২৩ মে ২০১৯, ৮ জ্যৈষ্ঠ ১৪২৬, বুধবার

মাদকবিক্রেতা, ধর্ষক ও জঙ্গিদের আইনী সহায়তা না দেওয়ার আহ্বান সুজনের

প্রকাশিতঃ বুধবার, মে ১৫, ২০১৯, ১১:৩৫ অপরাহ্ণ

চট্টগ্রাম : ভেজাল খাদ্য উৎপাদনকারী, মাদককারবারি, ধর্ষণকারী ও জঙ্গি-সম্পৃক্তদের আইনী সহায়তা না দিতে আইনজীবীদের প্রতি আহ্বান জানিয়েছেন চট্টগ্রাম নাগরিক উদ্যোগের উপদেষ্টা ও নগর আ.লীগ সভাপতি খোরশেদ আলম সুজন।

বুধবার চট্টগ্রাম আইনজীবী সমিতি মিলনায়তনে আইনজীবীদের সঙ্গে এ সংক্রান্ত এক মতবিনিময়ে তিনি এই আহ্বান জানান।

খোরশেদ আলম সুজন বলেন, বর্তমানে বাংলাদেশে খাদ্রদ্রব্যে ভেজালের পরিমাণ উদ্বেগজনক হারে বৃদ্ধি পেয়েছে। মাত্রাতিরিক্ত হারে ভেজালের ফলে শিশু থেকে শুরু করে আবালবৃদ্ধবনিতা বিভিন্ন রোগে আক্রান্ত হচ্ছে। অল্প বয়সেই মানুষ কিডনী, লিভার এবং ক্যান্সারের মতো জটিল রোগে আক্রান্ত হচ্ছে। ফলে ডাক্তার ও হাসপাতালে একদিকে যেমন সময়ের অপচয় হচ্ছে অন্যদিকে বিপুল পরিমাণ অর্থ ব্যয় হচ্ছে। এতে সর্বস্বান্ত হচ্ছে জনসাধারণ। প্রতিনিয়ত ভেজাল খাদ্যদ্রব্য গ্রহণের ফলে প্রজন্মের পর প্রজন্ম রোগে-শোকে কষ্ট পাচ্ছে। এছাড়া মাদকও বর্তমান সময়ে ক্যান্সারের মতো ভয়াবহ রূপ নিয়েছে। সমাজের বিত্তশালী ব্যক্তি থেকে শুরু করে নারী ও শিশু-কিশোররাও মাদক-ব্যবসার সঙ্গে জড়িত।

তাছাড়া সম্প্রতি দেশে উদ্বেগজনকহারে ধর্ষণের মাত্রা বেড়ে গিয়েছে। শিশু থেকে শুরু করে নারীরাও ধর্ষণের শিকার হচ্ছে প্রতিনিয়তই। প্রতিদিন গণমাধ্যমে দেশের বিভিন্ন প্রান্তের ধর্ষণের খবর পাওয়া যাচ্ছে। বিভিন্নভাবে নির্যাতিত হচ্ছে শিশু ও নারীরা। এভাবে চলতে থাকলে সামাজিক কাঠামো ধ্বংস হয়ে যেতে পারে। উপরোক্ত অপরাধগুলোর মতো জঙ্গীবাদও একটি দেশের উন্নতি ও সমৃদ্ধির পথে প্রধাণ অন্তরায়। জঙ্গীবাদকে কোনভাবেই প্রশ্রয় দেওয়া যাবে না। ইতিমধ্যে বর্তমান সরকার জঙ্গীবাদের বিরুদ্ধে কঠোর অবস্থান নিয়েছে। আইন শৃংখলা বাহিনীর কঠোর নজরদারির কারণে জঙ্গীরা তাদের মাথা চাড়া দিয়ে উঠতে পারছে না। তারপরও তাঁরা আড়ালে থেকে প্রশাসনের চোখকে ফাঁকি দিয়ে জঙ্গি কার্যক্রম চালিয়ে যাওয়ার পাঁয়তারা করছে। আইনশৃংখলা বাহিনীর তৎপরতার কারণে তাদের সে উদ্দেশ্য সফলকাম হচ্ছে না। মানুষের জন্য আইন। অপরাধীরা অপরাধ করে তা আড়াল করার জন্য আদালতের দ্বারস্থ হয়। সেক্ষেত্রে আইনজীবীদের ভূমিকা কিন্তু ব্যাপক। বলেন সুজন।

আইনজীবীরা যদি উক্ত অপরাধীদের আইনী সহায়তা না দেন তাহলে অপরাধীদের অপরাধ করার প্রবণতা কমে আসবে বলে মত প্রকাশ করেন সুজন। তাই ঐ সমস্ত জঘন্য অপরাধীদের আইনী সহায়তা না দেওয়ার জন্য সুজন আইনজীবি সমিতির নেতৃবৃন্দের প্রতি আহ্বান জানান।

এছাড়াও এধরনের অপরাধে যারা ক্ষতিগ্রস্ত তাদেরকে বিনামূল্যে আইনী সহায়তা প্রদানের জন্যও নেতৃবৃন্দের প্রতি অনুরোধ জানান তিনি।

আইনজীবী সমিতির নেতৃবৃন্দ সমাজের দায়বদ্ধতা থেকে নাগরিক উদ্যোগের নেতৃবৃন্দকে মতবিনিময় করতে আসায় অভিনন্দন জানান। সরকারের পাশাপশি একটি সামাজিক আন্দোলন দেশকে উন্নতির পথে এগিয়ে নিতে সহায়তা করে বলে তারা মত প্রকাশ করেন। একটি দেশে জনগণ যতই সচেতন এবং প্রতিবাদমুখর হবে সেখানে অপরাধ কমে আসতে বাধ্য। নেতৃবৃন্দ জনাব সুজনের উত্থাপিত বিষয়গুলোর সাথে একমত পোষণ করেন উল্লেখিত অপরাধের মাত্রা বেড়ে যাওয়ার উদ্বেগ প্রকাশ করেন।

নাগরিক উদ্যোগ এ রকম একটি ব্যাতিক্রমী কর্মসূচীতে আইনজীবীগণকে সম্পৃক্ত করায় কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেন এবং নাগরিক উদ্যোগের সকল কর্মকাণ্ডে পাশে থাকার অঙ্গীকার ব্যক্ত করেন। নেতৃবৃন্দ মনে করেন শুধু আইন দিয়ে এসমস্ত অপরাধীদের অপরাধ দমন করা সম্ভব নয়। এজন্য দরকার সামাজিক আন্দোলন। যেটা করে যাচ্ছেন নাগরিক উদ্যোগ। নাগরিক উদ্যোগসহ সম্মিলিত সবার সহযোগিতায় সমাজে অপরাধ কমে আসলে বলে আইনজীবী সমিতির নেতৃবৃন্দ মত দেন।

এ সময় অন্যান্যদের মধ্যে উপস্থিত ছিলেন জেলা আইনজীবী সমিতির সাবেক সভাপতি ও জেলা পিপি অ্যাডভোকেট সিরাজুল ইসলাম, আইনজীবী সমিতির সভাপতি অ্যাডভোকেট এ.এস.এম বদরুল আনোয়ার, সাধারণ সম্পাদক আইয়ুব খান, হাজী মোঃ ইলিয়াছ, মোঃ কামাল মেম্বার, আব্দুর রহমান মিয়া, ইসহাক চৌধুরী, হাজী হোসেন কোম্পানী, সাইদুর রহমান চৌধুরী, নিজাম উদ্দিন, এজাহারুল হক, মোসাদ্দেক হোসেন বাহাদুর, নাছির উদ্দিন, মোঃ শাহজাহান, জাহেদ আহমদ চৌধুরী, জাহাঙ্গীর আলম, স্বরূপ দত্ত রাজু, রকিবুল আলম সাজ্জী, মোঃ ওয়াসিম, মোজাম্মেল হক সুমন, শিশির কান্তি বল, শেখ সরওয়ার্দী এলিন, মনিরুল হক মুন্না, হাসান মুরাদ, আব্দুল মাবুদ আসিফ, সাফায়েত হৃদয়, জোবায়েদুল ইসলাম ফাহিম, রিয়েল দত্ত প্রমুখ।

একুশে/প্রেসবিজ্ঞপ্তি/এটি