চট্টগ্রাম: প্যাকেট করে ‘মৃত’ নবজাতককে রাখা হয়েছে মায়ের সামনে। মৃতঘোষিক নবজাতককে শেষবারের মত একটু দেখতে চান অস্থির মা। কিন্তু প্যাকেট খুলে বাচ্চার মুখ দেখতেই বিস্মিত হন তিনি। দেখলেন তার বাচ্চা দিব্বি নড়াচড়া করছে। ততক্ষণে বাচ্চার শরীর খুবই ঠান্ডা হয়ে গেছে। পরিবর্তন এসেছে গায়ের রংয়ে। এরপর তাকে নেয়া চাইল্ড কেয়ার হাসপাতালে। এরপর হাসপাতালের ওয়ার্মারে দেওয়ার পর শরীর স্বাভাবিক হলো। কিন্তু সেখানে বেড খালি না থাকায় নগরীর ম্যাক্স হাসপাতালে ওই বাচ্চাকে ভর্তি করা হয়। বাচ্চাটি এখনো জীবিত।
সোমবার দিবাগত রাতে এই ঘটনা ঘটেছে ‘সিএসসিআর’ নামের চট্টগ্রাম নগরীর একটি বেসরকারি হাসপাতালে। ওই নবজাতকের বাবা-মা দুজনই সরকারি হাসপাতালের চিকিৎসক; আলীকদম উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স’র ডেন্টাল সার্জন ডা. রিদওয়ানা কাউসার তুষারের স্বামী কক্সবাজার জেলা সদর হাপাতালের মেডিকেল অফিসার ডা. নুরুল আজম।
সিএসসিআর থেকে দেয়া মৃত্যু সনদ দেখিয়ে ডা. রিদওয়ানা বলেন, সোমবার দিবাগত রাত ১টার দিকে নবজাতক জন্ম নেয়। এসময় গাইনি বিশেষজ্ঞ ডা. শাহেনা আক্তার বললেন, বাচ্চাকে দ্রুত এনআইসিইউতে (নিউনাটাল ইনটেনসিভ কেয়ার ইউনিট) নিয়ে যাওয়া হোক। সেখানে নেওয়ার দুই ঘন্টা পর মৃত্যু সনদ দিয়ে একটি প্যাকেটে ভরে বাচ্চাকে ৬১২ নম্বর ক্যাবিনে দিয়ে যায়। মৃত্যু সঠিক কিনা তা জানতে প্যাকেট খুলতেই দেখি বাচ্চার নড়াচড়া করছে। বিষয়টি দ্রুত হাসপাতালের দায়িত্বরত চিকিৎসকদের জানানো হলো। কিন্তু তারা বললেন বাচ্চা নড়াচড়া করছে না, গায়ের মাংস নড়ছে। পরে চাইল্ড কেয়ার হাসপাতালে নিয়ে যাই বাচ্চাকে। সেখানে সিট না থাকায় ম্যাক্স হাসপাতালে ভর্তি করি।
তিনি অভিযোগ করে বলেন, এনআইসিইউতে নেওয়া পর সেখানে বাচ্চার কোন পরিচর্যা করা হয়নি। কারণ তার নাক-মুখও অপরিষ্কার দেখা গেছে। প্যাকেট করার পর বাচ্চা দেখতে চাইলেও তারা বাধা দিয়েছিল।
ডা. রিদওয়ানার স্বামী ডা. নুরুল আজম বলেন, জন্মের পর এনআইসিইউতে দুই ঘন্টা ব্যবস্থা না নেওয়ায় বাচ্চার অবস্থার অবনতি হয়েছে। ব্যবস্থা নিতে না পারার বিষয়ে তারা আমাদের জানায়নি পর্যন্ত। এনআইসিইউতে দায়িত্বরতদের অবহেলার কারণেই এ ধরনের ঘটনা ঘটেছে। দুই ঘন্টা পর জীবিত বাচ্চাকে মৃত দেখিয়ে মেডিকেল ইথিকস মানেনি।
এদিকে সিএসসিআর হাসপাতালের মেডিকেল অফিসার তানভীর জাফর অভিযোগ অস্বীকার করে বলেন, হাসপাতাল থেকে বাচ্চাটির মৃত্যু সনদ দেওয়া হয়নি। আমরা তাদেরকে জানিয়েছিলাম যে, হাসপাতালে ওয়ার্মার খালি নেই। তাই পাশের হাসপাতালে নিয়ে যেতে বলেছিলাম।
