২৩ মে ২০১৯, ৮ জ্যৈষ্ঠ ১৪২৬, বুধবার

শুধু ‘ধনীদের’ মোবাইল চুরি করেন তিনি

প্রকাশিতঃ শুক্রবার, মে ১৭, ২০১৯, ৩:৩৩ অপরাহ্ণ


চট্টগ্রাম: চট্টগ্রাম মহানগর পুলিশের (সিএমপি) ইফতার মাহফিলে প্রবেশ করেন এক যুবক। ঘুরতে ঘুরতে একজন সেনা কর্মকর্তার পেছনে দাঁড়ান তিনি। সুকৌশলে সেনা কর্মকর্তার পাঞ্জাবীর পকেটে হাত দিয়ে নিয়ে নেন মোবাইল। তারপর সোজা ফিরে যান।

অভিযোগ পেয়ে তদন্তে নামে নগরের কোতোয়ালী থানা পুলিশ। প্রথমে ঘটনার দিন গত ১৪ মে সন্ধ্যার সময় নগরের কাজীর দেউড়ির ইন্টারন্যাশনাল কনভেনশন সেন্টারের সিসিটিভি ফুটেজ বিশ্লেষণ করে একজনকে সন্দেহ করেন তদন্তকারীরা।

এরপর সোর্স নিয়োগ করে শুক্রবার সকালে নগরীর পুরাতন গির্জা এলাকা থেকে আলমগীর হোসেন আলম (২৬) নামের ওই সন্দেহভাজনকে গ্রেপ্তার করা হয় বলে জানান কোতোয়ালী থানার ওসি মোহাম্মদ মহসীন।

গ্রেপ্তার আলমগীর হোসেন চট্টগ্রামের রাঙ্গুনিয়া উপজেলার রাজারহাট ইউনিয়ন পরিষদের আব্দুর রশিদের ছেলে।

ওসি মোহাম্মদ মহসীন বলেন, সিএমপির ইফতার মাহফিল থেকে একজন উচ্চপদস্থ সেনা কর্মকর্তার মোবাইল চুরি হয়। যেটা আমাদের জন্য খুবই বিব্রতকর ছিল। আমরা এটা নিয়ে কাজ শুরু করি। ঘটনার সঙ্গে জড়িত আলমগীরকে আমরা গ্রেপ্তার করি।

তিনি বলেন, আলমগীর জিজ্ঞাসাবাদে স্বীকার করেছে, বড় অনুষ্ঠানগুলোতে গিয়ে ভিআইপি লোকজনের মোবাইলগুলো চুরি করে। গত ৫-৬ বছর যাবত সে চুরি করে আসছে। বিশেষ করে সম্পদশালী-বিত্তশালী, যারা পাঞ্জাবী পরেন তাদেরকে টার্গেট করে।

‘সে ৫ সেকেন্ডের মধ্যে পাঞ্জাবীর পকেট থেকে মোবাইল কিভাবে নেয়- সেটা আমাদের দেখিয়েছে। সেদিন ইফতার মাহফিল থেকে যে মোবাইলটা চুরি হয়েছিল সেটা আমরা উদ্ধার করেছি।’ যোগ করেন ওসি মহসীন।

শুক্রবার দুপুরে কোতোয়ালী থানায় পুলিশ হেফাজতে থাকা অবস্থায় আলমগীর একুশে পত্রিকাকে বলেন, ৫-৬ বছর ধরে চুরি করি। মাহফিল, মিছিল-মিটিংয়ের খবর পেলে চুরি করতে যাই। অনুষ্ঠানের শেষের দিকে যখন সবাই চলে যান তখনই চুরি করি। সুযোগ পেলে একটা মোবাইল চুরি করতে ৫ সেকেন্ড সময় লাগে।

পোশাক দেখে ধনী-গরীব বুঝতে পারেন দাবি করে আলমগীর বলেন, আমার মত গরীব, আর্থিক অবস্থা খারাপ- এ ধরনের মানুষের মোবাইল নিই না। যারা নামি দামি পয়সাওয়ালা, ওদের মোবাইল চুরি করি।

শুধু ধনীদের কাছ থেকে চুরির করার কারণ জানিয়ে আলমগীর বলেন, ওনারা তো চলতে পারে স্যার। অন্যদের কাছ থেকে নিলে তারা তো চলতে পারবে না।

সিএমপির ইফতার মহফিলে চুরি করার বিষয়ে তিনি বলেন, সেদিন ভালো জামা-কাপড় পরে গিয়েছিলাম। তারপরও প্রথমে ঢুকতে দেয়নি। অনুষ্ঠানের শেষের দিকে ঢুকতে পেরেছিলাম।

কোতোয়ালী থানার ওসি মোহাম্মদ মহসীন বলেন, এখন স্মার্টফোন বেশ বড় হওয়ায় অনেক সময় তা পকেট থেকে কিছুটা বেরিয়েও থাকছে। সেই সুযোগে পকেটমারের দল তাদের কাজ সারছে। পাঞ্জাবীর পকেটে রাখলে মোবাইল চুরি করা আরো সহজ।