২৩ মে ২০১৯, ৮ জ্যৈষ্ঠ ১৪২৬, বুধবার

বৌদ্ধ মন্দিরগুলোতে কড়া নিরাপত্তা

প্রকাশিতঃ শুক্রবার, মে ১৭, ২০১৯, ৭:২১ অপরাহ্ণ


ঢাকা: জঙ্গি হামলার আশঙ্কার তথ্য থাকায় সারাদেশে বৌদ্ধমন্দিরগুলোতে নিরাপত্তা বাড়িয়েছে পুলিশ। দেশের প্রায় আড়াই হাজার বৌদ্ধ মন্দিরে শুক্রবার থেকে নেয়া হয়েছে নিশ্ছিদ্র নিরাপত্তা ব্যবস্থা। প্রতিটি বৌদ্ধমন্দির কেন্দ্রিক চার স্তরের নিরাপত্তা বলয় গড়ে তোলার পরিকল্পনা করছে পুলিশ।

পুলিশ সদর দফতরের এআইজি (মিডিয়া) সোহেল রানা জানান, বৌদ্ধ সম্প্রদায়ের প্রধান ধর্মীয় উৎসব বৌদ্ধ পূর্ণিমা যেন স্বাভাবিক উৎসাহ-উদ্দীপনার মধ্য দিয়ে আয়োজনে ঘাটতি না থাকে, সেজন্য পুলিশ ব্যাপক নিরাপত্তামূলক ব্যবস্থা নিয়েছে।

এরই মধ্যে মঙ্গলবার সকালে আইজিপি ড. মোহাম্মদ জাবেদ পাটোয়ারীর নেতৃত্বে পুলিশ সদর দফতরে বৈঠক হয়েছে। সেখান থেকে প্রয়োজনীয় দিকনির্দেশনা দেওয়া হয়েছে।

আইনশৃঙ্খলা ও নিরাপত্তা বিষয়ক ওই সভায় আইজিপি বলেন, বৌদ্ধ পূর্ণিমার নিরাপত্তা নিয়ে সুনির্দিষ্ট কোনো শঙ্কা নেই। তবে নিরাপত্তা ব্যবস্থা সুসংহত করার লক্ষ্যে নিরাপত্তা সংক্রান্ত প্রতিটি বিষয় বিশ্লেষণ করে বৌদ্ধ মন্দিরকেন্দ্রিক বিশেষ নিরাপত্তা ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে। এই উৎসব ঘিরে যেন কোনো গোষ্ঠী বা মহল কোনো ধরনের গুজব বা বিভ্রান্তি ছড়াতে না পারে, সেজন্যও সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমগুলো সার্বক্ষণিক মনিটরিংয়ে গোয়েন্দা সংস্থাগুলোকে নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।

পুলিশ সদর দফতর সূত্র বলছে, পোশাকধারী পুলিশের পাশাপাশি সাদা পোশাকের পুলিশ সদস্যের উপস্থিতি ও গোয়েন্দা নজরদারি বাড়ানোর নির্দেশনা পুলিশের সব ইউনিটকে দেওয়া হয়েছে। পাশাপাশি প্রতিটি বৌদ্ধ মন্দির পরিদর্শনের জন্য পুলিশ কর্মকর্তাদের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। বৌদ্ধ পূর্ণিমা সামনে রেখে গুরুত্বপূর্ণ স্থানে চেকপোস্ট স্থাপন ও ব্লক রেইডের ব্যবস্থা নিতেও পুলিশ কর্মকর্তাদের নির্দেশ দিয়েছেন আইজিপি।

এর বাইরেও কমিউনিটি পুলিশের সদস্য, স্থানীয় স্বেচ্ছাসেবী ও বৌদ্ধ ধর্মীয় নেতাদের সহায়তা নিয়ে মন্দিরগুলোতে নিশ্ছিদ্র নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে ইউনিটগুলোকে নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। নিরাপত্তার স্বার্থে মন্দিরগুলোতে ব্যাগ, পার্স, ভ্যানিটি ব্যাগ ইত্যাদি সঙ্গে না আনার জন্যও পূণ্যার্থীদের প্রতি আহ্বান জানানো হয়েছে। বৌদ্ধ মন্দিরগুলোতে সিসিটিভি ক্যামেরা ও অগ্নিনির্বাপণ যন্ত্র স্থাপন এবং স্বেচ্ছাসেবক নিয়োগের জন্য বৌদ্ধ ধর্মীয় নেতাদেরও পরামর্শ দেওয়া হয়েছে পুলিশের পক্ষ থেকে।

সবার সম্মিলিত প্রচেষ্টায় প্রতিবছরের মতো এ বছরও দেশের প্রায় আড়াই হাজার বৌদ্ধ মন্দিরে শান্তিপূর্ণভাবে বৌদ্ধ পূর্ণিমা উদযাপিত হবে বলে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর বৈঠকে আশাবাদ জানান আইজিপি।