২৫ জুন ২০১৯, ১০ আষাঢ় ১৪২৬, সোমবার

ট্রেনের টিকিট কিনতে এসে লাইন ধরে ঘুম!

প্রকাশিতঃ বুধবার, মে ২২, ২০১৯, ৯:১৭ অপরাহ্ণ


সুমন চৌধুরী: বুধবার ভোররাত ৪টা। চট্টগ্রাম রেলস্টেশনে কাউন্টারের সামনে তখন থেকেই অনেক মানুষকে ‘জায়গা দখল’ করে রাখতে দেখা গেছে; লাইনে দাঁড়ানোর পরিবর্তে তারা লাইন ধরে শুয়ে ঘুমিয়ে পড়েন।

এমন অনেকেরই দেখা মিললো, যারা বুধবার সকাল ৯টা থেকে বিক্রি শুরু হওয়া টিকিটের জন্য আসেন মঙ্গলবার সন্ধ্যার পরই, যদি টিকিট মিলে সে আশায়।

খবরের কাগজ বিছিয়ে লাইন ধরে শুয়ে ছিলেন অপেক্ষমাণ টিকেটপ্রত্যাশীরা। জুতো-স্যান্ডেলকে খবরের কাগজে পেঁচিয়ে ‘বালিশ’ বানিয়ে মাথায় দেন। এত কষ্টের কারণ একটাই, ঈদের আগাম টিকিট চাই তাদের।

সকাল সাড়ে ৮টার দিকে রেলস্টেশনের নিরাপত্তা কর্মীরা হুইসেল বাজিয়ে বেশ কয়েকজনকে ঘুম থেকে তোলেন।

নির্ধারিত সময় সকাল ৯টা থেকে ৩১ মে বিভিন্ন রুটের ট্রেনের আগাম টিকিট বিক্রি শুরু হয়।

হালিশহর খেকে টিকিট কিনতে আসা আনসার কর্মকর্তা মো. আমিন মিয়া একুশে পত্রিকাকে বলেন, ময়মনসিংহগামী বিজয় এক্সপ্রেসের টিকিটের জন্য ভোররাত থেকে স্টেশনের লাইনে আছি। আগেভাগে এসে এত কষ্ট করার কারণ রেলের টিকিট পেলে স্বস্তিতে বাড়ি ফিরতে পারবো।

ট্রেনের টিকিট পাওয়ার পর বাংলাদেশ বিজ্ঞান ও শিল্প গবেষণা পরিষদে (বিসিএসআইআর) কর্মরত আসমা আক্তার একুশে পত্রিকাকে বলেন, ‘ট্রেনের টিকিট সংগ্রহের জন্য অক্সিজেন এলাকা থেকে স্টেশনে এসেছি গতকাল মঙ্গলবার রাত আটটায়। ১৩ ঘন্টা পর বুধবার সকাল ৯টার দিকে টিকিট পেয়েছি। দীর্ঘ সময় লাইনে দাঁড়াতে হয়েছে। তারপরও টিকেট পাওয়ার পর আর কোনো কষ্ট নেই। খুব ভালো লাগছে।’

সকালে চট্টগ্রাম রেলওয়ে স্টেশন ঘুরে সাংবাদিকদের ব্রিফিং করেন রেলওয়ে পূর্বাঞ্চলের মহাব্যবস্থাপক সৈয়দ ফারুক আহমেদ।

তিনি বলেন, এবার ভিআইপি টিকিট সংরক্ষণ করা হচ্ছে না। ৫০ শতাংশ টিকিট অ্যাপসে দেয়া হয়েছে। বাকি টিকিট কাউন্টারে। সবমিলিয়ে ১২ হাজার টিকিট দেওয়া হবে।

অনাকাঙ্ক্ষিত ঘটনা এড়াতে র‌্যাবের পাশাপাশি অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন করা হয়েছে চট্টগ্রাম রেলস্টেশনে।

একুশে/এসসি