
চালন্দা গিরিপথ। ছবি-সংগৃহিত।
চবি প্রতিনিধি: এবার চালন্দা গিরিপথে চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের (চবি) অর্ধশতাধিক শিক্ষার্থী সন্ত্রাসীদের হামলা ও ছিনতাইয়ের শিকার হয়েছেন। শনিবার দুপুরে চালন্দা গিরিপথ দিয়ে ফেরার পথে শিক্ষার্থীরা হামলার মুখে পড়েন।
ভুক্তভোগী নৃবিজ্ঞান বিভাগের (১৭-১৮) শিক্ষাবর্ষের শিক্ষার্থী দ্বীন ইসলাম একুশে পত্রিকাকে বলেন, আজ ছুটির দিন বলে আমরা নৃবিজ্ঞান ও সাংবাদিকতা বিভাগের ৫০ জনের বেশি শিক্ষার্থী চালন্দা গিরিপথে ঘুরতে যাই। এরমধ্যে ৭-৮ জন মেয়ে শিক্ষার্থীও ছিল। আমরা চালন্দা গিরিপথে নিরাপদে পৌঁছাই। কিন্তু ফেরার পথে আক্রান্ত হই।
‘আমরা যখন গিরিপথ থেকে পাহাড় দিয়ে ফিরছিলাম তখন পাহাড়ের ভেতর লুকিয়ে থাকা কিছু মুখোশধারী সন্ত্রাসী আমাদের উপর অতর্কিত হামলা চালায়। আমরা আসতেছি দেখে প্রথমে তারা একটা ফাঁকা গুলি ছোঁড়ে। এরপর সবাইকে সবকিছু দিয়ে দিতে বলে। তারা আমাদের থেকে একে একে সব মোবাইল, মানিব্যাগ, মেয়েদের স্বর্ণ ছিনতাই করে নেয়। এসময় কয়েকজন প্রতিরোধ গড়তে চাইলে তাদের উপর রাম দা দিয়ে হামলা চালানো হয়। তারা কয়েক রাউন্ড গুলি ছোঁড়ে।’
দ্বীন ইসলাম বলেন, সন্ত্রাসীদের মধ্যে ৭জন মুখোশ পরা ছিল এবং তাদের পেছনে আরও বেশ কয়েকজন ছিলো। সবমিলিয়ে প্রায় ১৫ জন হবে। তাদের প্রত্যেকের হাতে রাম দা ছিলো। এবং সামনে যারা ছিল তাদের হাতে গুলি ছিল। তাদের বয়স ২০-২৫ বছরের মধ্যে।
চবির এ শিক্ষার্থী বলেন, তাদের হাতে ভারি অস্ত্র ও গুলি দেখে আমরা কিছু না করেই সব দিয়ে দেই। কিন্তু কয়েকজন প্রতিরোধ করলে তারা হামলার শিকার হয়। এতে নৃবিজ্ঞান বিভাগের (১৩-১৪) শিক্ষাবর্ষের শিক্ষার্থী মোঃ আনোয়ার হোসেন গুরুতর আহত হয়।
এদিকে হামলার শিকার হয়ে বিশ্ববিদ্যালয়ের মেডিকেল সেন্টারে আসা শিক্ষার্থীরা জানান, ক্যাম্পাস থেকে তাদেরকে কেউ খবর দিয়েছে মনে হচ্ছে। আর খবর পেয়েই তারা হামলা চালিয়েছে। সন্ত্রাসীরা আমাদেরকে জিম্মি করে সবকিছু নিয়ে যাওয়ার পর পাহাড়ি পথ দিয়ে পালিয়ে যায়। আমাদের কাছে তাদের মুখ চেনা মনে হয়েছে। তারা ক্যাম্পাসের রিকশাচালক বা এই রকম কিছু হবে। কিন্তু কারও মুখ দেখতে পাওয়া যায়নি।
এদিকে খবর পেয়ে বিশ্ববিদ্যালয়ের মেডিকেল সেন্টারে আহতদের দেখতে এসে চবি প্রক্টর অধ্যাপক আলী আজগর চৌধুরী বলেন, আমরা বিষয়টি পুলিশকে জানিয়েছি। ভুক্তভোগী শিক্ষার্থীদের নিয়ে হামলার স্থান চিহ্নিত করা হবে। এবং জড়িতদের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।
