বৃহস্পতিবার, ১২ ডিসেম্বর ২০১৯, ২৮ অগ্রহায়ণ ১৪২৬

পথে পথে পুলিশের ইফতার-অভ্যর্থনা

প্রকাশিতঃ মঙ্গলবার, মে ১৪, ২০১৯, ১১:৪৩ অপরাহ্ণ


শরীফুল রুকন : প্রবাদে আছে ‘থানার পাশে কানা হাঁটে না।’ কিন্তু চট্টগ্রামের চান্দগাঁও ও খুলশী থানার পুলিশ সদস্যরা যেন এই প্রবাদ বাক্যকে ভুল প্রমাণ করেছেন। প্রতি রোজায় স্বল্প আয়ের মানুষ ও পথচারীরা ইফতার করছেন সড়কের পাশে স্থাপন করা এই দুই থানার ‘স্টলে’। এভাবেই মানবিক পুলিশিংয়ের নজির রাখছেন পুলিশ সদস্যরা।

প্রতিদিন বিকালে ইফতারের আগে চট্টগ্রাম মহানগর পুলিশের উত্তর বিভাগের অধীনে থাকা চান্দগাঁও থানার ফটকে রাস্তার পাশে ও খুলশী থানার সামনে জাকির হোসেন সড়কের ধারে ইফতারের আয়োজন করা হয়। সেখানে স্বল্প আয়ের মানুষরা যেমন নিয়মিত অংশ নিচ্ছেন, তেমনি পথচারী ও নানা কারণে থানায় আগতরাও ইফতার করছেন।

সাধারণ মানুষের সঙ্গে পুলিশের ‘দূরত্ব ঘোচাতে’ শরবত, ছোলা, মুড়ি, পেঁয়াজু, বেগুনি, আলুর চপ ও জিলাপির এই ইফতার আয়োজন ‘অসামান্য ভূমিকা’ রাখবে বলে মনে করেন সুশাসনের জন্য নাগরিক (সুজন) চট্টগ্রামের সাধারণ সম্পাদক আখতার কবির চৌধুরী।

তিনি একুশে পত্রিকাকে বলেন, পুলিশকে আমরা সাধুবাদ জানাই। এ ধরনের ভালো উদ্যোগের ফলে ভালো মানুষরা পুলিশকে ভয় করবে না। মানুষ নিজ থেকে পুলিশকে বিশ্বাস করবে, বন্ধু ভাববে। আমরা চাই অপরাধীরাই শুধু পুলিশকে ভয় করুক।

মঙ্গলবার বিকালে ইফতারের আগে চান্দগাঁও থানায় আসেন রিকশাচালক মো. সেলিম। ‘রোজা রেখে ভালো করে ইফতার করতে পারিনা, ইফতার সামগ্রীর যে দাম। অন্য রিকশাচালকের কাছ থেকে শুনে থানায় ইফতার করতে এসেছি। তাদের ইফতার দেয়ার কারণে আমার মতো মানুষের অনেক উপকার হয়।’ বলেন তিনি।

চান্দগাঁও থানার ওসি আবুল বাসার একুশে পত্রিকাকে বলেন, মূলত স্বল্প আয়ের মানুষের জন্য এই ইফতার কার্যক্রমের সূচনা করা হয়েছে। তবে ইফতারের আগের সময়ে অপরাধ বেড়ে যায়, থানায় নানা মানুষজন আসেন ইফতারের আগমুহূর্তে। আবার পথচারীও আছেন। তারা সবাই আমাদের ইফতারে অংশ নিচ্ছেন।

ইফতারের জন্য শরবত ও ছোলা চান্দগাঁও থানায় তৈরী করা হয়। বাইরে থেকে পেঁয়াজু, বেগুনি ও জিলাপি কিনে আনা হয়।

ওসি আবুল বাসার বলেন, দুইদিন ছাড়া রোজার বাকি দিনগুলো আমি সেখানে বসেই ইফতার করি। প্রথম রোজার দিন কমিউনিটি পুলিশের ইফতার ছিল। আজকে সিএমপির ইফতারের কারণে থাকতে পারিনি।

চান্দগাঁও থানার এএসআই কালাম ও থানার মসজিদের ইমাম নুরুল ইসলাম ফরহাদকে ইফতার আয়োজন কার্যক্রমে নিয়োজিত করা হয়েছে বলেও জানান ওসি বাসার।

নুরুল ইসলাম ফরহাদ বলেন, আমাদের ইফতারে দরিদ্র পরিবারের অনেক নারী-শিশুও আসেন। তাদের কেউ কেউ নিজেরা খেয়ে বাসার জন্যও নিয়ে যেতে চান। তাদেরকে খালি হাতে ফেরানো হয় না। প্রতি শুক্রবার ইফতারের সময় ছোলা-পেঁয়াজুর সঙ্গে বিরানির ব্যবস্থাও থাকছে বলেও জানান তিনি।

অন্যদিকে খুলশী থানা ফটকের পাশে নগরের জাকির হোসেন রোডে তৃতীয় রমজান থেকে ইফতারের আয়োজন করে আসছে পুলিশ। মঙ্গলবার সন্ধ্যায় থানায় সেবা নিতে গিয়ে সেখানে ইফতার করেছেন আরফাত হোসেন; তিনি বলেন, নিঃসন্দেহে ভালো উদ্যোগ। এটা আমার ভালো লেগেছে।

খুলশী থানার ওসি প্রণব চৌধুরী একুশে পত্রিকাকে বলেন, ছোলা, পেঁয়াজু, বেগুনি, চপ- এগুলো দিয়ে রোজাদারদের ইফতার করানোর উদ্যোগ নিয়েছি আমরা। আমরা তো উচ্চমানের খাবার দিতে পারবো না। সাধ্যের মধ্যে যেটুকু সম্ভব আয়োজন করছি।

চট্টগ্রাম মহানগর পুলিশের উপ-কমিশনার (উত্তর) বিজয় বসাকের পরিকল্পনা ও নির্দেশনায় ইফতারের আয়োজন করা হচ্ছে বলেও জানান ওসি প্রণব।

জানতে চাইলে উপ-কমিশনার (উত্তর) বিজয় বসাক একুশে পত্রিকাকে বলেন, কিছু মানুষ সারা দিন রোজা রেখে তেমন কিছু খেতে পান না, টাকার জন্য। আবার অনেকে কর্মব্যস্ততার জন্য সময়মতো ইফতার করতে পারেন না। এসব মানুষের কথা বিবেচনা করে ইফতারের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।

পুরো রমজান মাসজুড়ে এই উদ্যোগ অব্যাহত থাকবে বলেও জানান তিনি।