাঙ্গীর (৩০)। ঘুমন্ত অবস্থায় মা-মেয়েকে অ্যাসিডে ঝলসে দেয়ার মামলায় একমাত্র আসামি তিনি।
শুক্রবার বিকেলে চট্টগ্রাম মহানগর পুলিশের উপকমিশনার (দক্ষিণ) মোস্তাইন হোসেনের কার্যালয়ে জাহাঙ্গীর এসব কথা বলেন। এর আগে গত বৃহস্পতিবার তাকে রাজধানীর রূপনগর থানা এলাকা থেকে গ্রেফতার করা হয়।
এ উপলক্ষে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে উপকমিশনার (দক্ষিণ) মোস্তাইন হোসেন বলেন, শেলীর সাথে বছর পাঁচেক আগে অটোরিকশা চালক জাহাঙ্গীরের বিয়ে হয়। কিন্তু বনিবনা না হওয়ায় বছরখানেক আগে স্বামীকে তালাক দিয়ে চলে আসেন শেলী। কিন্তু জাহাঙ্গীর এখনো শেলীকে চায়। তালাক দেওয়ার প্রতিশোধ নিতে গত সোমবার ভোরে সিআরবির নব্যার বস্তিতে শেলীর বাড়িতে গিয়ে জানালার ফাঁক দিয়ে এসিড ছুড়ে মারে সে। এতে শেলীর মুখসহ শরীরের ১৫ শতাংশ ও তার মায়ের ১০ শতাংশ পুড়ে যায়।
তিনি বলেন, এরপর ঘটনাস্থল থেকে জাহাঙ্গীরের ফেলা যাওয়া অটোরিকশা ও জুতা জব্দ করা হয়। যথারীতি মামলা হলে পুলিশ তাকে ধরতে ফাঁদ পাতে। এরং অংশ হিসেবে রংপুরের মিঠাপুকুর এলাকায় তার গ্রামের বাড়িতে অভিযান চালিয়ে পুলিশ জানতে পারে সে ঢাকায় অবস্থান করছে। এরপর পুলিশের আরেকটি দল ঢাকার রূপনগর এলাকা থেকে বৃহস্পতিবার দুপুরে তাকে গ্রেফতার করে।
পুলিশ কর্মকর্তা মোস্তাইন হোসেন বলেন, সে এসিড কিভাবে সংগ্রহ করেছে তা আমরা খুঁজে বের করতে পারিনি। সে যদি অবৈধভাবে কারো কাছ থেকে এসিড সংগ্রহ করে থাকে, তাহলে সংশ্লিষ্টদের বিরুদ্ধেও ব্যবস্থা নেওয়া হবে। শনিবার তাকে আদালতে হাজির করা হবে।
এসময় উপস্থিত ছিলেন- নগর পুলিশের অতিরিক্ত উপকমিশনার (দক্ষিণ) শাহ মো. আব্দুর রউফ, কোতয়ালী জোনের সহকারি কমিশনার আব্দুর রহীম ও কোতয়ালি থানার পরিদর্শক (তদন্ত) নূর আহমদ প্রমুখ।
