কৃষকরাই বাংলার রিয়েল হিরো : ইউজিসি চেয়ারম্যান


চবি প্রতিনিধি: বিশ্ববিদ্যালয় মঞ্জুরী কমিশনের (ইউজিসি) চেয়ারম্যান অধ্যাপক আবদুল মান্নান বলেছেন, কৃষকরাই বাংলাদেশের রিয়েল হিরো। তারা আমাদের খাবার জোগায়। তারা নির্ভেজাল ও দূর্ণীতিমুক্ত।

শনিবার চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের ব্যবসায় প্রশাসন অনুষদ অডিটোরিয়ামে ‘বাংলাদেশ সোসাইটি ফর বায়োকেমেস্ট্রি এন্ড মলকিউলার বায়োলজি কনফারেন্স-২০১৯’ শীর্ষক সেমিনারে প্রধান অতিথির বক্তব্য এসব কথা বলেন তিনি।

ইউজিসি চেয়ারম্যান বলেন, শিল্প কারখানা ও অন্যান্য কারণে আজকে বাংলাদেশের প্রায় ১৫ শতাংশ কৃষিজ জমি হ্রাস পেয়েছে। এরপরও আজকে বাংলাদেশে আগের থেকে তিনগুণ বেশি খাদ্য উৎপাদন হচ্ছে। বর্তমান বাংলাদেশ খাদ্য উদ্বৃত্তের দেশ।

তিনি বলেন, বাংলাদেশ উন্নত হচ্ছে। অর্থনৈতিক সমৃদ্ধি সাধন করছে। কিন্তু এরপরও কিছু সমস্যা রয়েছে আমাদের। আমাদের প্রধান সমস্যা আমাদের শিক্ষিত সমাজ। কৃষক, রিকশাচালক দূর্ণীতি করে না।

বঙ্গবন্ধুর ভাষণের উদ্বৃতি দিয়ে তিনি বলেন, বঙ্গবন্ধু সোহরাওয়ার্দী উদ্যানে বলেছিলেন, কৃষক, শ্রমিক দূর্ণীতি করে না, দূর্ণীতি করে ৫ শতাংশ শিক্ষিত সমাজ। তিনি বলেন, শিক্ষকরা ক্লাশে যায় না কিন্তু মাস শেষে ঠিকই বেতন নেন। ক্লাশে গেলেও তারা বই দেখে পড়ান।

১৯৯৭ এ উত্তরবঙ্গে বন্যার এক স্মৃতিচারণ করে তিনি বলেন, ১৯৯৭ সালে বাংলাদেশে ভয়াবহ বন্যা হয়েছিলো। বিবিসির রিপোর্ট অনুযায়ী একজন মানুষও খাবারের ঘাটতির জন্য মারা যায়নি। যারা মারা গিয়েছে পানিতে ডুবে বা অন্য কোনভাবে।

তিনি বলেন, যখন বন্যার পানি নেমে গেলো কৃষক তার গোয়ালে থাকা একটা গরু নিয়ে রাতের আধারে বেরিয়ে পড়লেন। কৃষক হারিকেনের আলোয় জমি চাষ করবেন। কিন্তু লাঙ্গল টানার জন্য তার দরকার দুইটি গরু। তার একটি গরু হারিয়ে গিয়েছে তাই নিজের স্ত্রীকেই ব্যাবহার করলেন জমি চাষে। বিবিসি জিঙ্গেস করেছিলো ওই কৃষককে, আপনার স্ত্রীর হাতে লাঙ্গল না দিয়ে তাকে টানতে কেন ব্যবহার করলেন। তখন সেই কৃষক বলেছিলো, জোয়াল টানার চাইতে লাঙ্গল ধরা খুব কঠিন কাজ।

তিনি বলেন, আমার মতে বাংলাদেশের সেরা বিশ্ববিদ্যালয় বাংলাদেশ কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়। এ সময় চবি উপাচার্য প্রফেসর ড. ইফতেখার উদ্দীন চৌধুরী ‘আমরা র‌্যাংকিংয়ে প্রথম’ এমন কথা বললে ইউজিসি চেয়ারম্যান বলেন, আমার কাছে র‌্যাংকিংয়ের কোন মূল্য নেই। আমার কাছে মূল্যবান কে কতটুকু আউটপুট দিচ্ছে তার।

তিনি বলেন, প্রযুক্তিতে উৎকর্ষতা সাধন করছে পুরো বিশ্ব। একটা সময় আসবে যখন মানুষের কাজ হবে কৃত্তিম বুদ্ধিমত্তার মাধ্যমে। আর সেই পথেই হাঁটছে বাংলাদেশ। আজকে বাংলাদেশে বিজ্ঞান ও প্রযুক্তির নতুন নতুন বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিষ্ঠা লাভ করছে।

তিনি বলেন, এই শতাব্দীর শেষে ৩০০ মিলিয়ন মানুষ বেকার হয়ে যাবে। আর চীনে হবে এর বেশিরভাগ মানুষ। মানুষ প্রযুক্তি তৈরি করেছে, প্রযুক্তি মানুষকে নয়। তাই প্রযুক্তির চেয়ে প্রযুক্তির পেছনের মানুষকে গুরুত্ব দেয়া বেশি জরুরী।

তিনি বলেন, আমাদের তেল নেই, সোনা নেই। তবে আমাদের রয়েছে পর্যাপ্ত মানবসম্পদ। আমাদেরকে এই মানবসম্পদের সঠিক ব্যাবহার করতে হবে। বর্তমানে বাংলাদেশে ৩৯ লক্ষ শিক্ষার্থী বিশ্ববিদ্যালয়ে পড়াশোনা করছে। প্রায় ৫ দশমিক ৫ কোটি শিক্ষার্থী অন্যান্য প্রতিষ্ঠানে পড়াশোনা করছে। পৃথিবীর ১১২টি দেশের মোট জনসংখ্যাই এত নেই।

তিনি বলেন, আমাদের এই জনসংখ্যাকে কাজে লাগিয়ে এগিয়ে যেতে হবে। সংখ্যা দিয়ে কোন কিছু পরিমাপ করা যায় না। কোনকিছুর মানদন্ড পরিমাপ করতে হবে তার গুণগতমান দিয়ে। আমাদের শিক্ষার্থীদের বিশ্ববিদ্যালয়ে গবেষণাধর্মী জ্ঞান আরোহন করতে হবে।

এতে চেয়ার ও প্রধান পৃষ্ঠপোষক হিসেবে বক্তব্য রাখেন চবি উপাচার্য প্রফেসর ড. ইফতেখার উদ্দীন চৌধুরী। বিশেষ অতিথি হিসেবে বক্তব্য রাখেন উপ-উপাচার্য প্রফেসর ড. শিরীণ আখতার, বাংলাদেশ সোসাইটি ফর বায়োকেমেস্ট্রি এন্ড মলকিউলার বায়োলজি এর চেয়ারম্যান প্রফেসর ড. হাসিনা খান ও অন্যান্যরা।