চট্টগ্রাম: পূবালী ব্যাংকের উপ-মহাব্যবস্থাপক (ডিজিএম) ফারুক আহমদের বিরুদ্ধে চট্টগ্রামের একটি আদালতে মামলা দায়ের হয়েছে। সঞ্চয়পত্রের হিসাবে জমা রাখা ৮ লাখ ৬০ হাজার টাকা আটকে রাখার অভিযোগে মামলাটি দায়ের হয়েছে। বৃহস্পতিবার চট্টগ্রামের মহানগর দায়রা জজ মোঃ শাহ নূরের আদালতে মামলাটি দায়ের হয়েছে।
অভিযুক্ত ফারুক আহমদ পূবালী ব্যাংক লিমিটেডের সিডিএ কর্পোরেট শাখার উপ-মহাব্যবস্থাপক। অন্যদিকে মামলার বাদি লক্ষী দাশ একই ব্যাংকের সাবেক কর্মকর্তা প্রয়াত সন্তোষ কুমার দাশের স্ত্রী। লক্ষী দাশের পক্ষে মামলার শুনানীতে ছিলেন অ্যাডভোকেট সাধনময় ভট্টাচার্য্য ও অ্যাডভোকেট রনাঙ্গ বিকাশ চৌধুরী।
বাদি পক্ষের আইনজীবি সাধনময় ভট্টাচার্য্য বলেন, আদালত মামলা গ্রহণ করে আরজির সঙ্গে দেয়া তথ্য ও দলিলাদি সঠিক কিনা তা পরীক্ষানিরীক্ষা করে পাঠানোর জন্য নগর গোয়েন্দা পুলিশের একজন সহকারি কমিশনারকে নির্দেশ দিয়েছেন। এরপর ওই প্রতিবেদন প্রাপ্তির পর পরবর্তী ধার্য্য তারিখে আদেশ দিবেন আদালত। পাশাপাশি লক্ষী দাশের করা আবেদনের ভিত্তিতে দুর্নীতি দমন কমিশনকে (দুদক) ব্যবস্থা নেয়ার জন্যও নির্দেশ দিয়েছেন।
মামলার অভিযোগ সূত্রে জানা যায়, লক্ষী দাশ তার মৃত স্বামীর পেনশনের টাকাসহ মোট ৩৮ লাখ টাকার সঞ্চয়পত্র ক্রয়ের মাধ্যমে পুবালী ব্যাংক লিমিটেড সিডিএ শাখায় জমা রাখেন। গত ২৪ মার্চ তিনি ওই টাকার মধ্যে ৮ লাখ ৬০ হাজার টাকা নগদায়নের জন্য আবেদন করেন। কিন্তু ডিজিএম ফারুক আহমদ তাকে ওই টাকা ফেরত না দিয়ে পরে যোগাযোগ করতে বলেন। এরপর ৩ মে পুনঃরায় আবেদন করলেও তাকে টাকা না দিয়ে ফেরত দেন ডিজিএম ফারুক।
ফলে ক্ষমতার অপব্যবহার করে তার সঞ্চিত টাকা ফেরত না দেওয়ার অভিযোগে গত ২১ সেপ্টম্বর দুর্নীতি দমন কমিশনের চট্টগ্রামের বিভাগীয় পরিচালকের বরাবরে অভিযোগ করেন। পরে একই অভিযোগে গতত ২৮ সেপ্টম্বর ওসি কোতোয়ালীর বরাবরে অভিযোগ দেন।
লিখিত অভিযোগের পরও ডিজিএম ফারুকের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেয়নি পুলিশ কিংবা দুদক।
ফলে দূর্নীতি দমন আইন ২০০৪ এর তপশীলভুক্ত ১৯৪৭ সালের দুর্নীতি প্রতিরোধ আইনের ৫(২) ধারাসহ দন্ড বিধি আইনের ৪০৯ ধারায় আদালতে মামলা করেছেন লক্ষী দাশ।
