পুঁজিবাজারে বেড়েছে বিদেশি বিনিয়োগকারীদের অংশগ্রহণ। বাজার সংশ্লিষ্টরা বলছেন, দুই মাস আগেও দেশের পুঁজিবাজারে সার্বিক মূল্যসূচক কম ছিল। সে সময়ে বিদেশি বিনিয়োগকারীরা ভালো ভালো কোম্পানি বিশ্লেষণ করে শেয়ার কিনেছেন। বিদেশি বিনিয়োগকারীদের পুঁজিবাজারে অংশগ্রহণ বাড়ার চিত্র দেখা গেল ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জের (ডিএসই) লেনদেনে।
চলতি বছরের প্রথম আট মাসে (জানুয়ারি-আগস্ট) প্রধান পুঁজিবাজার ডিএসইতে বিদেশি বিনিয়োগকারীদের লেনদেনের পাশাপাশি বেড়েছে বিনিয়োগের পরিমাণ। আগস্ট মাস শেষে ডিএসইতে নিট বিনিয়োগ দাঁড়িয়েছে ৪৪৫ কোটি ৭০ লাখ টাকা।
ডিএসই’র তথ্য অনুযায়ী, চলতি বছরের প্রথম আট মাসে শেয়ারবাজারে বিদেশি বিনিয়োগকারীরা মোট ৫ হাজার ৬৫৬ কোটি ৬২ লাখ টাকার লেনদেন করেছেন। এ সময় সিকিউরিটিজ বা শেয়ার কিনেছেন ৩ হাজার ৫১ কোটি ১৬ লাখ টাকা। এর বিপরীতে শেয়ার বিক্রি করেছেন ২ হাজার ৬০৫ কোটি ৪৬ লাখ টাকা। অর্থাৎ আট মাসে শেয়ারবাজারে নীট বিদেশি বিনিয়োগ হয়েছে ৪৪৫ কোটি ৭০ লাখ টাকা। আলোচিত সময়ে শেয়ার বিক্রির তুলনায় কেনার প্রবণতা বেশি থাকার কারণেই বিনিয়োগ বেড়েছে।
একাধিক ব্রোকারেজ হাউসের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের সাথে কথা বলে জানা গেছে, বিদেশি বিনিয়োগকারীরা সাধারণত হাতে গোনা কয়েকটি হাউসের মাধ্যমে বিনিয়োগ করেন। অন্য হাউসগুলো দক্ষ জনবলের অভাবে বিদেশি বিনিয়োগকারী আনতে পারছেন না। তাই দক্ষতা বাড়াতে হবে। এদিকে ২০১৫-১৬ অর্থবছরে ডিএসইতে বিদেশি বিনিয়োগকারীদের মোট লেনদেন হয় ৮ হাজার ৮৩ কোটি ৯১ লাখ ৩৬ হাজার ৫৯৮ টাকার শেয়ার। এর আগের অর্থবছরে (২০১৪-১৫) লেনদেন হয়েছিল ৬ হাজার ৯৯১ কোটি ২৯ লাখ ৯৮ হাজার ৯২৫ টাকার শেয়ার। আর গত ২০১৩-১৪ অর্থবছরে লেনদেন ছিল ২ হাজার ৪৯৩ কোটি ৬৭ লক্ষ ৪০ হাজার ৮৩৭ টাকা।
বাজার সংশ্লিষ্টরা বলছেন, পুঁজিবাজারে বিদেশি বিনিয়োগকারীদের অংশগ্রহণ বাড়তে শুরু করা ইতিবাচক দিক। বিদেশি বিনিয়োগকারীরা সাধারণত তখনই বিনিয়োগ করেন যখন বাজারে তুলনামূলক সূচক কম থাকে। যখন সূচক বাড়তে শুরু করে তখন তারা শেয়ার বিক্রি করতে শুরু করেন। আমাদের দেশি বিনিয়োগকারীদের মধ্যে এ প্রবণতা কম। আমাদের শেয়ার বিনিয়োগকারীরা যখন সূচক বাড়তে থাকে তখন শেয়ার কিনেন। আর যখন সূচক কম থাকে তখন তারা ভয় আর আস্থাহীনতার কারণে শেয়ার কিনতে চাননা। ফলে দেশীয় বিনিয়োগকারীদের অনেকেই ভালো করতে পারেন না। এছাড়া বিদেশি বিনিয়োগকারীরা মৌলভিত্তির কোম্পানিতেই মূলত বিনিয়োগ করেন। তারা কোম্পানির তথ্য ও পরিস্থিতি যাচাই করে বিনিয়োগ করেন। এতে তাদের মুনাফাও হয় ভালো। কিন্তু বাজারে তালিকাভুক্ত কোম্পানিগুলোর মধ্যে মৌলভিত্তি সম্পন্ন ও ভালো কোম্পানির সংখ্যা কম হওয়ায় তারা বেশি কোম্পানিতে বিনিয়োগ করতে পারেন না। ফলে তাদের বিনিয়োগও বাড়ানো যায় না।
